বিনোদন ডেস্ক: ভারতের ৭২তম জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার ঘোষণা করেছে দেশটির তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়। ভ্যারাইটির প্রতিবেদন থেকে জানা যায় শনিবার (১৮ জুলাই) নয়াদিল্লির ন্যাশনাল মিডিয়া সেন্টারে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে বিজয়ীদের নাম ঘোষণা করা হয়। বিজয়ীদের বেছে নেয়া হয়েছে ২০২৪ সালের ১ জানুয়ারি থেকে ৩১ ডিসেম্বরের মধ্যে ভারতের কেন্দ্রীয় চলচ্চিত্র প্রত্যয়ন বোর্ড (সিবিএফসি) থেকে ছাড়পত্র পাওয়া সিনেমাগুলো মধ্য থেকেই।
এবারের আসরে সবচেয়ে বড় সম্মান সেরা পূর্ণদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্র বিভাগে পুরস্কার জিতেছে ‘আর্টিকেল ৩৭০’। রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে নির্মিত এই সিনেমায় অভিনয়ের জন্য ইয়ামি গৌতম জিতেছেন সেরা অভিনেত্রীর পুরস্কার। আদিত্য সুহাস জাম্ভালে পরিচালিত সিনেমাটি প্রযোজনা করেছে জিও স্টুডিওস ও বি৬২ স্টুডিওস।
এবারের সেরা অভিনেতা বিভাগে যৌথভাবে পুরস্কার পেয়েছেন মাম্মুটি এবং কার্তিক আরিয়ান। মালয়ালম চলচ্চিত্র ‘ব্রহ্মযুগম’-এ অভিনয়ের জন্য সম্মানিত হয়েছেন মাম্মুটি, আর হিন্দি চলচ্চিত্র ‘চান্দু চ্যাম্পিয়ন’-এর জন্য পুরস্কার জিতেছেন কার্তিক আরিয়ান।
সেরা পরিচালক হয়েছেন তামিল চলচ্চিত্র ‘অমরান’-এর পরিচালক রাজকুমার পেরিয়াসামি। অন্যদিকে ‘স্বাতন্ত্র্য বীর সাভারকর’ চলচ্চিত্রের জন্য রণদীপ হুদা পেয়েছেন সেরা নবাগত পরিচালক-এর পুরস্কার।
সেরা পার্শ্ব অভিনেত্রী বিভাগে যৌথভাবে পুরস্কার জিতেছেন তামিল চলচ্চিত্র ‘মহারাজা’-এর সাচানা নামিদাস এবং কন্নড় চলচ্চিত্র ‘মিথ্যা’-এর রূপশ্রী ভারকাডি। আর হিন্দি চলচ্চিত্র ‘ভক্ষক’-এ অভিনয়ের জন্য সঞ্জয় মিশ্র হয়েছেন সেরা পার্শ্ব অভিনেতা।
বিনোদনধর্মী জনপ্রিয় চলচ্চিত্র হিসেবে পুরস্কার জিতেছে তেলুগু ব্লকবাস্টার ‘কল্কি ২৮৯৮ এডি’। জাতীয়, সামাজিক ও পরিবেশগত মূল্যবোধ তুলে ধরার জন্য ‘ক্যাপ্টেন মিলার’ পেয়েছে বিশেষ স্বীকৃতি। শিশুতোষ চলচ্চিত্র বিভাগে সেরা হয়েছে ‘৩৫ – চিন্না কথা কাডু’।
প্রযুক্তিগত বিভাগেও ছিল একাধিক চমক। ‘ব্রহ্মযুগম’-এর জন্য শেহনাদ জলাল পেয়েছেন সেরা চিত্রগ্রহণ পুরস্কার। ‘অমরান’-এর জন্য আর. কালাইভান্নান হয়েছেন সেরা সম্পাদক।
চিত্রনাট্য বিভাগে তিনজনকে সম্মানিত করা হয়েছে। ‘পুষ্পা: দ্য রুল পার্ট ২’-এর জন্য বান্দরেড্ডি সুকুমার পেয়েছেন সেরা মৌলিক চিত্রনাট্য, ‘স্বর্গান্ধর্ব সুধীর ফাডকে’-এর জন্য যোগেশ দেশপান্ডে পেয়েছেন সেরা অভিযোজিত চিত্রনাট্য, আর ‘লাকি ভাস্কর’-এর সংলাপের জন্য পুরস্কার জিতেছেন ভেঙ্কি আটলুরি।
সংগীত বিভাগে ‘আর্টিকেল ৩৭০’-এর গানের জন্য শাশ্বত সচদেব এবং ‘অমরান’-এর আবহসংগীতের জন্য জি. ভি. প্রকাশ কুমার সম্মানিত হয়েছেন। ‘ময়দান’-এর জন্য মনোজ মুনতাশির পেয়েছেন সেরা গীতিকার পুরস্কার।
আঞ্চলিক ভাষার সেরা চলচ্চিত্র হিসেবে পুরস্কার পেয়েছে অসমিয়ার ‘জুইফুল’, বাংলার ‘চলচ্চিত্র এখন’, গুজরাটির ‘মারণ’, হিন্দির ‘শ্রীকান্ত’, কন্নড়ের ‘মিথ্যা’, কোকণির ‘মোগ আসুম’, মালয়ালমের ‘ফেমিনিচি ফাতিমা’, মণিপুরির ‘সুনীতা’, মারাঠির ‘মুক্কাম পোস্ট বোম্বিলওয়াড়ি’, ওড়িয়ার ‘লাহারি’, তামিলের ‘রায়ান’ এবং তেলুগুর ‘কমিটি কুর্রোল্লু’। এ ছাড়া বিশেষ সম্মাননা পেয়েছেন ‘ক্যাপ্টেন মিলার’-এ অভিনয়ের জন্য ধানুশ এবং ‘মেইয়াঝাগান’ চলচ্চিত্রের সাউন্ড মিক্সিংয়ের জন্য সুরেন জি.।
















