সারওয়ার আলম মুকুল, কাউনিয়া (রংপুর) প্রতিনিধি ঃ তিস্তা নদীর ভয়াবহ ভাঙন ও চলমান বন্যায় রংপুরের কাউনিয়া উপজেলার হাজারো মানুষ চরম দুর্ভোগে দিন কাটাচ্ছেন। নদীভাঙনে একদিকে যেমন বসতভিটা হারিয়ে নিঃস্ব হচ্ছে পরিবারগুলো, অন্যদিকে বন্যার পানিতে তলিয়ে ও নদীগর্ভে বিলীন হয়ে যাচ্ছে শত শত হেক্টর আবাদি জমি। বছরের একমাত্র ফসল হারিয়ে দিশেহারা কৃষকদের অভিযোগ, ঘরবাড়ি ভাঙলে কখনো-সখনো কিছু ত্রাণ মিললেও কৃষিজমি হারানোর ক্ষতিপূরণ কিংবা পুনর্বাসনে সরকারি বা বেসরকারি কোনো কার্যকর সহায়তা তারা পান না।
উপজেলার তিস্তা তীরবর্তী চরঢুসমরা, গনাই, বিশ্বনাথসহ নিম্নাঞ্চলের বিভিন্ন এলাকায় নদীর পানি বৃদ্ধি পেয়ে বিস্তীর্ণ এলাকা প্লাবিত হয়েছে। পানিতে তলিয়ে গেছে অসংখ্য বাড়িঘর, গ্রামীণ সড়ক ও ফসলি জমি। একই সঙ্গে তিস্তার অব্যাহত ভাঙনে প্রতিদিনই নদীগর্ভে বিলীন হচ্ছে কৃষকদের আবাদি জমি। এতে অনেক কৃষক তাদের শেষ সম্বলও হারিয়ে মানবেতর জীবনযাপন করছেন।
চরঢুসমরা গ্রামের ভুক্তভোগীরা জানান, বসতবাড়ি নদীগর্ভে বিলীন হলে কোনো কোনো সময় সামান্য শুকনো খাবার পেলেও অধিকাংশ পরিবার তাও পায় না। আর শত শত হেক্টর ফসলি জমি নদীগর্ভে চলে গেলেও ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের জন্য কোনো ক্ষতিপূরণ বা পুনর্বাসনের ব্যবস্থা নেই। ফলে পরিবার-পরিজন নিয়ে চরম অনিশ্চয়তার মধ্যে দিন কাটছে তাদের।
স্থানীয় সচেতন নাগরিক নুর আমিন বলেন, “প্রতিবছর নদীভাঙনে মানুষ ঘরবাড়ি ও ফসলি জমি হারিয়ে নিঃস্ব হচ্ছে। ক্ষতিগ্রস্তদের জন্য দীর্ঘমেয়াদি পুনর্বাসন ও আর্থিক সহায়তার ব্যবস্থা করা প্রয়োজন, যাতে তারা আবার ঘুরে দাঁড়াতে পারেন।”
ইউপি সদস্য শাহ আলম মিয়া বলেন, প্রতিবছর বন্যা ও নদীভাঙনে কৃষকদের ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হলেও সেই তুলনায় তারা কোনো সহায়তা পান না। এতে কৃষকরা ক্রমেই অসহায় হয়ে পড়ছেন।
উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা তানিয়া আক্তার জানান, বন্যায় ফসলের ক্ষয়ক্ষতির তথ্য সংগ্রহ করে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে পাঠানো হয়। কৃষি বিভাগের সরাসরি সহায়তা দেওয়ার সুযোগ না থাকলেও সরকারি প্রণোদনা এলে ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের অগ্রাধিকার দেওয়ার চেষ্টা করা হয়।
উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা মেজবাহুর রহমান বলেন, বন্যায় ক্ষতিগ্রস্তদের তালিকা প্রস্তুত করে সরকারের বরাদ্দ অনুযায়ী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার মাধ্যমে সহায়তা বিতরণ করা হয়েছে।
তবে স্থানীয়দের দাবি, শুধু ত্রাণ বিতরণে সমস্যার সমাধান হবে না। তিস্তার ভয়াবহ ভাঙন রোধে স্থায়ী ও টেকসই বাঁধ নির্মাণ, নদীভাঙনে ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের জন্য বিশেষ ক্ষতিপূরণ, সহজ শর্তে কৃষিঋণ, পুনর্বাসন এবং কৃষি পুনরুদ্ধার কর্মসূচি বাস্তবায়ন না হলে প্রতি বছরই তিস্তার তাÐবে নিঃস্ব মানুষের সংখ্যা বাড়তেই থাকবে।













