অস্ট্রেলিয়া অলআউট ১৯৮ রানে, দিন শেষে বাংলাদেশের সংগ্রহ ১ উইকেটে ৯৬ রান। কিছু দিন আগে যদি বলা হতো, প্রথম দিন শেষে স্কোরকার্ডের অবস্থা থাকবে এমন- নিশ্চিতভাবেই অলীক কল্পনা বলে উড়িয়ে দিতেন অনেকে।
তবে অলীক কল্পনা বা অসম্ভব নয়, সত্যিই স্বপ্নের মতো এমন দিন কাটাল বাংলাদেশ। স্বাগতিকদের মাত্র ১৯৮ রানে গুঁড়িয়ে দিয়ে নিজেদের শুরুটাও বেশ ভালো করল নাজমুল হোসেন শান্তর দল। ১০২ রানে পিছিয়ে থেকে দ্বিতীয় দিনের খেলা শুরু করবে তারা।
ডারউইনের মারারা স্টেডিয়ামে বাংলাদেশের দাপুটে দিনের কারিগর হাসান মাহমুদ। ক্যারিয়ার সেরা বোলিং করে ৫৫ রানে ৬ উইকেট নিয়েছেন ২৬ বছর বয়সী পেসার। অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে এটিই বাংলাদেশের কোনো বোলারের সেরা বোলিং।
হাসানের ৬ উইকেটের পাশাপাশি সমান ২টি করে উইকেট নেন তাসকিন আহমেদ ও ইবাদত হোসেন চৌধুরি। টেস্টে এ নিয়ে স্রেফ দ্বিতীয়বার প্রতিপক্ষের সবকটি উইকেট নিলেন বাংলাদেশের পেসাররা। এর আগে ২০২৪ সালে পাকিস্তানের বিপক্ষে এই কৃতিত্ব দেখান হাসান, নাহিদ রানারা।
পেসারদের তোপে বাংলাদেশের বিপক্ষে নিজেদের সর্বনিম্ন রানে অলআউট হয়েছে অস্ট্রেলিয়া। ২০১৭ সালের মিরপুর টেস্টে তারা গুটিয়ে গিয়েছিল ২১৭ রানে। এবার মাত্র ৫৩ ওভারেই সবকটি উইকেট হারিয়ে ১৯৮ রানে থেমেছে তাদের ইনিংস।
অথচ দিনের শুরুতে টস জেতেন প্যাট কামিন্স। উইকেটে আর্দ্রতা থাকলেও আগে ব্যাট করার সিদ্ধান্ত নেন অস্ট্রেলিয়ান অধিনায়ক। উইকেটের সুবিধা কাজে লাগানোর আশায় টস হারলেও খুব একটা হতাশ হননি বাংলাদেশ অধিনায়ক শান্ত।
পরে বল হাতে নিয়ে অধিনায়কের কথার প্রমাণ দেন বাংলাদেশের পেসাররা। প্রথম ঘণ্টার একদম শেষ দিকে গিয়ে জ্যাক ওয়েদারাল্ডকে (২৩) ফিরিয়ে ৪৫ রানের উদ্বোধনী জুটি ভাঙেন হাসান। পরের ওভারে ট্রাভিস হেডকে (২২) বোল্ড করেন তিনি।
মধ্যাহ্ন বিরতিতে যাওয়ার আগে উইকেট শিকারের উৎসবে যোগ দেন ইবাদত ও তাসকিন। ইবাদতের চমৎকার ডেলিভারিতে স্লিপে ক্যাচ দেন মার্নাস লাবুশেন। আর লাঞ্চের ঠিক আগের বলে বাউন্ডারি মারতে গিয়ে শর্ট মিড উইকেটে ধরা পড়েন ক্যামেরন গ্রিন।
৭৪ রানে ৪ উইকেট নিয়ে লাঞ্চ বিরতিতে যায় অস্ট্রেলিয়া। তবে এটি হতে পারত ৭৪ রানে ৫ উইকেট। কারণ ব্যক্তিগত ২ রানের মাথায় ইবাদতের বলে তৃতীয় স্লিপে ক্যাচ দেন স্টিভেন স্মিথ। কিন্তু সেটি হাতে রাখতে পারেননি তানজিদ হাসান তামিম।
দ্বিতীয় সেশনের শুরুতে পাল্টা আক্রমণের পথ ধরেন স্মিথ ও অ্যালেক্স কেয়ারি। দুজন মিলে গড়েন এই ইনিংসের সর্বোচ্চ ৫৫ রানের জুটি। দ্বিতীয় সেশনের পানি বিরতির পর প্রথম বলেই কেয়ারিকে (১৯) বোল্ড করে এই জুটি ভাঙেন ইবাদত।
এরপর বাউ ওয়েবস্টার ইতিবাচক শুরু করলেও তাকে বেশিক্ষণ টিকতে দেননি তাসকিন। অফ স্টাম্পের বাইরে চমৎকার ডেলিভারিতে বোল্ড হয়ে যান স্বাগতিক অলরাউন্ডার। একের পর এক ব্যাটারদের আসা-যাওয়ার মিছিলের মাঝে একার লড়াইয়ে দারুণ ফিফটি করেন ২ রানে বেঁচে যাওয়া স্মিথ।
পরে নতুন স্পেলে ফিরে পরপর দুই ওভারে প্যাট কামিন্স ও মিচেল স্টার্ককে ফিরিয়ে অস্ট্রেলিয়ার বিপদ আরও বাড়িয়ে দেন হাসান। ৮ উইকেটে ১৮২ রান নিয়ে চা বিরতিতে চায় অস্ট্রেলিয়া।
সেখান থেকে শেষ সেশনে ৫ ওভারের বেশি খেলতে পারেনি স্বাগতিকরা। হাসানের শর্ট বলে বড় শট খেলতে গিয়ে হাওয়ায় ভাসিয়ে ক্যাচ আউট হন ৭১ রান করা স্মিথ। এরপর লায়নকে ফিরিয়ে দুইশর আগেই অস্ট্রেলিয়াকে থামিয়ে দেন হাসান।
সব মিলিয়ে টেস্ট ক্যারিয়ারে তৃতীয়বার ৫ উইকেটের স্বাদ পান হাসান। এর আগে পাকিস্তানের বিপক্ষে পাকিস্তানে ও ভারতের বিপক্ষে ভারতের মাঠে ৫ উইকেট পেয়েছিলেন ২৬ বছর বয়সী পেসার।
ব্যাটিংয়ে নামার পর দ্বিতীয় ওভারেই বেঁচে যান তানজিদ হাসান তামিম। স্টার্কের বলে লিডিং এজ হয়ে কাভার অঞ্চলে ক্যাচ তুলে দেন বাঁহাতি ওপেনার। লম্বা সময় বলের নিচে থাকলে হাতে নিতে পারেননি লায়ন। রানের খাতা খোলার আগে বেঁচে যান তামিম।
তামিম জীবন পেয়ে যাওয়ার ইতিবাচক ব্যাটিং করতে থাকেন দুই ওপেনার। আলগা ডেলিভারিতে রানের সুযোগ হাতছাড়া করেননি সাদমান ইসলাম। তবে এই জুটি বেশি বড় হতে দেননি স্টার্ক।নবম ওভারে স্টার্কে লেগ স্টাম্পের ডেলিভারিতে আগেই ব্যাটের ফেজ ক্লোজ করে ফেলায় লিডিং এজ হয়ে কাভার-পয়েন্টে ধরা পড়েন ২০ রান করা সাদমান।
এরপর আর উইকেট পড়তে দেননি তামিম ও মুমিনুল হক। নিজের স্বভাবসুলভ ইতিবাচক ব্যাটিংয়েই দলের রান বাড়াতে থাকেন মুমিনুল। অন্য প্রান্তে তামিমও সুযোগ পেলে রানের খাতা বাড়িয়ে নিতে ভুল করেননি।শেষ পর্যন্ত প্রথম দিনের খেলা শেষে ৪৯ বলে ৩৫ রানে অপরাজিত মুমিনুল। আর ৬৭ বলে তামিমের সংগ্রহ ৩২ রান। অবিচ্ছিন্ন এই জুটির সংগ্রহ ৬০ রান।


















