দ্রুত ধান কাটার পরামর্শ কৃষি বিভাগের
কাউনিয়া (রংপুর) প্রতিনিধি ঃ তিস্তা নদীর পানি কখনো বাড়ছে, আবার কখনো কমছে। নদীর পানির এমন ওঠানামায় রংপুরের কাউনিয়া উপজেলার চরাঞ্চলে পাকা ধান নিয়ে দুশ্চিন্তায় পড়েছেন কৃষকরা। ফসল ঘরে তোলার ঠিক আগ মুহুর্তে পানি বেড়ে গেলে নিচু জমির পাকা ধান তলিয়ে যাওয়ার আশঙ্কা করছেন তারা।
চরাঞ্চলের বিভিন্ন জমিতে এরই মধ্যে ধান পাকতে শুরু করেছে। আর কয়েক দিনের মধ্যেই এসব ধান কাটার কথা রয়েছে। এর মধ্যে তিস্তার পানির উচ্চতা ওঠানামা করায় কৃষকদের মধ্যে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। কৃষকরা জানান, নদীর কাছাকাছি ও নিচু হওয়ায় চরাঞ্চলের অনেক জমি হঠাৎ পানি বৃদ্ধিতে দ্রæত প্লাবিত হওয়ার ঝুঁকিতে থাকে। পাকা ধান পানিতে ডুবে গেলে বছরের কষ্টের ফসল ঘরে তোলার আগেই নষ্ট হয়ে যেতে পারে।
কৃষক মমিনুল বলেন, “যখন পানির দরকার হয়, তখন পানি পাওয়া যায় না। আবার ফসল ঘরে তোলার সময় পানি বাড়লে দুশ্চিন্তার শেষ থাকে না। কয়েক দিন পর ধান কাটার কথা। তার আগ পর্যন্ত আতঙ্কেই থাকতে হচ্ছে।”
আরেক কৃষক আলআমিন বলেন, “সারা বছর পরিশ্রম করে ধান ফলিয়েছি। এখন শুধু ঘরে তোলার অপেক্ষা। এই সময়ে নদীর পানি বেড়ে গেলে আমাদের বড় ধরনের ক্ষতি হয়ে যাবে।” কৃষকদের দাবি, ধান ঘরে তোলা পর্যন্ত তিস্তার পানির পরিস্থিতি নিয়মিত পর্যবেক্ষণে রাখতে হবে। পানি বৃদ্ধির আশঙ্কা দেখা দিলে চরাঞ্চলের কৃষকদের দ্রæত সতর্ক করার ব্যবস্থাও চান তারা।
উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা সালাহউদ্দিন আহমেদ বলেন, “তিস্তার চরাঞ্চলের পাকা ধান দ্রæত কাটার জন্য কৃষকদের পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে। নদীর পানি বৃদ্ধি বা বন্যার আশঙ্কা থাকলে কৃষকদের আগাম সতর্ক করা হবে। কৃষকরা যাতে দ্রæত পাকা ধান ঘরে তুলতে পারেন, সে বিষয়ে মাঠপর্যায়ে প্রয়োজনীয় পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে।”
এদিকে তিস্তার পানির ওঠানামার পাশাপাশি ভাঙন ও জলাবদ্ধতার কারণে দীর্ঘদিন ধরেই চরাঞ্চলের মানুষের জীবন-জীবিকা ঝুঁকির মধ্যে রয়েছে। এসব সমস্যা থেকে স্থায়ীভাবে রক্ষা পেতে দ্রæত তিস্তা মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়নের দাবি জানিয়েছেন স্থানীয় কৃষকরা।
















