• Home
  • খেলা
  • ‘কিংবদন্তি শান্তিতে ঘুমোন’, সোবার্সের প্রয়াণে শোকবার্তা সৌরভ-লারাদের
Image

‘কিংবদন্তি শান্তিতে ঘুমোন’, সোবার্সের প্রয়াণে শোকবার্তা সৌরভ-লারাদের

ক্রিকেট ইতিহাসের সর্বকালের সেরা অলরাউন্ডার এবং ওয়েস্ট ইন্ডিজের কিংবদন্তি ক্রিকেটার স্যার গারফিল্ড (গ্যারি) সোবার্স আর নেই। বার্বাডোসে নিজের বাসভবনে ৮৯ বছর বয়সে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেছেন তিনি। তার প্রয়াণে বিশ্ব ক্রিকেটে একটি সোনালী অধ্যায়ের অবসান ঘটল। ক্রিকেট ওয়েস্ট ইন্ডিজ সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম এক্স-এ (সাবেক টুইটার) শ্রদ্ধা জানিয়ে লিখেছে, ‘একটি মহাকাব্যিক ইনিংসের সমাপ্তি ঘটল। আমাদের হৃদয়ে স্যার গারফিল্ড সোবার্স থাকবেন আজ এবং চিরকাল।’

প্রাক্তন ক্যারিবিয়ান ক্রিকেটারের প্রয়াণে শোকবার্তা জানিয়েছেন সৌরভ গঙ্গোপাধ্যায়, ব্রায়ান লারা, জয় শাহ থেকে বিসিসিআই, আইসিসি।

সোবার্স আসলে এমন এক ক্রিকেটার, যিনি কেবল ক্যারিবিয়ান দ্বীপপুঞ্জেই নয়, গোটা বিশ্বের ক্রিকেট তথা ক্রীড়াজগতের চিরবিস্ময়। তাঁর মৃত্যু হলেও থেকে গেল সেই বিস্ময়। যতদিন ক্রিকেট থাকবে ততদিন উচ্চারিত হবে সোবার্সের নাম। সোশাল মিডিয়ায় সৌরভ লিখেছেন, ‘ক্রিকেট বিশ্বের জন্য অপূরণীয় ক্ষতি… তিনি ছিলেন একটা প্রজন্মের কাছে প্রতিভা বিচারের মাপকাঠি। তাঁর আত্মার শান্তি কামনা করি।’ আরেক ক্যারিবিয়ান তারকা ব্রায়ান লারা লিখেছেন, ‘আমাদের শ্রেষ্ঠ প্লেয়ার আমাদের ছেড়ে গেলেন। তাঁর পরিবারের সবার জন্য আমার সমবেদনা রইল। প্রিয় কিংবদন্তি, শান্তিতে ঘুমোন। আমার ঐতিহ্য কখনও ভোলা যাবে না।’

ক্রিকেট ইতিহাসের সবচেয়ে প্রতিভাবান ও বহুমুখী ক্রিকেটার হিসেবে বিবেচনা করা হতো সোবার্সকে। ব্যাটিং, পেস বোলিং, অর্থোডক্স স্পিন, রিস্ট-স্পিন এবং অসাধারণ ফিল্ডিং—সব বিভাগেই তিনি ছিলেন অনন্য। তার এই অবিশ্বাস্য বহুমুখী প্রতিভার কারণে ক্রিকেট ইতিহাসের আরেক মহানায়ক স্যার ডন ব্র্যাডম্যান তাকে ‘ফাইভ-ইন-ওয়ান ক্রিকেটার’ (একই অঙ্গে পাঁচ রূপ) হিসেবে আখ্যায়িত করেছিলেন।

১৯৫৪ থেকে ১৯৭৪ সালের দীর্ঘ আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ারে সোবার্স ওয়েস্ট ইন্ডিজের হয়ে ৯৩টি টেস্ট ম্যাচ খেলেন। এছাড়া প্রথম-শ্রেণির ক্রিকেটে তার দাপট ছিল চোখ ধাঁধানো। ১৯৫৪ থেকে ১৯৭৪ সালের মধ্যে ওয়েস্ট ইন্ডিজের হয়ে ৯৩টি টেস্ট ম্যাচ খেলেন স্যার গ্যারি সোবার্স। যেখানে তিনি ৫৭.৭৮ গড়ে ৮,০৩২ রান করার পাশাপাশি ৩৪.০৩ গড়ে ২৩৫টি উইকেট শিকার করেন।নো।

১৯৫৮ সালে পাকিস্তানের বিপক্ষে সাবিনা পার্কে মাত্র ২৩ বছর বয়সে নিজের প্রথম টেস্ট সেঞ্চুরিকেই ৩৬৫ রানের মহাকাব্যিক ইনিংসে রূপ দেন সোবার্স, যা ভেঙেছিল লেন হাটনের সর্বোচ্চ ব্যক্তিগত রানের বিশ্বরেকর্ড। দীর্ঘ ৩৬ বছর অক্ষুণ্ণ থাকার পর ১৯৯৪ সালে ব্রায়ান লারা এই রেকর্ডটি ভাঙেন, যা সোবার্স নিজে মাঠে উপস্থিত থেকে উদযাপন করেছিলেন।

১৯৬৮ সালে নটিংহ্যামশায়ারের হয়ে খেলার সময় গ্ল্যামারগনের ম্যালকম ন্যাশের এক ওভারে ৬টি ছক্কা মেরে প্রথম-শ্রেণির ক্রিকেটের ইতিহাসে প্রথম এই কীর্তি গড়েন তিনি।

ক্রিকেটে অসামান্য অবদানের জন্য ১৯৭৫ সালে তাকে নাইটহুড (স্যার) উপাধিতে ভূষিত করা হয়। ২০০০ সালে উইজডেন ক্রিকেটার্স অ্যালমেনাক তাকে শতাব্দীর সেরা পাঁচ ক্রিকেটারের একজন হিসেবে নির্বাচিত করে। অন্য চারজন হলেন ব্র্যাডম্যান, স্যার জ্যাক হবস, স্যার ভিভ রিচার্ডস এবং শেন ওয়ার্ন। আন্তর্জাতিক ক্রিকেট কাউন্সিল (আইসিসি) প্রতি বছর পুরুষ ক্রিকেটের বর্ষসেরা ক্রিকেটারকে সম্মান জানাতে তার নামেই প্রদান করে ক্রিকেটের সর্বোচ্চ পুরস্কার—‘স্যার গারফিল্ড সোবার্স ট্রফি’।

ক্রিকেটের এই চিরসবুজ নক্ষত্রের প্রস্থান ক্রীড়াঙ্গনে এক অপূরণীয় শূন্যতার সৃষ্টি করল। তবে বাইশ গজে রেখে যাওয়া তার কীর্তি চিরকাল অনুপ্রেরণা জোগাবে অনাগত প্রজন্মের ক্রিকেটারদের।

Related Posts

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

ENGLISH »