আদমদীঘি (বগুড়া) প্রতিনিধি: শনিবার সকাল ১০ টায় বগুড়ার আদমদীঘি উপজেলার এক ইউনিয়নের সার অন্য ইউনিয়নে চোরাকারবারি করার ঘটনা ঘটেছে। ঘটনাটি ধামাচাপা দিতে মরিয়া হয়ে উঠেছে খোদ উপজেলা কৃষি অফিসার। সংশ্লিষ্ট ইউনিয়নের ডিলার তার সারগুলো অন্য ইউনিয়নের ব্যবসায়ীর নিকট বিক্রি করার কথা স্বীকার করেছে। কিন্তু উপজেলা কৃষি অফিসার রহস্যজনক কারণে সারগুলো অন্য উপজেলার বলে দাবী করে আটক ও আইনগত ব্যবস্থা গ্রহন করেনি।
জানা গেছে, শনিবার সকালে শতাধিক বস্তা রাসায়নিক সার বোঝাই করে দুই ভটভটি আদমদীঘির দিকে আসছে এমন সংবাদ পেলে ঘটনাস্থলে গিয়ে ভটভটি দুটি ভর্তি সার দেখে চোরাই হতে পারে এমন সন্দেহবশতঃ সারবাহী ওই দুই বাহনের চালকদের স্থানীয় জনতা ও গণমাধ্যমকর্মী জিজ্ঞাসা করে জানতে পারেন সারগুলো উপজেলার কুন্দুগ্রাম ইউনিয়নের কড়ই হাটের এসাইনকৃত বিএডিসি ডিলার মেসার্স কাসেম এন্টারপ্রাইজ নামক ডিলারের বিক্রয় কেন্দ্র থেকে নিয়ে আসছেন। সারগুলো উপজেলা সদরের সার ব্যবসায়ী মেসার্স খন্দকার ট্রেডার্স এর নিকট পৌঁছে দিবেন বলে জানিয়েছেন। গণমাধ্যমকর্মী ঘটনাটি তাৎক্ষণিক ভাবে উপজেলা কৃষি অফিসার কৃষিবীদ রবিউল ইসলামকে মোবাইল ফোনে অবহিত করেন। এসময় কৃষি অফিসার বিষয়টি যাচাই করে জানানোর কথা বলেন। পরে কৃষি অফিসার সারগুলো অন্য উপজেলার বলে দাবী করেন এবং এবিষয়ে কোন ব্যবস্থা গ্রহন করার সুযোগ নাই বলে জানান। পরে বিষয়টি জানার পর ডিলার আবুল কাসেম ও গণমাধ্যমকর্মীর সাথে মোবাইল ফোনে যোগাযোগ করে সারগুলো তার মালিকানাধীন বলে স্বীকার করেন এবং এবিষয়ে কোন সংবাদ প্রচার না জন্য অনুরোধ করেন। পক্ষান্তরে খোদ কৃষি অফিসার রহস্যজনক কারণে সরকারি বিষয়টি এড়িয়ে যাওয়ার মাধ্যমে সার চোরাকারবারির ঘটনা ধামাচাপা দেওয়ার অপচেষ্টা করে চলেছেন। এদিকে দীর্ঘ সময় অতিবাহিত হওয়ার ফলে সার গুলো উপজেলা সদরের শিয়ালসন মেসার্স খন্দকার ট্রেডার্সের গুদামে আনলোড করেছে বলে জানা গেছে।
এবিষয়ে উপজেলার নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক সার ডিলার শনিবারের ঘটনাটিকে পুরোপুরি চোরাকারবারি বলে দাবী করেছেন। তারা বলেন, বর্তমানে সারের তেমন চাহিদা নেই। চাহিদার সময় কোন ইউনিয়নে সংকট দেখা দিলে কৃষি অফিসারের লিখিত পত্রের মাধ্যমে অন্য ইউনিয়ন থেকে চাহিদা সম্পন্ন ইউনিয়নে সমন্বয় করার বিধান রয়েছে। একই ভাবে অন্য উপজেলার সার নিয়ে আসার জন্যও সেই উপজেলার কৃষি অফিসারের অনুমোদন থাকতে হবে এবং সেটা হতে হবে ডিলার টু ডিলার প্রথায়। একারণে সচেতন মহলের প্রশ্ন এঘটনায় কে সঠিক সার ডিলার না কৃষি অফিসার?
এ ঘটনায় মেসার্স কাশেম এন্টারপ্রাইজের স্বত্বাধিকারী এম. এ কাশেমের সাথে কথা হলে তিনি ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে বলেন, সার গুলো আমার আপনারা গণমাধ্যমকর্মী আপনাদের কি কিছুই করার নেই। আমার জন্য হলেও ওই সারের ভটভটি গুলো ছেড়ে দিন। আমি কিন্তু এমপি সাহেবের সাথে কথা বলেছি।
মেসার্স খন্দকার ট্রেডার্সের স্বত্বাধিকারী রওশন আলী খন্দকারের ছেলে সোহরাব হোসেন ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে গণমাধ্যমকর্মীদের বলে সার গুলো পার্শ্ববর্তী রাণীনগর উপজেলার আবাদপুকুর বাজার থেকে আমার দোকানে আসছে। পরে তার কাছে আরোও জানাতে চাইলে তিনি আবোল তাবোল কথা বলে এক পর্যায়ে গণমাধ্যম কর্মীদের ম্যানেজ করার চেষ্টা করে।
এবিষয় উপজেলা কৃষি অফিসার রবিউল ইসলাম বলেন, এগুলো সার বাহিরের, এখানে আমাদের করার কিছু নেই বলে ফোন কেটে দেন। এব্যাপারে উপজেলা নির্বাহী অফিসার মাসুমা বেগমের সাথে কথা হলে তিনি জানান, আমি কৃষি কর্মকর্তার নিকট থেকে যে টুকু জেনেছি, তাতে সার গুলো অন্য উপজেলা থেকে আমাদের উপজেলায় ঢুকছে এখানে আমাদের কোন পদক্ষেপ নেয়ার কিছু নেই।















