• Home
  • দেশ
  • আদমদীঘিতে মিলের বিষাক্ত পানিতে রক্তদহ বিলের সর্বনাশ
Image

আদমদীঘিতে মিলের বিষাক্ত পানিতে রক্তদহ বিলের সর্বনাশ

আদমদীঘি (বগুড়া) প্রতিনিধিঃ পশ্চিম বগুড়ার আদমদীঘি উপজেলার সান্তাহারে ১২ টা স্বয়ংক্রিয় চালকল মিলের বর্জ্য ও বিষাক্ত পানি ইরামতি ও ইন্দইল খাল হয়ে রক্তদহ বিলে যাওয়াতে দূষন হচ্ছে বিল ও খালের পানি। ফলে পরিবেশ দূষনের পাশাপাশি বিল, খাল ও শাখা খাল গুলোতে বিভিন্ন প্রজাতির মাছ শূন্য হয়ে পড়ছে। এছাড়াও শাপলা, পদ্ম, শালুক সহ নানা জলজ উদ্ভিদ প্রায় হারিয়ে যেতে বসেছে। চালকল মিলের বিষাক্ত বর্জ্য ও দূষিত পানির কারণে বিল ও খালের মাছের মৃত্যু ঘটছে, নষ্ট হচ্ছে প্রজনন ক্ষমতা। এছাড়াও বিল পারের কয়েক গ্রামের মাছ শিকার নির্ভরশীল প্রায় কয়েক শত জেলে পরিবার জীবিকা সংকটে পড়েছে।

জানা যায়, বর্ষা মৌসমে এক সময় বিল ও খালে প্রচুর পরিমান বিভিন্ন প্রজাতির মাছের রেনু পোনা দেখা গেলেও এখন আর তেমন একটা দেখা যায় না। এক সময় রক্তদহ বিলের মাছ দিয়ে এলাকার চাহিদা মিটিয়ে দেশের বিভিন্ন জেলায় রপ্তানী করা হতো। বর্তমানে সান্তাহার শহরের পাশ দিয়ে গড়ে উঠা ১২টি স্বয়ংক্রিয় চালকল মিলের বর্জ্র ও বিষাক্ত পানি বিল ও খালে নিস্কাশন হওয়াতে বিল-খালে মাছ মারা যাওয়া সহ বিল সংলগ্ন কৃষি জমির ফসলও হুমকির মুখে পড়েছে। বিল পাড়ের দমদমা, সান্দিড়া, প্রসাদখালী, ছাতনী, ঢেকড়া, বোদলা সহ আশপাশের গ্রামের কয়েক’শ পরিবারের ফসলের ক্ষতি হওয়ার পাশাপাশি মাছ শিকার করতে না পারায় জীবিকা নির্বাহ করতে কষ্ট হচ্ছে এসব মৎস্য শিকারীদের। বিল পাড়ের অনেক পরবিার বাধ্য হয়ে পেশা পরিবর্তন করতে শুরু করেছেন।

প্রসাদখালী গ্রামের জেলে গোবিন্দ হাওয়ালদার, কানু হাওয়ালদার, মদন হাওয়ালদার সহ বেশ কয়েকজন জেলেরা জানান, বাপ দাদার আমল থেকে তাদের পরিবার এই বিলে মাছ ধরে জীবিকা নির্বাহ করে আসছে। বর্তমানে এই বিলে চালকল মিলের বিষাক্ত পানি আসাতে বিলে মাছ না থাকায় অধিকাংশ জেলে পরিবার মানবেতর জীবন যাপন করছে। কয়েক দিন পূর্বে প্রবল বৃষ্টির কারণে বিলে পানি ভরে যাওয়াতে বিল ঘেষা ফসলি জমির ধান নষ্ট হবার কারণে স¤প্রতি স্থানীয় সংসদ সদস্য আব্দুল মহিত তালুকদার ও উপজেলা নির্বাহী অফিসার মাসুমা বেগম রক্তদহ বিলে ও খাল গুলোতে চালকলের বর্জ্র ও বিষাক্ত পানি ঢুকে বিলের ও খালের পানি দূষনের সত্যতা পান। এসময় সংসদ সদস্য ক্ষতিগ্রস্থদের সমস্যা সমাধানের বিষয়ে আশ্বাস দেন।

এব্যাপারে বগুড়া পরিবেশ অধিদপ্তরের সহকারি পরিচালক মাহাতির মোহাম্মদ বলেছেন, চালকল তৈরী করলে তাদেরকে নির্দিষ্ট স্থানে পুকুর খনন করে সেখানে মিলের বর্জ্র ও বিষাক্ত পানি সংরক্ষন করতে হবে। এবিষয়ে উচ্চ আদালতে শিল্পকারখানার বর্জ্র ব্যবস্থাপনা নির্দ্দেশ রয়েছে। তিনি আরো জানান, মিল মালিকরা তাদের মিলের বিষাক্ত পানি পুকুরে ঠান্ডা ও প্রক্রিয়াজাত হওয়ার পর জলাশয়ে ছাড়তে হবে। এত সব আইন আর নীতিমালা থাকলেও নেই কোন প্রয়োগ। চালকল মিলের বর্জ্র ও বিষাক্ত পানি বিল-খালে ছেড়ে দিলেও কেউ যেন দেখান নেই। তবে বিল পাড়ের জেলে স¤প্রদায় সহ এলাকার সচেতন মহলের দাবী ঐতিহ্যবাহী রক্তদহ বিল রক্ষার স্বার্থে অবিলম্বে বিলে চাল কলের বিষাক্ত পানি যাওয়া বন্ধ করতে হবে।

Related Posts

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

ENGLISH »