কাউনিয়ায় সংরক্ষণ সুবিধার অভাবে মৌসুমের শুরুতেই বিক্রি করতে বাধ্য
সারওয়ার আলম মুকুল, কাউনিয়া (রংপুর) প্রতিনিধি ঃ তিস্তার জেগে ওঠা চরে বাম্পার ফলন হলেও ন্যায্য মূল্য পাননি চাষিরা; সংরক্ষণ সুবিধার অভাবে মৌসুমের শুরুতেই বিক্রি করতে বাধ্য হয়েছেন অধিকাংশ কৃষক।
চলতি রবি মৌসুমে কাউনিয়া উপজেলার তিস্তা নদীর জেগে ওঠা বালুচরে পেঁয়াজের বাম্পার ফলন হয়েছে। অনুকূল আবহাওয়া ও রোগবালাই কম থাকায় চরাঞ্চলের কৃষকেরা ভালো ফলন পেলেও বাজারে ন্যায্য মূল্য না পাওয়ায় হতাশ হয়ে পড়েছেন। আরও দুঃখের বিষয় হলো, কৃষকদের গোলার পেঁয়াজ শেষ হওয়ার পর বাজারে পেঁয়াজের দাম বৃদ্ধি পেয়েছে। দাম বেশি পাওয়ার আশায় এ বছর অনেক কৃষক অন্যান্য ফসলের পরিবর্তে পেঁয়াজ চাষে ঝুঁকেছিলেন। কিন্তু সংরক্ষণের পর্যাপ্ত ব্যবস্থা না থাকায় পচনশীল এই কৃষিপণ্য মৌসুমের শুরুতেই কম দামে বিক্রি করতে বাধ্য হয়েছেন তারা। ফলে ভালো ফলন হলেও প্রত্যাশিত লাভ থেকে বঞ্চিত হয়েছেন চাষিরা।
রংপুর জেলা কৃষি স¤প্রসারণ অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে, জেলার তিস্তা-বেষ্টিত উপজেলা গুলোর প্রায় সাত হাজার হেক্টর অনাবাদি বালুচর কৃষকদের প্রচেষ্টায় সবুজে ভরে উঠে। কাউনিয়া উপজেলা কৃষি অফিস জানিয়েছে, চলতি মৌসুমে চরাঞ্চলের প্রায় ২০০ হেক্টর জমিতে পেঁয়াজের আবাদ হয়েছে এবং ফলনও হয়েছে সন্তোষজনক।
চরের কৃষক তাজুল ইসলাম বলেন, “গত কয়েক বছর পেঁয়াজের সংকট ও উচ্চমূল্যের কারণে আমরা পেঁয়াজ চাষে আগ্রহী হয়েছিলাম। কিন্তু আলুর মতো এবার পেঁয়াজেও লোকসান গুনতে হয়েছে। মৌসুমের শুরুতে বিক্রি হয়েছে ৪০০ ঠাকা মন এখন বিক্রি হচ্ছে ১৬০০ টাকা মন। কৃষকদের দুর্দশার কথা কেউ ভাবে না।”
আরাজি হরিশ্বর, শনশনাটারী, তালুক শাহাবাজ, ঢুসমরাচরসহ তিস্তার বিভিন্ন চর ঘুরে দেখা গেছে বিস্তীর্ণ এলাকায় পেঁয়াজের বাম্পার ফলন। এসব এলাকার কৃষকেরা পেঁয়াজ চাষে সফলতার স্বপ্ন দেখলেও বাজারে কাঙ্ক্ষিত মূল্য না পাওয়ায় সেই স্বপ্ন ¤øান হয়ে গেছে। স্থানীয় কৃষকদের দাবি, সহজ সেচব্যবস্থা, আধুনিক সংরক্ষণ সুবিধা এবং ন্যায্য মূল্যের নিশ্চয়তা পেলে চরাঞ্চলে পেঁয়াজ চাষ আরও স¤প্রসারিত হবে। এতে দেশের পেঁয়াজের ঘাটতি পূরণেও গুরুত্বপূর্ণ ভ‚মিকা রাখা সম্ভব হবে।
উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ তানিয়া আক্তার জানান, তিস্তা নদীর স্থায়ী ও অস্থায়ী চরগুলো এখন বিভিন্ন ফসল চাষের জন্য গুরুত্বপূর্ণ কৃষি অঞ্চলে পরিণত হয়েছে। পলিমাটি সমৃদ্ধ হওয়ায় এসব জমি পেঁয়াজ চাষের জন্য অত্যন্ত উপযোগী। কৃষি বিভাগ কৃষকদের উন্নত জাতের বীজ, সার ও প্রয়োজনীয় পরামর্শ প্রদান করছে। পেঁয়াজের পাশাপাশি চরাঞ্চলে মিষ্টি কুমড়া, আলু, ভুট্টা, রসুন, মরিচ ও চীনাবাদামেরও বাম্পার ফলন হচ্ছে। কৃষকদের আরও লাভবান করতে কৃষি বিভাগ সার্বক্ষণিক সহযোগিতা দিয়ে যাচ্ছে।












