• Home
  • দেশ
  • রংপুরের ‘মৎস্য ভান্ডার’ কাউনিয়ায় দেশি মাছের সংকট
Image

রংপুরের ‘মৎস্য ভান্ডার’ কাউনিয়ায় দেশি মাছের সংকট

দায়ী উদাসীনতা ও অবাধ নিধন

সারওয়ার আলম মুকুল, কাউনিয়া (রংপুর) প্রতিনিধি: রংপুরের ‘মৎস্য ভাÐার’ হিসেবে পরিচিত কাউনিয়া উপজেলায় দিন দিন কমে যাচ্ছে মিঠাপানির দেশি মাছের প্রাপ্যতা। ভরা বর্ষা মৌসুমেও নদী-নালা, খাল-বিল ও মুক্ত জলাশয়ে মিলছে না আগের মতো দেশি মাছ। স্থানীয়দের দাবি, মৎস্য বিভাগের পর্যাপ্ত নজরদারির অভাব, অবাধে মা মাছ ও পোনা নিধন এবং প্রাকৃতিক আবাসস্থল ধ্বংসের কারণে প্রায় ৪১ প্রজাতির দেশি মাছ বিলুপ্তির পথে।

সরেজমিনে উপজেলার বিভিন্ন এলাকা ঘুরে জানা গেছে, গত বছরের তুলনায় চলতি মৌসুমে প্রাকৃতিক উৎস থেকে মাছের উৎপাদন প্রায় অর্ধেকে নেমে এসেছে। ফলে বাজারে দেশি মাছের সরবরাহ কমে যাওয়ায় দামও বেড়েছে কয়েকগুণ। বর্ষার শুরুতে পর্যাপ্ত বৃষ্টিপাত হলেও প্রত্যাশিত পরিমাণ দেশি মাছ বাজারে আসছে না।
একসময় কাউনিয়ার নদী-নালা ও জলাশয়ে শিং, মাগুর, কই, টেংরা, শোল, বোয়াল, আইড়, বাইম, পুটি, খলিশা, চান্দা, চিংড়ি, কালবাউশ, সোনামুখীসহ নানা প্রজাতির দেশি মাছ পাওয়া যেত। বর্তমানে এসব মাছের অনেকগুলোই প্রায় চোখে পড়ে না বলে জানিয়েছেন স্থানীয়রা।

হরিশ^র গ্রামের বাসিন্দা সাবাব আলম সীন বলেন, “একসময় তিস্তা ও মানাস নদীতে প্রচুর দেশি মাছ পাওয়া যেত। এখন নদীর বিভিন্ন স্থানে রিং জাল, বাঁধা জাল, খেতা জাল ও কারেন্ট জালের মাধ্যমে নির্বিচারে মাছ শিকার করা হচ্ছে। এতে ডিম ছাড়ার আগেই মা মাছ ধরা পড়ছে, এমনকি ছোট মাছও রক্ষা পাচ্ছে না।”

নিজপাড়া গ্রামের নাছির উদ্দিন বলেন, “দশ বছর আগেও এই মৌসুমে গ্রামের মানুষ নদী ও জলাশয় থেকে পর্যাপ্ত ছোট মাছ সংগ্রহ করত। অতিরিক্ত মাছ শুকিয়ে সংরক্ষণ কিংবা সিদল তৈরি করা হতো। এখন সেই চিত্র আর দেখা যায় না। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের নজরদারির অভাবই এর অন্যতম কারণ।”

কাউনিয়ার মাছ ব্যবসায়ী ভোলরাম দাসের মতে, প্রাকৃতিক মাছের আবাসস্থল ধ্বংস, ছোট মাছ সংরক্ষণে কার্যকর উদ্যোগের অভাব এবং কৃষিজমিতে অতিরিক্ত রাসায়নিক সার ও কীটনাশক ব্যবহারের কারণে দেশি মাছের সংখ্যা দ্রæত কমে যাচ্ছে।

এ বিষয়ে কাউনিয়া উপজেলা সাবেক মৎস্য কর্মকর্তা ফরজানা আক্তার বলেন, “জমিতে অতিরিক্ত রাসায়নিক সার প্রয়োগ, ডিমওয়ালা মা মাছ নিধন, পর্যাপ্ত অভয়াশ্রমের অভাব এবং দেশি মাছ সংরক্ষণে বেসরকারি উদ্যোগ না থাকায় দেশি মাছের অস্তিত্ব হুমকির মুখে পড়েছে।”

সচেতন মহলের অভিমত, বর্ষা মৌসুমের শুরুতে নির্দিষ্ট সময়ের জন্য দেশি মাছ ধরা বন্ধ রাখা, অবৈধ জাল ব্যবহারে কঠোর নিয়ন্ত্রণ এবং প্রাকৃতিক জলাশয়ে অভয়াশ্রম গড়ে তুললে দেশি মাছের উৎপাদন বৃদ্ধি এবং বিলৃপ্তপ্রায় প্রজাতি সংরক্ষণ সম্ভব হবে।

Related Posts

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *