• Home
  • অর্থ-বাণিজ্য
  • হরমুজ প্রণালিতে অচলাবস্থা, গ্রীষ্মে জ্বালানি সংকটের আশঙ্কা- বিশ্বব্যাংক
Image

হরমুজ প্রণালিতে অচলাবস্থা, গ্রীষ্মে জ্বালানি সংকটের আশঙ্কা- বিশ্বব্যাংক

হরমুজ প্রণালী দিয়ে তেল পরিবহন স্বাভাবিক না হলে চলতি গ্রীষ্মেই বিশ্বজুড়ে জ্বালানি সংকট দেখা দিতে পারে বলে সতর্ক করেছে আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল (আইএমএফ), বিশ্বব্যাংক এবং আন্তর্জাতিক জ্বালানি সংস্থা (আইইএ)। সংস্থাগুলো বলছে, মধ্যপ্রাচ্যের চলমান সংঘাতের কারণে বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহে চাপ তৈরি হয়েছে, যা বিশ্ব অর্থনীতির জন্য বড় ঝুঁকি হয়ে উঠতে পারে।

শুক্রবার প্রকাশিত এক যৌথ বিবৃতিতে তিন সংস্থার প্রধানরা জানান, হরমুজ প্রণালী দিয়ে তেল পরিবহন উল্লেখযোগ্যভাবে কমে যাওয়ায় বিশ্বব্যাপী তেলের মজুদ দ্রুত হ্রাস পাচ্ছে। পরিস্থিতির উন্নতি না হলে উত্তর গোলার্ধে গ্রীষ্মকালীন চাহিদা বাড়ার আগেই মজুদ সংকট দেখা দিতে পারে।

বিবৃতিতে বলা হয়, তেল সরবরাহে বিঘ্ন অব্যাহত থাকলে জ্বালানি নিরাপত্তা, বাজার স্থিতিশীলতা এবং বৈশ্বিক অর্থনীতি বড় ধরনের চাপে পড়বে। একই সঙ্গে জ্বালানি ও সারের মূল্যবৃদ্ধি উন্নয়নশীল এবং নিম্ন আয়ের দেশগুলোর জন্য নতুন সংকট তৈরি করছে।

বিশ্লেষকদের মতে, যুক্তরাষ্ট্র, ইসরায়েল ও ইরানের মধ্যকার চলমান উত্তেজনা মধ্যপ্রাচ্যের জ্বালানি সরবরাহ ব্যবস্থাকে ঝুঁকির মধ্যে ফেলেছে। বিশ্বের মোট জ্বালানি পরিবহনের প্রায় ২০ শতাংশ হরমুজ প্রণালীর মাধ্যমে সম্পন্ন হওয়ায় এই রুটে যেকোনো বাধা আন্তর্জাতিক বাজারে সরাসরি প্রভাব ফেলছে।

এদিকে তিন সংস্থা জানিয়েছে, কৃষি উৎপাদনের জন্য প্রয়োজনীয় সারের দামও দ্রুত বাড়ছে। অনেক দেশে চাষাবাদের মৌসুম শুরু হওয়ায় খাদ্য উৎপাদন ও খাদ্য নিরাপত্তা নিয়ে নতুন উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।

আইএমএফ প্রধান ক্রিস্টালিনা জর্জিয়েভা এর আগে সতর্ক করেছিলেন, চলমান ভূরাজনৈতিক সংকটের কারণে বৈশ্বিক অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির পূর্বাভাস কমানো হয়েছে। একই সঙ্গে দুর্বল অর্থনীতির দেশগুলোকে সহায়তা দিতে কয়েক হাজার কোটি ডলারের অতিরিক্ত অর্থায়নের প্রয়োজন হতে পারে বলেও উল্লেখ করেন তিনি।

আইএমএফ সম্প্রতি জানিয়েছে, বাংলাদেশও একটি আর্থিক সহায়তা প্যাকেজের জন্য আলোচনা চালিয়ে যাচ্ছে। সংস্থাটি এ বিষয়ে সরকারের সঙ্গে কর্মসূচিভিত্তিক আলোচনায় রয়েছে।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, তেল ও গ্যাস আমদানিনির্ভর দক্ষিণ ও দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার দেশগুলো এই সংকটের সবচেয়ে বড় প্রভাবের মুখে পড়তে পারে। পাশাপাশি সার সরবরাহে বিঘ্ন এবং মূল্যবৃদ্ধির কারণে খাদ্য নিরাপত্তা পরিস্থিতিও আরও জটিল হয়ে উঠতে পারে।

Related Posts

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *