কাউনিয়া (রংপুর) প্রতিনিধি ঃ রংপুরের কাউনিয়া উপজেলা মডেল মসজিদ ও ইসলামিক সাংস্কৃতিক কেন্দ্রে জাকাতের অর্থ সংগ্রহ ও ব্যবস্থাপনায় অনিয়ম, আর্থিক অসঙ্গতি এবং অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় কাউনিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও ইসলামিক ফাউন্ডেশনের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের কাছে লিখিত অভিযোগ দেওয়া হয়েছে।
লিখিত অফিযোগে জানাগেছে ২০২৪-২০২৫ অর্থবছরে ইসলামিক ফাউন্ডেশনের অধীনে কাউনিয়া উপজেলা মডেল মসজিদে দায়িত্ব পালনকারী মাস্টার ট্রেইনার মোঃ শামীমুল ইসলাম ও কেয়ারটেকার মোঃ শহিদুল ইসলামসহ সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে জাকাতের অর্থ ব্যবস্থাপনায় অনিয়ম ও আর্থিক অসঙ্গতির অভিযোগ রয়েছে।
অভিযোগকারীর দাবি, শিক্ষক প্রতিনিধিদের মাধ্যমে জাকাতের নামে আনুমানিক প্রায় ৪ লাখ টাকা সংগ্রহ করা হয়। তবে সংগৃহীত অর্থের সম্পূর্ণ হিসাব সরকারি দপ্তরে জমা না দিয়ে মাত্র ৭৪ হাজার টাকা জমা দেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে। বাকি অর্থের বিষয়ে যথাযথ হিসাব না দেওয়ার অভিযোগও করা হয়েছে। অভিযোগপত্রে আরও বলা হয়, সংগৃহীত জাকাতের অর্থ যথাযথভাবে ব্যবস্থাপনা না করে ব্যক্তিগতভাবে ব্যবহারের অভিযোগ রয়েছে। এতে আর্থিক অনিয়মের পাশাপাশি ধর্মীয় ও নৈতিক মূল্যবোধের অবক্ষয়ের আশঙ্কা তৈরি হয়েছে বলেও অভিযোগকারী উল্লেখ করেছেন।
অভিযোগকারীর ভাষ্য, এ ধরনের কর্মকাণ্ডের কারণে প্রকৃত জাকাতপ্রাপ্য মানুষ তাদের ন্যায্য অধিকার থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন। একই সঙ্গে সাধারণ মানুষের মধ্যে ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান ও সংশ্লিষ্টদের প্রতি আস্থার সংকট তৈরি হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।এ ঘটনায় রংপুর বিভাগীয় ইসলামিক ফাউন্ডেশনের পরিচালক বরাবর ব্যবস্থা গ্রহণের আবেদন করা হলেও অভিযোগের বিষয়ে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি বলেও অভিযোগপত্রে উল্লেখ করা হয়েছে।
অভিযোগকারী বিষয়টি তদন্তের জন্য একটি নিরপেক্ষ তদন্ত কমিটি গঠন, অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে প্রশাসনিক ব্যবস্থা গ্রহণ, সংগৃহীত অর্থ উদ্ধারের পাশাপাশি অভিযোগ প্রমাণিত হলে প্রচলিত আইনে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন।অভিযোগের সঙ্গে শিক্ষক প্রতিনিধিদের কাছ থেকে অর্থ সংগ্রহের তালিকা, পূর্বে বিভাগীয় পরিচালকের কাছে দেওয়া অভিযোগের অনুলিপি এবং বিভিন্ন কাগজপত্র সংযুক্ত করা হয়েছে।
স্থানীয়দেও অভিযোগ, প্রতিবছর কাউনিয়া উপজেলা রংপুর জেলার মধ্যে জাকাত আদায়ে শ্রেষ্ঠ স্থান দখল কওে, কিন্তু কর্মকর্তাদেও অনিয়মের কারনে কাউনিয়া উপজেলা কোন স্থান দখল করতে পারে নি।এবিষয়ে মডেল মসজিদের সুপারভাইজার আব্দুল্লাহ এর কাছে জানতে চাইলে তিনি জানান, উর্দ্ধতন কর্তৃপক্ষের অনুমোতি ছারা তিনি কোন তথ্য দিতে পারেন না।
এ বিষয়ে কাউনিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা পাপিয়া সুলতানার বলেন, “অভিযোগটি পেয়েছি। বিষয়টি যাচাই-বাছাই করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।” তবে অভিযোগে অভিযুক্ত মাস্টার ট্রেইনার মোঃ শামীমুল ইসলাম, কেয়ারটেকার মোঃ শহিদুল ইসলামসহ সংশ্লিষ্টদের কাছে জানতে চাইলে তারা জানান, যাকাতের টাকা সঠিক নিয়মে জমা প্রদান করা হয়েছে এবং আমরা কোন অনিয়ম করিনি। আমাদের সম্মান নষ্ট করার জন্য মনগড়া অভিযোগ করা হয়েছে।















