• Home
  • দেশ
  • সোনালী আঁশে রঙিন সিংড়া বাম্পার ফলনে কৃষকের মুখে স্বস্তির হাসি
Image

সোনালী আঁশে রঙিন সিংড়া বাম্পার ফলনে কৃষকের মুখে স্বস্তির হাসি

রাকিবুল ইসলাম, সিংড়া (নাটোর) প্রতিনিধি: বাতাসে কাঁচা পাটের সুবাস, নদী-নালায় জাগ দেওয়া আর প্রখর রোদে উঠোনজুড়ে সোনালী আঁশ শুকানোর ব্যস্ততা নাটোরের সিংড়া উপজেলার গ্রামগুলোতে এখন কৃষকের দম ফেলার সময় নেই। অনুকূল আবহাওয়া আর পর্যাপ্ত পানির কল্যাণে চলতি মৌসুমে পাটের যেমন বাম্পার ফলন হয়েছে, তেমনি বাজারে মিলছে কাঙ্ক্ষিত দাম। ফলে হারানো ঐতিহ্য ফিরে পাওয়ার পাশাপাশি লোকসান কাটিয়ে লাভের মুখ দেখছেন উপজেলার হাজারও পাটচাষী।

উপজেলার চামারী, লালোর, হাতিয়ানদহ ইউনিয়নসহ বিভিন্ন স্থানীয় বাজারে ইতোমধ্যে নতুন পাট উঠতে শুরু করেছে। মানভেদে প্রতি মণ পাট বিক্রি হচ্ছে ৩ হাজার ৫০০ টাকা থেকে ৪ হাজার টাকায়। বিঘা প্রতি আঁশের ফলন পাওয়া যাচ্ছে ৮ থেকে ১০ মণ।

উপজেলার হাতিয়ানদহ হাটের পাট ব্যবসায়ী রফিকুল ইসলাম জানান, এবার পাটের রং ও আঁশের গুণগত মান অত্যন্ত চমৎকার। বাজারে চাহিদা ভালো থাকায় কৃষকদেরও সঠিক মূল্য দেওয়া সম্ভব হচ্ছে। বিগত বছরগুলোর লোকসান পুষিয়ে এবার স্বস্তিতে আছেন কৃষকরা।

লালোর গ্রামের পাটচাষী নুরুজ্জামান বলেন, “দুই বিঘা জমিতে প্রায় ১৮ মণ পাট পেয়েছি। খরচ বাদে ৩০ থেকে ৪০ হাজার টাকা লাভ থাকবে। পেছনের লোকসান এবার সুদে-আসলে উঠে আসবে আশা করছি।”

তবে আনন্দের এই জোয়ারে সামান্য ছন্দপতন ঘটেছে নিচু অঞ্চলের কৃষকদের ক্ষেত্রে। নিচু জমিতে আগাম বন্যার পানি ঢুকে পড়ায় শ্রমিকের মজুরি দ্বিগুণ গুণতে হচ্ছে। মাজগাতী গ্রামের কৃষক অনিল চন্দ্র জানান, ডুবে যাওয়া জমির পাট কাটতে শ্রমিকের হাজিরা দিতে হচ্ছে ৭০০ টাকা। ফলে আঁশ ছাড়ানো ও ধোয়ার খরচ বেড়ে সামান্য লোকসানের শঙ্কা করছেন তিনি।

এদিকে, ভরা মৌসুমে গ্রামীণ নারীদের কর্মসংস্থানের নতুন সুযোগ তৈরি হয়েছে। পাটখড়ির বিনিময়ে গৃহস্থের বাড়িতে পাট ছাড়ানোর কাজ করছেন স্থানীয় আলেয়া বেগমের মতো অনেকে। তিনি জানান, মাসখানেকের এই শ্রমে অর্জিত পাটখড়ি দিয়ে তাদের অন্তত ৬ মাসের রান্নার জ্বালানির সংস্থান হয়ে যায়।

সিংড়া উপজেলা কৃষি বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, চলতি মৌসুমে উপজেলায় ১ হাজার ৭৪৫ হেক্টর জমিতে পাটের আবাদ হয়েছে।

উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ খন্দকার ফরিদ বলেন, “আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় এবং পর্যাপ্ত পানি পাওয়ায় ‘জাগ’ দেওয়া নিয়ে কৃষকদের তেমন বেগ পেতে হয়নি। নিচু জমির সামান্য কিছু ক্ষতি হলেও সার্বিকভাবে বেশিরভাগ কৃষক লাভবান হচ্ছেন। কৃষি বিভাগের পক্ষ থেকে সব ধরনের পরামর্শ ও প্রণোদনা দেওয়া হচ্ছে।”

Related Posts

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

ENGLISH »