• Home
  • দেশ
  • নারী-পুরুষের ভূমিকার প্রচলিত ধারণা বদলাতে বরগুনায় নতুন উদ্যোগ
Image

নারী-পুরুষের ভূমিকার প্রচলিত ধারণা বদলাতে বরগুনায় নতুন উদ্যোগ

হিমাদ্রি শেখর কেশব,রগুনা: বরগুনায় নারী-পুরুষের প্রচলিত জেন্ডার ভূমিকা পরিবর্তন এবং পারিবারিক ও সামাজিক কর্মকাণ্ডে নারী-পুরুষের সমঅংশগ্রহণ নিশ্চিত করতে কমিউনিটি পর্যায়ে সচেতনতামূলক কার্যক্রম অনুষ্ঠিত হয়েছে। বৃহস্পতিবার (২৪ সেপ্টেম্বর) বরগুনা সদর উপজেলার বুড়িরচর ইউনিয়নের ১নং ওয়ার্ডের সোনাতলা গ্রামে জাগোনারী কর্তৃক বাস্তবায়িত আলোকিত প্রকল্পের উদ্যোগে এ কার্যক্রম অনুষ্ঠিত হয়।

এসময় পুরুষদের জন্য ব্যতিক্রমধর্মী রান্না প্রতিযোগিতার আয়োজন করা হয়েছে। এ সময় স্ত্রীদের চেয়ারে বসিয়ে অস্থায়ী চুলায় খাবার রান্না করেন একাধিক পরিবারের একাধিক জন পুরুষ। নারীদের কাজের মূল্যায়ন ও সমঅধিকার নিয়ে সচেতনতা তৈরির উদ্দেশ্যে এ প্রতিযোগিতার আয়োজন করা হয়।

কার্যক্রমে স্থানীয় নারী-পুরুষের অংশগ্রহণে পরিবার ও সমাজে নারী-পুরুষের ভূমিকা, গৃহস্থালি কাজের মূল্যায়ন, পারিবারিক সিদ্ধান্ত গ্রহণে নারীর অংশগ্রহণ এবং নারী-পুরুষের পারস্পরিক সহযোগিতার বিভিন্ন দিক নিয়ে আলোচনা করা হয়।

আয়োজকরা জানান, প্রচলিত সামাজিক কাঠামোয় গৃহস্থালি কাজ, সন্তান লালন-পালন, পরিবারের পরিচর্যাসহ নানা দায়িত্বকে অনেক সময় নারীর কাজ হিসেবে বিবেচনা করা হয়। অন্যদিকে পরিবারের বাইরে আয়-রোজগার ও সিদ্ধান্ত গ্রহণের দায়িত্বকে পুরুষের কাজ হিসেবে দেখা হয়। এ ধরনের প্রচলিত ধারণার পরিবর্তন করে নারী-পুরুষের সমান মর্যাদা, দায়িত্ব ও অংশগ্রহণ নিশ্চিত করাই এ কার্যক্রমের অন্যতম উদ্দেশ্য।

আলোচনায় অংশ নেওয়া স্থানীয় নারী ও পুরুষরা বলেন, একটি পরিবারের উন্নয়নে নারী ও পুরুষ উভয়েরই গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে। শুধু উপার্জন নয়, ঘরের কাজ, সন্তানদের দেখাশোনা, পরিবারের গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত গ্রহণসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে পারস্পরিক সহযোগিতা থাকলে পরিবারে দায়িত্বের ভারসাম্য তৈরি হয়। একই সঙ্গে নারীর কাজের যথাযথ মূল্যায়ন ও মর্যাদা নিশ্চিত করাও জরুরি।

আলোকিত প্রকল্পের সংশ্লিষ্টরা বলেন, জেন্ডার ভূমিকা পরিবর্তন শুধু নারীদের সচেতন করার বিষয় নয়; এ ক্ষেত্রে পুরুষদেরও সম্পৃক্ত করা প্রয়োজন। পরিবার ও সমাজে প্রচলিত ধারণাগুলো পরিবর্তনের মাধ্যমে নারী-পুরুষের মধ্যে সহযোগিতার পরিবেশ তৈরি করা গেলে নারীর ক্ষমতায়ন আরও কার্যকর হবে।

তারা আরও বলেন, নারী-পুরুষের কাজের ক্ষেত্রে নির্দিষ্ট বিভাজনের পরিবর্তে সক্ষমতা ও প্রয়োজন অনুযায়ী সবাইকে পারিবারিক ও সামাজিক কাজে অংশগ্রহণের সুযোগ দিতে হবে। একই সঙ্গে নারীর মতামতকে গুরুত্ব দেওয়া এবং পারিবারিক সিদ্ধান্ত গ্রহণে তাদের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করতে হবে।

সোনাতলা গ্রামের এ কমিউনিটি পর্যায়ের কার্যক্রমে স্থানীয় নারী-পুরুষ ছাড়াও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা অংশ নেন। আলোচনার মাধ্যমে অংশগ্রহণকারীদের মধ্যে নারী-পুরুষের সমতা, পারস্পরিক সহযোগিতা এবং প্রচলিত জেন্ডার ভূমিকা পরিবর্তনের প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরা হয়।

আয়োজকদের প্রত্যাশা, এ ধরনের কার্যক্রমের মাধ্যমে পরিবার ও কমিউনিটি পর্যায়ে ইতিবাচক পরিবর্তনের সূচনা হবে এবং নারী-পুরুষ উভয়েই নিজেদের দায়িত্ব ও ভূমিকা নতুনভাবে উপলব্ধি করার সুযোগ পাবেন।

Related Posts

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

ENGLISH »