“ডেঙ্গুর ঝুঁকিতে নেই দৃশ্যমান পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম
সারওয়ার আলম মুকুল, কাউনিয়া (রংপুর) প্রতিনিধি ঃ কাউনিয়া উপজেলা ক্যাম্পাসে ডেঙ্গু প্রতিরোধ ও পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রমে দৃশ্যমান কোনো উদ্যোগ দেখা যাচ্ছে না বলে অভিযোগ উঠেছে। জলাবদ্ধতা, অপরিকল্পিত ড্রেনেজ ব্যবস্থা এবং বিভিন্ন স্থানে ময়লা-আবর্জনা জমে থাকায় ডেঙ্গু ও চিকুনগুনিয়ার ঝুঁকি বাড়ছে বলে আশঙ্কা করছেন স্থানীয় বাসিন্দা ও সচেতন মহল।
ডেঙ্গু ও চিকুনগুনিয়ার মতো মশাবাহিত রোগ প্রতিরোধে সারাদেশে পরিচ্ছন্নতা অভিযান চালানোর নির্দেশনা থাকলেও কাউনিয়া উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে মশক নিধন ও পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রমের দৃশ্যমান কোনো উদ্যোগ লক্ষ্য করা যায়নি।
সরেজমিনে উপজেলা ক্যাম্পাস ঘুরে দেখা যায়, বাসাবাড়ির পাশাপাশি সরকারি দপ্তর এলাকায়ও পানি নিষ্কাশনের পর্যাপ্ত ব্যবস্থা নেই। ক্যাম্পাসে থাকা একমাত্র ড্রেনটি দীর্ঘদিন ধরে অপরিষ্কার অবস্থায় পড়ে রয়েছে। সহকারী কমিশনারের বাসভবন, দারিদ্র্য বিমোচন অফিসের পেছন দিক এবং উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার অফিসের নিকটবর্তী পরিত্যক্ত কৃষি ভবনের পাশে ময়লা-আবর্জনার স্ত‚প জমে আছে।
ড্রেনেজ ব্যবস্থার দুর্বলতার কারণে সামান্য বৃষ্টিতেই বিভিন্ন স্থানে পানি জমে থাকে। এসব স্থির পানিতে মশার বংশবিস্তার ঘটছে বলে স্থানীয়রা অভিযোগ করেন। ফলে ডেঙ্গুর ঝুঁকি বাড়লেও এখন পর্যন্ত কার্যকর কোনো মশক নিধন বা পরিচ্ছন্নতা অভিযান পরিচালিত হয়নি। নিয়মিত পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা ও রক্ষণাবেক্ষণের অভাবে উপজেলা ক্যাম্পাসের পরিবেশ বেহাল হয়ে পড়েছে। নিচু এলাকাগুলোতে দীর্ঘসময় পানি জমে থাকায় দুর্গন্ধ ছড়াচ্ছে এবং সৃষ্টি হচ্ছে অস্বাস্থ্যকর পরিবেশ। সেবা নিতে আসা সাধারণ মানুষ, কর্মকর্তা-কর্মচারী ও শিক্ষার্থীদের কাদা-পানি মাড়িয়ে বিভিন্ন দপ্তরে যাতায়াত করতে হচ্ছে।
স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, ডেঙ্গু মৌসুম শুরু হলেও প্রতিরোধমূলক কার্যক্রমে প্রশাসনের তৎপরতা দৃশ্যমান নয়। চিকিৎসক ও সচেতন নাগরিকদের আশঙ্কা, দ্রæত ব্যবস্থা গ্রহণ না করলে চলতি বছর কাউনিয়ায় ডেঙ্গুর প্রকোপ বাড়তে পারে। জানা গেছে, গত বছর কাউনিয়া স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে অন্তত ২৫ জন ডেঙ্গু রোগী চিকিৎসা নিয়েছেন। সচেতন মহলের মতে, ডেঙ্গু প্রতিরোধে পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখা, জলাবদ্ধতা দূর করা এবং নিয়মিত মশক নিধন কার্যক্রম পরিচালনা করা জরুরি। ড্রেনেজ ব্যবস্থার উন্নয়ন হলে মশার উপদ্রব ও ডেঙ্গুর ঝুঁকি অনেকাংশে কমে আসবে।
এ বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা পাপিয়া সুলতানা বলেন, “উপজেলায় সরকারি নির্দেশনা অনুযায়ী জনসচেতনতামূলক কার্যক্রম চলমান রয়েছে।”

















