রাকিবুল ইসলাম, সিংড়া (নাটোর) প্রতিনিধি: আর্থিক সামর্থ্য নেই, নেই উড়োজাহাজের দামি টিকিট কাটার সংস্থান। কিন্তু হৃদয়ে আছে আল্লাহর ঘর পবিত্র কাবা শরিফ তাওয়াফ করার এক অদম্য আকুলতা। সেই স্বপ্ন পূরণেই আকাশপথ কিংবা যানবাহন নয়, নিজের দুই পায়ের ওপর ভরসা করেই সৌদি আরবের মক্কার উদ্দেশে রওয়ানা হয়েছেন নাটোরের সিংড়া উপজেলার দুলাল হোসেন (৪৫)।
মঙ্গলবার (৪ আগস্ট) সকালে নিজ গ্রাম থেকে স্বজন ও এলাকাবাসীর ভালোবাসা আর দোয়ায় সিক্ত হয়ে এ দীর্ঘ ও দুর্গম পথচলা শুরু করেন তিনি।
দুলাল হোসেন নাটোরের সিংড়া উপজেলার ডাহিয়া ইউনিয়নের তাড়াই বড়ইচোরা গ্রামের প্রয়াত মকসেদ আলী ও পিয়ারা বেগমের ছেলে। পেশায় ও জীবনযাত্রায় অতি সাধারণ এই মানুষের দীর্ঘদিনের লালিত স্বপ্ন ছিল পায়ে হেঁটে হজ পালন করার।
দুলাল হোসেনের ছেলে মোস্তাফিজুর রহমান জানান: “আমাদের পরিবারের আর্থিক অবস্থা একেবারেই সচ্ছল নয়। বিমানে করে গিয়ে হজের যে বিশাল খরচ, তা বহন করা বাবার পক্ষে সম্ভব নয়। তবে আল্লাহর দরবারে হাজির হওয়ার ইচ্ছাটা উনার প্রবল। তাই বাবা পায়ে হেঁটে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন এবং প্রয়োজনীয় কাগজপত্র সাথে নিয়ে যাত্রা শুরু করেছেন।”
যাত্রার প্রাক্কালে আবেগাপ্লুত দুলাল হোসেন বলেন, “কাবার ঘরে যাওয়ার স্বপ্ন আমার অনেক দিনের। আমি একজন সাধারণ মানুষ, এত টাকা খরচ করে সৌদি আরব যাওয়ার সামর্থ্য আমার নেই। তাই পুরো ভরসা আল্লাহর ওপর রেখে রওনা হলাম। সরকারের কাছে আমার আকুল অনুরোধ—প্রয়োজনীয় কাগজপত্র সাথে থাকায় সীমান্তগুলোতে যাতে কোনো জটিলতা বা বাধার মুখে না পড়তে হয়। আমি সবার কাছে দোয়া প্রার্থী।”
একজন সাধারণ মানুষের এমন সাহসী উদ্যোগ ঘিরে সিংড়া উপজেলায় এখন ব্যাপক আলোচনা চলছে। সকালে দুলাল হোসেন যখন কাঁধে ব্যাগ ঝুলিয়ে যাত্রা শুরু করেন, তখন তাকে বিদায় জানাতে ছুটে আসেন গ্রামের শত শত মানুষ।
স্থানীয়রা তার শুভকামনা জানিয়ে বলেন, এমন ঈমানি আবেগ ও মনোবল সত্যিই বিরল। বহু পথ, অচেনা দেশ আর ভৌগোলিক বাঁধা পেরিয়ে দুলাল হোসেন যেন নিরাপদে মক্কায় পৌঁছাতে পারেন এখন এটাই সবার দোয়া।





















