আন্তর্জাতিক ডেস্ক: বিশ্ববাজারে ডিজেলের চলমান সরবরাহ সংকট ২০২৭ সালের বড় একটি সময়জুড়ে অব্যাহত থাকতে পারে বলে গুরুতর সতর্কতা জারি করেছে আন্তর্জাতিক জ্বালানি সংস্থা (আইইএ)। দীর্ঘস্থায়ী এই সংকটের জেরে জ্বালানিটির দাম চড়া থাকলে বৈশ্বিক শিল্প উৎপাদন, কৃষি এবং পরিবহন খাতে ব্যয় বহুগুণ বেড়ে যাবে। পাশাপাশি বিশ্ব অর্থনীতিতে মূল্যস্ফীতির চাপ তীব্রতর হয়ে সার্বিক অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি চরমভাবে বাধাগ্রস্ত হওয়ার শঙ্কা তৈরি হয়েছে।
জ্বালানি বাজারের এই অস্থিরতা নিয়ন্ত্রণে জরুরি মজুত থেকে তেল ছাড়ার পরিমাণ ও সময় নির্ধারণ নিয়ে বর্তমানে আলোচনা চলছে। পরিস্থিতি সামাল দিতে ইউরোপীয় ইউনিয়নভুক্ত (ইইউ) দেশগুলোকে নিজেদের মজুত থেকে ডিজেল বাজারে ছাড়ার আহ্বান জানিয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসন। এই বিষয়ে দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়া না হলে যুক্তরাষ্ট্র থেকে ডিজেল রপ্তানি নিষিদ্ধ করা হতে পারে বলেও ইইউকে কড়া হুঁশিয়ারি দেওয়া হয়েছে।
রয়টার্সের প্রতিবেদন অনুযায়ী, আইইএর সর্বশেষ মাসিক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ডিজেলের রেকর্ড মূল্যবৃদ্ধির নেতিবাচক প্রভাব এরই মধ্যে বৈশ্বিক অর্থনীতির বিভিন্ন স্তরে দৃশ্যমান হতে শুরু করেছে। জ্বালানি ব্যয় বৃদ্ধির কারণে পণ্য উৎপাদন ও পরিবহনের খরচ বাড়ায় ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠানের পরিচালন ব্যয় যেমন বাড়ছে, তেমনি সাধারণ ভোক্তার প্রকৃত আয় ও ক্রয়ক্ষমতা মারাত্মকভাবে কমছে।
সংস্থাটির পর্যবেক্ষণ অনুযায়ী, বছরের এই সময়ে সাধারণত জ্বালানির মজুত বাড়ার কথা থাকলেও বর্তমানে তা আশঙ্কাজনকভাবে কমছে। এর ওপর মধ্যপ্রাচ্যে চলমান সংঘাত অব্যাহত থাকলে সামনের দিনগুলোতে মজুতের ওপর চাপ বেড়ে বাজার পরিস্থিতি আরও জটিল আকার ধারণ করতে পারে।
বিশ্লেষকরা সতর্ক করে বলছেন, ডিজেলের মূল্যের ঊর্ধ্বগতি শুধু জ্বালানি খাতের মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকবে না, বরং তা সাধারণ মানুষের প্রাত্যহিক জীবনযাত্রার ব্যয় বাড়িয়ে দেবে। কৃষি খাতে উৎপাদন ব্যয় বাড়লে অনিবার্যভাবেই খাদ্যপণ্যের দাম বাড়বে, আর পরিবহন খরচ বাড়লে বাজারে সব ধরনের পণ্যের চূড়ান্ত মূল্যই ঊর্ধ্বমুখী হবে। আইইএর মতে, ২০২৭ সালে সরবরাহে উদ্বৃত্ত পরিস্থিতি তৈরি হওয়ার আগপর্যন্ত বিশ্ব অর্থনীতিকে এই তীব্র মূল্যস্ফীতি, সরবরাহ ঘাটতি ও ধীর প্রবৃদ্ধির বড় চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করতে হবে।


















