• Home
  • খেলা
  • এশিয়ান গেমসে বাংলাদেশের ব্যর্থতার কারণ মূল্যায়ন হবে, জানালেন ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী
Image

এশিয়ান গেমসে বাংলাদেশের ব্যর্থতার কারণ মূল্যায়ন হবে, জানালেন ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী

এশিয়ান গেমসে বাংলাদেশের আশানুরূপ ফল না পাওয়ার কারণ খুঁজে বের করতে অংশ নেওয়া সব ফেডারেশনের পারফরম্যান্স মূল্যায়ন করা হবে। এ জন্য জাতীয় ক্রীড়া পরিষদের নির্বাহী পরিচালককে একটি মূল্যায়ন কমিটি গঠনের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী মো. আমিনুল হক।

রোববার সচিবালয়ে ‘ক্রীড়া কার্ড’-এর আওতায় ক্রীড়াবিদদের বিভিন্ন সুবিধা দেওয়ার বিষয়ে সভার আগে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এ কথা বলেন। এশিয়ান গেমসে বাংলাদেশের ফুটবল দলের ফলাফল নিয়ে দৃষ্টি আকর্ষণ করা হলে আমিনুল হক বলেন, ফলাফল ‘অত্যন্ত হতাশাজনক’।

তবে একটি প্রতিযোগিতার ফল দিয়ে পুরো প্রক্রিয়াকে বিচার করতে চান না তিনি। বরং কোথায় ভুল হয়েছে, তা চিহ্নিত করে সেখান থেকে শিক্ষা নেওয়ার ওপর গুরুত্ব দেন। প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘আমরা চাই, এই ভুল থেকে যাতে আমরা শিক্ষা নিই। যে রেজাল্টটা হয়েছে, সেটা অত্যন্ত হতাশাজনক।

তিনি বলেন, বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশন তাদের কার্যক্রম পর্যালোচনা করেই বর্তমান কোচ নিয়োগ দিয়েছে। তার ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতায় এশিয়ান গেমস বা ফুটবলের ফল নিয়ে তিনি খুব বেশি হতাশ নন। কারণ, খেলোয়াড়দের নিয়ে একটি প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে এবং এর সুফল পেতে সময় লাগতে পারে।

আমিনুল হক বলেন, ‘আমরা শুরু করেছি, কিন্তু এই রেজাল্টটা আমরা পরবর্তীতে পেতে চাই।’ খেলোয়াড়দের মধ্যে প্রয়োজনীয় বিষয়গুলো গ্রহণ করানো এবং দেশের মানুষের ক্রীড়া নিয়ে যে স্বপ্ন ও প্রত্যাশা রয়েছে, তা পূরণে একটি দীর্ঘমেয়াদি প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে বলেও জানান তিনি।

শুধু ফুটবল নয়, এশিয়ান গেমসে অংশ নেওয়া প্রতিটি ফেডারেশনের পারফরম্যান্স খতিয়ে দেখা হবে। এ ছাড়া এশীয় অঞ্চলের ফুটবল টুর্নামেন্টে অংশ নেওয়া ফেডারেশনগুলোর খেলোয়াড়দের পারফরম্যান্সসহ সার্বিক বিষয়ও মূল্যায়নের আওতায় আনা হবে।

প্রতিমন্ত্রী বলেন, প্রতিটি ফেডারেশন থেকে খেলোয়াড়দের পারফরম্যান্স ও অন্যান্য বিষয়ে একটি মূল্যায়ন প্রতিবেদন নেওয়া হবে। এরপর সার্বিক বিষয় নিয়ে পরবর্তী পদক্ষেপের কথা জানানো হবে।

এদিকে দেশের স্টেডিয়ামগুলোতে দোকান বরাদ্দ ও ভাড়ার ক্ষেত্রে দীর্ঘদিনের অনিয়ম নিয়েও কথা বলেন যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী। তার দাবি, কোথাও সরকার সামান্য ভাড়া পেলেও একই দোকানের জন্য প্রকৃত ভাড়া অনেক বেশি নেওয়া হচ্ছে।

আমিনুল হক বলেন, বিভিন্ন স্টেডিয়াম পরিদর্শনে গিয়ে এমন অনিয়মের তথ্য তাদের নজরে এসেছে। কোনো ক্ষেত্রে সরকার যেখানে ১ হাজার ২০০ টাকা ভাড়া পাচ্ছে, সেখানে দোকানদারকে ৫০ হাজার টাকা পর্যন্ত ভাড়া দিতে হচ্ছে। মাঝের বিপুল অর্থ অন্যদের কাছে চলে যাচ্ছে।

কমলাপুর স্টেডিয়াম, ঢাকা স্টেডিয়াম ও মিরপুরের শেরেবাংলা জাতীয় ক্রিকেট স্টেডিয়ামের ভাড়ার কাঠামো পর্যালোচনায় কমিটি করা হয়েছে বলে জানান তিনি। অতীত ও বর্তমানের ভাড়ার কাঠামো পর্যালোচনা করে কীভাবে সরকারকে রাজস্ববঞ্চনা থেকে রক্ষা করা যায়, সে বিষয়ে সুপারিশ করবে কমিটি।

স্টেডিয়ামের পরিবেশ ক্রীড়াবান্ধব করার উদ্যোগের কথাও জানিয়ে প্রতিমন্ত্রী বলেন, কমলাপুর স্টেডিয়ামসহ বিভিন্ন জায়গায় থাকা রিকশার গ্যারেজ বন্ধ করা হয়েছে। অবৈধ বিদ্যুৎ সংযোগ নিয়ে রিকশা চার্জ দেওয়ার ব্যবস্থাও বিচ্ছিন্ন করা হয়েছে।

আমিনুল হক বলেন, আমাদের ইতোমধ্যে কাজ চলমান আছে। আশা করছি, এই ডিসেম্বরের মধ্যেই আমরা একটা কংক্রিট রেজাল্ট আপনাদের কাছে দিতে পারব, ইনশা আল্লাহ।

বাংলাদেশের টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে অংশ না নেওয়ার ঘটনায় তদন্ত কমিটির প্রতিবেদনে অংশ নেওয়া উচিত ছিল বলে মত দেওয়া হলেও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে নতুন করে কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হবে না বলে জানিয়েছেন প্রতিমন্ত্রী।

তিনি বলেন, শুধু শাস্তি দিলেই সব সমস্যার সমাধান হবে না। তদন্ত কমিটির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, কোনো ব্যক্তির ব্যক্তিগত ইচ্ছার কারণে বাংলাদেশ বিশ্বকাপ ক্রিকেটে অংশ নেয়নি।

ভবিষ্যতে কোনো ব্যক্তির একক সিদ্ধান্তে যাতে জাতীয় দলের এমন গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে সিদ্ধান্ত না হয়, সে বার্তা দেওয়া হয়েছে বলে জানান আমিনুল হক। তিনি বলেন, দেশ আমাদের সবার। কোনো ব্যক্তির সিদ্ধান্তে ভবিষ্যতে যাতে এই ধরনের কোনো সিদ্ধান্ত নেওয়া না হয়, সে মেসেজটি ইতোমধ্যে আমরা দিয়েছি।

অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের দুর্নীতির বিষয়ে দুর্নীতি দমন কমিশনের তদন্ত প্রসঙ্গে প্রতিমন্ত্রী বলেন, সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলো তাদের কাজ করছে। তদন্ত শেষ হওয়ার আগে কাউকে অভিযুক্ত করা ঠিক হবে না।

তিনি বলেন, তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত আসলে কাউকেই অভিযুক্ত করা যায় না। আপনারা একটু সময় দেন। যেটা সঠিক, সেটাই আপনাদের সামনে উপস্থাপন করা হবে। তদন্তকারী সংস্থাগুলো যেসব তথ্য-উপাত্ত চাইছে, মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে সেগুলো দিয়ে সহযোগিতা করা হচ্ছে বলেও জানান তিনি।

Related Posts

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

ENGLISH »