স্পোর্টস ডেস্ক: বাংলাদেশের টেস্ট ক্রিকেটে ইতিহাস গড়লেন পেসার হাসান মাহমুদ। দেশের প্রথম পেসার হিসেবে অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে টেস্টে এক ইনিংসে ৫ উইকেট নেওয়ার কীর্তি গড়েছেন তিনি। অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে গুরুত্বপূর্ণ সময়ে দুর্দান্ত বোলিং করে একের পর এক ব্যাটারকে সাজঘরে ফেরান হাসান। তার আগুনঝরা বোলিংয়ে চাপে পড়ে যায় অস্ট্রেলিয়া। ডারউইনে প্রথম ইনিংসে দুইশ রানও করতে পারেনি তারা। ১৯৮ রানে তারা অলআউট হয়ে যায়।
এই ৫ উইকেটের মাধ্যমে বাংলাদেশের পেস বোলিংয়ের ইতিহাসে নতুন অধ্যায় লিখলেন হাসান মাহমুদ। টেস্টে অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে এতদিন বাংলাদেশের হয়ে ৫ উইকেট নেওয়ার কীর্তি মূলত স্পিনারদের দখলে ছিল। মোহাম্মদ রফিক একবার এবং সাকিব একই টেস্টে দুইবার ফাইফার পেয়েছিলেন। এবার সেই তালিকায় ঐতিহাসিকভাবে নিজের নাম লিখলেন হাসান।
হাসানের এই পারফরম্যান্স শুধু ব্যক্তিগত অর্জন নয়, বাংলাদেশের টেস্ট ক্রিকেটে পেসারদের জন্যও বড় এক মাইলফলক। গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচে তার এমন বোলিং দলকে এনে দিয়েছে বাড়তি আত্মবিশ্বাস।
ডারউইনে ২৩ বছর পর খেলছে বাংলাদেশ। লাল সবুজের প্রতিনিধিরা কেমন করবেন তা নিয়ে ছিল জল্পনা কল্পনা। কিন্তু প্রথম দিন আগে বোলিংয়ের সুযোগ পেয়ে বাংলাদেশের পেসাররা নিজেদের মান রাখলেন। হাসান দিনের শুরুতে জেক ওয়েদারাল্ড ও ট্রেভিস হেডের উইকেট নেন। দ্বিতীয় সেশনে তার শিকার প্যাচট কামিন্স ও মিচেল স্টার্কের।
তার ৫ উইকেট সুতোঁয় ঝুলছিল। তাসকিন কিংবা ইবাদতের দুর্দান্ত স্পেল এলোমেলো করে দিতে পারত সব। কিন্তু ভাগ্যবিধাতা এদিন হাসানের ভাগ্যেই লিখে দিয়েছেন সব। তাইতো স্মিথের উইকেট নিয়ে পূর্ণ করেন ক্যারিয়ারের তৃতীয় ফাইফার। এর আগে ভারত ও পাকিস্তানের বিপক্ষে তাদের মাটিতেই ৫ উইকেট পেয়েছিলেন তিনি।
স্মিথের পর অস্ট্রেলিয়ার কফিনে শেষ পেরেকটিও ঠুকে দেন হাসান। আউট করেন নাথান লায়নকে। তাতে ষষ্ঠ উইকেটের দেখা পেয়েছেন। সব মিলিয়ে ১৭ ওভারে ৩ মেডেনে ৫৫ রানে ৬ উইকেট পেয়েছেন হাসান। যা আন্তর্জাতিক ক্রিকেট তার ক্যারিয়ার সেরা বোলিং। হাসানের দোর্দান্ড প্রতাপে অস্ট্রেলিয়া ২০০ রানও করতে পারেনি। ১৯৮ রানে অলআউট হয়েছে তারা।














