কাউনিয়া (রংপুর) প্রতিনিধি ঃ রংপুরের কাউনিয়া উপজেলায় একের পর এক মোটরসাইকেল চুরির ঘটনায় উদ্বেগ বাড়ছে। গত কয়েক মাসে উপজেলার বিভিন্ন এলাকা থেকে ধারাবাহিকভাবে মোটরসাইকেল ও বাইসাইকেল চুরি হলেও অধিকাংশ ক্ষেত্রেই সেগুলো উদ্ধার হয়নি। এতে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে প্রশ্ন তুলছেন স্থানীয়রা। একই সঙ্গে মোটরসাইকেল মালিকদের মধ্যে নিরাপত্তাহীনতা ও আতঙ্ক বিরাজ করছে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, বাড়ি, মসজিদ, মন্দির, বাজার এবং সরকারি-বেসরকারি বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের সামনে থেকে দিনের বেলাতেও মোটরসাইকেল চুরির ঘটনা ঘটছে। চুরি হওয়া যানবাহন উদ্ধার না হওয়ায় চোরচক্র আরও সক্রিয় হয়ে উঠেছে বলে তাদের দাবি।
সর্বশেষ গত সোমবার (২৭ জুলাই) উপজেলার টেপামধুপুর ইউনিয়নের বিশ্বনাথ গ্রামের আনোয়ার হোসেনের ছেলে মাইনুল ইসলাম তার ব্যবহৃত কালো রঙের হোন্ডা এসপি শাইন ১২৫ সিসি মোটরসাইকেলটি উপজেলা পরিষদের পাশে টেস্টি পয়েন্ট হোটেলের সামনে রেখে উপজেলা পরিষদে একটি কাজে যান। প্রায় ২০ মিনিট পর ফিরে এসে দেখেন মোটরসাইকেলটি নেই। পরে আশপাশে খোঁজাখুঁজি করেও সেটির কোনো সন্ধান পাওয়া যায়নি। দিনের আলোয় উপজেলা পরিষদের অদূর থেকে মোটরসাইকেল চুরির এ ঘটনায় জনমনে নিরাপত্তাহীনতা আরও বেড়েছে।
এর আগে গত ১৭ জুলাই কাউনিয়া থানার অদূরে সহকারী অধ্যাপক গোলাম সারোয়ার হিরনের বাড়িতে ভাড়া থাকা ডাচ্-বাংলা ব্যাংকের সেলস ম্যানেজার এনামুল হকের ১২৫ সিসির একটি ডিসকভার মোটরসাইকেল বাসার ভেতর থেকে চুরি হয়। এছাড়া উপজেলা কেন্দ্রীয় মসজিদের সামনে থেকে পরপর দুটি বাইসাইকেল এবং এর আগে একই স্থান থেকে দুটি মোটরসাইকেল চুরির ঘটনাও ঘটে। মাইনুল ইসলাম মোটরসাইকেল চুরির ঘটনায় কাউনিয়া থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেছেন।
স্থানীয় বাসিন্দারা বলেন, দিনের বেলায় প্রকাশ্যে মোটরসাইকেল চুরি হলেও চোরদের শনাক্ত কিংবা চুরি হওয়া যানবাহন উদ্ধারে দৃশ্যমান অগ্রগতি নেই। ফলে সাধারণ মানুষের মধ্যে আতঙ্ক বাড়ছে। তারা নিয়মিত পুলিশ টহল জোরদার, সিসিটিভি নজরদারি বৃদ্ধি এবং চোরচক্রকে দ্রæত আইনের আওতায় আনার দাবি জানান।
এ বিষয়ে কাউনিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শিহাব উদ্দিন বলেন, “মোটরসাইকেল চুরির অভিযোগ পেয়েছি। চুরি হওয়া মোটরসাইকেল উদ্ধারে আমাদের টিম সর্বোচ্চ চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে।”















