• Home
  • দেশ
  • তিস্তার করাল গ্রাসে কাউনিয়া, বসতভিটা হারিয়ে খোলা আকাশের নিচে পরিবারগুলো
Image

তিস্তার করাল গ্রাসে কাউনিয়া, বসতভিটা হারিয়ে খোলা আকাশের নিচে পরিবারগুলো

সারওয়ার আলম মুকুল, কাউনিয়া (রংপুর) প্রতিনিধি ঃ বর্ষার শুরুতেই রংপুরের কাউনিয়ায় ভয়াবহ ভাঙ্গনের খেলায় মেতেছে তিস্তা নদী। বন্যার পানি নামতে না নামতেই গত এক সপ্তাহে উপজেলার চর ঢুষমারা গ্রামে অন্তত ২৮টি পরিবারের বসতভিটা নদীগর্ভে বিলীন হয়েছে। ভাঙনের তীব্রতায় খোলা আকাশের নিচে মানবেতর জীবনযাপন করছেন ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলো। একই সঙ্গে একটি প্রাথমিক বিদ্যালয়, মসজিদ, মাদ্রাসাসহ প্রায় অর্ধশত পরিবারের বাড়িঘর এখন চরম ভাঙন ঝুঁকিতে রয়েছে।

সরেজমিনে দেখা যায়, বন্যার পানি কমতে শুরু করলেও তিস্তার প্রবল স্রোতে নদীর তীর দ্রæত ভেঙে পড়ছে। নদীর কিনারায় দাঁড়িয়ে আতঙ্কে দিন কাটাচ্ছেন চরবাসী। অনেকেই ঘরবাড়ি খুলে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করছেন, আবার কেউ কেউ সর্বস্ব হারিয়ে খোলা আকাশের নিচে আশ্রয় নিয়েছেন।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ইতোমধ্যে বাদশা মিয়া, এরশাদ আলী, মোহাম্মদ আলী, জয়নাল আবেদীন, আঃ হামিদ, জয়নুদ্দিন, ভুলু মিয়া, সেকেন্দার আলী, জাহানারা বেগম, জাফর আলী, রবিউল ইসলাম, গেনু মিয়া, আঃ আজিজ, মিন্টু মিয়া, জুয়েল মিয়া, শিউলি বেগম, আলিনুর, আঃ আউয়াল, জিয়ারুল ইসলাম, সাজাহান আলী, রহিম উদ্দিন, জয়নব বেগম, রুবেল, সাবিহা, নুর আলম, আয়শা, সাবিতন ও আবেদ আলীর বসতভিটা নদীগর্ভে বিলীন হয়েছে। এছাড়া ঢুষমারা জামে মসজিদ, ঢুষমারা ফোরকানিয়া হাফেজিয়া মাদ্রাসাসহ আরও প্রায় অর্ধশত পরিবারের বাড়িঘর ভাঙনের মুখে রয়েছে। সোলেমান, সুফিয়ান, সাবিল্লা বেগম ও রশিদ মিয়ার বাড়ি এখন নদীর একেবারে কিনারায় অবস্থান করছে।

চর ঢুষমারার বাসিন্দা নজরুল ইসলাম বলেন, “তিস্তার ভাঙন বহুবার দেখেছি। কিন্তু এবারের মতো ভয়াবহ ভাঙন আগে দেখিনি। মাত্র এক সপ্তাহেই ২০টির বেশি পরিবার তাদের বসতভিটা হারিয়েছে। তারা এখন খোলা আকাশের নিচে মানবেতর জীবনযাপন করছে।”

ভাঙনে সর্বস্ব হারানো বাদশা মিয়া বলেন, “বন্যার পানি কমার সঙ্গে সঙ্গে ভয়াবহ ভাঙন শুরু হয়েছে। এখনই কার্যকর ব্যবস্থা না নিলে পুরো চর ঢুষমারা মানচিত্র থেকেই হারিয়ে যাবে।” ক্ষতিগ্রস্ত জয়নাল আবেদীন বলেন, “আমরা ত্রাণ চাই না। চাই স্থায়ীভাবে নদীভাঙন রোধের ব্যবস্থা এবং তিস্তা মহাপরিকল্পনার বাস্তবায়ন।” আবেদ আলী বলেন, “নির্বাচনের আগে সবাই নদীভাঙন রোধের প্রতিশ্রæতি দেয়। কিন্তু নির্বাচনের পর আর কেউ খোঁজ নেয় না। দ্রæত নদী শাসনের ব্যবস্থা নেওয়া প্রয়োজন।” স্থানীয়দের অভিযোগ, বর্তমানে শুধু বসতভিটাই নয়, ফসলি জমি, গ্রামীণ সড়ক, মাঠ ও ঘাটও নদীগর্ভে বিলীন হতে শুরু করেছে। এতে নদীতীরবর্তী মানুষের দুর্ভোগ দিন দিন বাড়ছে।

উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা মেজবাহুল রহমান বলেন, “ভাঙনকবলিত এলাকা পরিদর্শন করে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের তালিকা প্রস্তুত করে জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে পাঠানো হয়েছে।” রংপুর পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী রবিউল ইসলাম বলেন, “চর ঢুষমারা এলাকার ভাঙনকবলিত স্থান পরিদর্শন করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।”

তিস্তা নদীর চলমান ভাঙনে চর ঢুষমারার বাসিন্দাদের মধ্যে চরম আতঙ্ক বিরাজ করছে। স্থানীয়দের আশঙ্কা, দ্রæত কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ না করা হলে উপজেলার একমাত্র ব-দ্বীপ গ্রাম চর ঢুষমারার বড় একটি অংশ অচিরেই নদীগর্ভে বিলীন হয়ে যেতে পারে। ৯৯

Related Posts

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

ENGLISH »