ক্রীড়া ডেস্ক: শুরুতেই একটি সুযোগ পেয়েছিল সুইডেন। তবে এরপর পুরো ম্যাচে ছিল ফ্রান্সের একচ্ছত্র আধিপত্য। কিলিয়ান এমবাপ্পের জোড়া গোল ও ব্র্যাডলি বারকোলার এক গোলে সুইডেনকে ৩-০ ব্যবধানে হারিয়ে বিশ্বকাপের শেষ ষোলতে জায়গা করে নিয়েছে দিদিয়ের দেশঁর দল।
বাংলাদেশ সময় বুধবার ভোরে নিউ জার্সির মেটলাইফ স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত শেষ ষোলোর ম্যাচে শুরু থেকেই আক্রমণাত্মক ফুটবল খেলেছে দুইবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়নরা। বারবার সুযোগ তৈরি করলেও প্রথমার্ধে গোলের দেখা পায় ম্যাচের ৪৪তম মিনিটে। মাইকেল ওলিসে ও উসমান দেম্বেলের দারুণ সমন্বয়ের পর বক্সে বল পেয়ে প্রতিপক্ষকে কাটিয়ে বাঁকানো শটে জাল খুঁজে নেন এমবাপ্পে।
বিরতির পর আরও ভয়ংকর হয়ে ওঠে ফরাসিরা। ৫৩তম মিনিটে ওলিসের নিখুঁত পাস থেকে ব্যবধান দ্বিগুণ করেন বারকোলা। এরপর ৭৪তম মিনিটে ওলিসের আরেকটি অ্যাসিস্ট থেকে নিজের দ্বিতীয় ও দলের তৃতীয় গোলটি করেন এমবাপ্পে।
ব্যবধান আরও বড় হতে পারত। প্রথমার্ধে এমবাপ্পে ও ওলিসের একটি করে শট পোস্টে লাগে। এ ছাড়া সুইডেনের গোলরক্ষক ইয়াকুব ভিদেল জেততেরস্ত্রুম একাই ৯টি গুরুত্বপূর্ণ সেভ করেন। গোল না পেলেও দুটি অ্যাসিস্ট করে ম্যাচের অন্যতম সেরা পারফরমার ছিলেন ওলিসে।
বিশ্বকাপের ইতিহাসে প্রথম দল হিসেবে টানা পাঁচ ম্যাচে অন্তত তিনটি করে গোল করার কীর্তি গড়েছে ফ্রান্স।ম্যাচের পরিসংখ্যানেও ছিল ফ্রান্সের পূর্ণ আধিপত্য। ৬১ শতাংশ সময় বলের দখল রেখে তারা মোট ২৫টি শট নেয়, যার ১২টি ছিল লক্ষ্যে। অন্যদিকে সুইডেনের ৮টি শটের মধ্যে মাত্র ৩টি লক্ষ্যে ছিল।
গ্রুপ পর্বের প্রথম দুই ম্যাচে দুটি করে গোল করেছিলেন এমবাপ্পে। শেষ ম্যাচে গোল না পেলেও করেছিলেন দুটি গোলে সহায়তা। নকআউট পর্বের শুরুতেই আবার জোড়া গোল করে রেকর্ডের খাতায় নাম লেখান ২৭ বছর বয়সী এই ফরোয়ার্ড।
বিশ্বকাপের নকআউট পর্বে নিজের গোলসংখ্যা ১০-এ উন্নীত করে ব্রাজিলের লেওনিদাস ও রোনালদোকে, যাদের দুজনেরই গোলসংখ্যা ৮, পেছনে ফেলেছেন এমবাপ্পে। একই সঙ্গে বিশ্বকাপে মোট ১৮ গোল নিয়ে জার্মান কিংবদন্তি মিরোস্লাভ ক্লোসাকে, যার গোলসংখ্যা ১৬, ছাড়িয়ে ইতিহাসের দ্বিতীয় সর্বোচ্চ গোলদাতা হয়েছেন তিনি। তার সামনে এখন আছেন শুধু লিওনেল মেসি, যার গোল ১৯টি।
চলতি বিশ্বকাপেও সর্বোচ্চ গোলদাতার তালিকায় মেসির পাশে উঠে এসেছেন এমবাপ্পে। দুজনেরই গোল এখন ৬টি করে।ম্যাচের তৃতীয় মিনিটে প্রথম সুযোগটি পেয়েছিল সুইডেন। আলেকসান্দার ইসাকের দুর্বল শট সহজেই আটকে দেন ফরাসি গোলরক্ষক। এরপর ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ পুরোপুরি নিজেদের হাতে নেয় ফ্রান্স।
১৫তম মিনিটে লুকা জিনিয়ার শট ঠেকিয়ে দেন সুইডেনের গোলরক্ষক। ২০তম মিনিটে এমবাপ্পে বল জালে পাঠালেও অফসাইডের কারণে গোলটি বাতিল হয়। ৩০ ও ৩২তম মিনিটে আদ্রিয়াঁ রাবিও এবং এমবাপ্পে গোলের দারুণ সুযোগ পেলেও ব্যবধান গড়া সম্ভব হয়নি। ৩৬তম মিনিটে ওলিসের অসাধারণ বাইসাইকেল কিক পোস্টে লেগে ফিরে আসে।
৪৪তম মিনিটে কর্নার থেকে তৈরি আক্রমণে দেম্বেলে ও ওলিসের সমন্বয়ের পর গোল করেন এমবাপ্পে। গোল করার পর তিনি ছুটে গিয়ে ডাগআউটে কোচ দিদিয়ের দেশঁকে জড়িয়ে ধরেন। মায়ের শেষকৃত্যে যোগ দিতে দেশে ফেরায় গ্রুপ পর্বের শেষ ম্যাচে ডাগআউটে ছিলেন না ২০১৮ বিশ্বকাপজয়ী এই কোচ।
দ্বিতীয়ার্ধে আরও দুটি গোল করে জয় নিশ্চিত করে ফ্রান্স। নির্ধারিত সময়ের পাঁচ মিনিট আগে এমবাপ্পে ও ওলিসেকে একসঙ্গে তুলে নেন দেশঁ। শেষ দিকে দুটি শট লক্ষ্যে রাখতে পারলেও ফরাসি গোলরক্ষক মাইক মিয়াঁকে পরাস্ত করতে পারেনি সুইডেন।কোয়ার্টার-ফাইনালে ওঠার লড়াইয়ে প্যারাগুয়ের মুখোমুখি হবে ফ্রান্স।
















