• Home
  • খেলা
  • শেষ মুহূর্তের গোলে জাপানকে কাঁদিয়ে শেষ ষোলোয় ব্রাজিল
Image

শেষ মুহূর্তের গোলে জাপানকে কাঁদিয়ে শেষ ষোলোয় ব্রাজিল

ক্রীড়া ডেস্ক: প্রথমার্ধে ছন্দ খুঁজে ফেরা ব্রাজিলকে চমৎকার এক গোলে হতবাক করে দেন কাইশু সানো। জবাবে প্রতিপক্ষের ওপর চাপ ধরে রাখলেও অগোছালো আক্রমণে জাপানের রক্ষণ ভাঙতেই পারছিলেন না ভিনিসিউস জুনিয়র, মাতেউস কুইয়া ও সতীর্থরা। বিরতির পর দ্রুতই পাল্টে যায় দৃশ্যপট। একটি গোলের দেখা পায় ব্রাজিল। তবে দ্বিতীয় গোলের অপেক্ষা শেষ হয় যোগ করা সময়ের শেষদিকে। দারুণ এক আক্রমণ থেকে গাব্রিয়েল মার্তিনেল্লির গোলে উচ্ছ্বাসে ভাসে পাঁচবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়নরা।

হিউস্টনে সোমবার শেষ বত্রিশের রোমাঞ্চকর ম্যাচটি ২-১ ব্যবধানে জিতে বিশ্বকাপে টিকে রইল ব্রাজিল। প্রথমার্ধে পিছিয়ে পড়া দলকে সমতায় ফেরান কাসেমিরো, আর শেষ সময়ে জয়সূচক গোল করেন মার্তিনেল্লি।

প্রথমার্ধে ব্রাজিলকে একেবারেই চেনা যায়নি। বল দখল ও আক্রমণে আধিপত্য থাকলেও জাপানের জমাট রক্ষণ ভাঙতে পারেনি তারা। অন্যদিকে শুরু থেকেই ঘর সামলে পাল্টা আক্রমণের কৌশল নেয় জাপান। সম্মিলিত রক্ষণে দুর্দান্ত শৃঙ্খলা দেখায় এশিয়ার দলটি।

তবে নকআউট পর্বের শুরুর বাধা এবারও কাটাতে পারল না জাপান।ম্যাচে ৬৫ শতাংশের বেশি সময় বলের দখল ছিল ব্রাজিলের। গোলের উদ্দেশে ১৯টি শট নিয়ে সাতটি লক্ষ্যে রাখতে পারে তারা। জাপান পাঁচটি শট নিয়ে দুটি লক্ষ্যে রাখতে সক্ষম হয়।

প্রথম ১০ মিনিটে প্রতিপক্ষের ওপর একচেটিয়া চাপ ধরে রাখে ব্রাজিল। সরাসরি আক্রমণের কৌশল নিলেও নিচে নেমে সংগঠিত রক্ষণ গড়ে তোলে জাপান। ফলে বিপজ্জনক হয়ে উঠতে পারেনি ব্রাজিল।

এরপর ধীরে ধীরে পাল্টা আক্রমণে মনোযোগ দেয় জাপান। প্রথম ২৫ মিনিটে ব্রাজিল চারটি ও জাপান একটি শট নিলেও কোনোটিই লক্ষ্যে ছিল না।

হাইড্রেশন বিরতির পরই ম্যাচের মোড় ঘুরে যায়। মাঝমাঠে প্রতিপক্ষের ভুল পাস কেটে গতিতে কাসেমিরোকে পেছনে ফেলে এগিয়ে যান কাইশু সানো। এরপর বক্সের বাইরে থেকে দুর্দান্ত শটে দলকে এগিয়ে দেন এই রক্ষণাত্মক মিডফিল্ডার।জাতীয় দলের হয়ে এটিই ছিল সানোর প্রথম গোল, সেটাও সবচেয়ে বড় মঞ্চে। ম্যাচে এটিই ছিল লক্ষ্যে প্রথম শট।

গোল হজমের পরও ঘুরে দাঁড়াতে পারেনি ব্রাজিল। প্রথমার্ধে তাদের প্রতিটি আক্রমণই ছিল ধারহীন। বলের দখল ধরে রাখলেও জাপানের রক্ষণ ভাঙার মতো সৃজনশীলতা দেখাতে পারেননি ভিনিসিউস জুনিয়র, মাতেউস কুইয়া কিংবা কাসেমিরো।

আক্রমণে গতি আনতে দ্বিতীয়ার্ধের শুরুতেই লুকাস পাকেতার বদলে এন্দ্রিককে নামান কার্লো আনচেলত্তি। পাঁচ মিনিটের মধ্যেই ডান দিক দিয়ে আক্রমণে প্রাণ ফেরান এই তরুণ ফরোয়ার্ড।

৫৫তম মিনিটে সমতায় ফেরার দারুণ সুযোগ পেয়েছিল ব্রাজিল। ছয় গজ বক্স থেকে কাসেমিরোর হেড গোলরক্ষকের মাথায় লেগে গোললাইন বরাবর ডিফেন্ডার তোমিয়াসুর শরীরে লাগে। পরে আরেক ডিফেন্ডার ইতো দ্রুত বিপদমুক্ত করেন দলকে।

তবে পরের মিনিটেই সমতায় ফেরে ব্রাজিল। ভিনিসিউসের কাটব্যাক থেকে বল পেয়ে গাব্রিয়েল মাগালাইস ছয় গজ বক্সে কাসেমিরোর উদ্দেশে নিখুঁত ক্রস বাড়ান। এবার হেডে কোনো ভুল করেননি অভিজ্ঞ মিডফিল্ডার।

৬০তম মিনিটে এগিয়ে যাওয়ার সুযোগও পেয়েছিল ব্রাজিল। কিন্তু ভিনিসিউসের শট গোলরক্ষকের হাতে লেগে দূরের পোস্টে আঘাত করে ফিরে আসে।

সমতায় ফেরার পর জাপান আবারও আক্রমণে মনোযোগ দিলেও সময় গড়ানোর সঙ্গে সঙ্গে ম্যাচ অতিরিক্ত সময়ে যাবে বলেই মনে হচ্ছিল। দুই কোচই তখন হয়তো সেই প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন।

কিন্তু যোগ করা ছয় মিনিটের পঞ্চম মিনিটে বদলে যায় সব হিসাব। ডান দিক দিয়ে গড়ে ওঠা আক্রমণে কয়েকজন সতীর্থের পা ঘুরে ব্রুনো গিমারেসের পাস বক্সে দুই ডিফেন্ডারের মাঝখানে পান গাব্রিয়েল মার্তিনেল্লি। আর্সেনাল ফরোয়ার্ড কোনাকুনি শটে বল জালে জড়িয়ে নিশ্চিত করেন ব্রাজিলের জয়।

বিশ্বকাপে এটিই মার্তিনেল্লির প্রথম গোল। জাতীয় দলের হয়ে ২৫ ম্যাচে এটি তার পঞ্চম গোল।

এই হারের মধ্য দিয়ে আরও একবার বিশ্বকাপের নকআউট পর্বে হতাশার গল্প লিখল জাপান। পাঁচবার নকআউটে উঠে প্রতিবারই প্রথম ধাপ থেকেই বিদায় নিতে হলো তাদের। আগের চারবার শেষ ষোলো থেকে ছিটকে গেলেও এবার বিদায় নিতে হলো শেষ বত্রিশ থেকেই।

Related Posts

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

ENGLISH »