• Home
  • দেশ
  • আন্তর্জাতিক ক্বারী আবু রায়হানের ওপর দুর্বৃত্তদের হামলা
Image

আন্তর্জাতিক ক্বারী আবু রায়হানের ওপর দুর্বৃত্তদের হামলা

সিনিয়র রিপোর্টার: আসাদুজ্জামান-আন্তর্জাতিক ক্বিরাত সংস্থা বাংলাদেশের সভাপতি, বিচারক, বাংলাদেশ বেতারের প্রধান ক্বারী, লালবাগ শাহী মসজিদের পেশ ইমাম ও খতিব এবং জামিয়া কুরআনিয়া আরাবিয়া লালবাগ, ঢাকার সিনিয়র মুদাররিস আল্লামা ক্বারী আবু রায়হানের ওপর সংঘটিত হামলার প্রতিবাদ ও সুষ্ঠু বিচারের দাবিতে রাজধানীর পুরানা পল্টনের হোটেল খানা বাসমতিতে এক জরুরী সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়েছে।

মঙ্গলবার (২৩ জুন) রাত ৯টায় অনুষ্ঠিত সংবাদ সম্মেলনে আন্তর্জাতিক ক্বিরাত সংস্থা বাংলাদেশের মহাসচিব শায়েখ সাদ সাইফুল্লাহ মাদানী লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন।

লিখিত বক্তব্যে বলা হয়, গত রবিবার সকাল সাড়ে ৯টায় ময়মনসিংহের ফুলবাড়িয়া উপজেলার কালিবাজাইল গ্রামে স্থানীয় জামাতের কর্মী মোশাররফ ধারালো শাবল দিয়ে হামলা চালিয়ে আল্লামা ক্বারী আবু রায়হানের রানের হাড় ভেঙে দেন। বর্তমানে তিনি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন এবং তাঁর জরুরি অস্ত্রোপচারের প্রয়োজন রয়েছে।

সংবাদ সম্মেলনে অভিযোগ করা হয়, ঘটনাটি কোনো সাধারণ জমি বা সীমানাপ্রাচীর সংক্রান্ত বিরোধের ফল নয়; বরং এটি ছিল পূর্বপরিকল্পিত হামলা। বক্তারা দাবি করেন, অভিযুক্তরা দীর্ঘদিন ধরে আল্লামা ক্বারী আবু রায়হানকে বিভিন্নভাবে হুমকি ও হয়রানি করে আসছিলেন এবং হামলার পরও প্রকাশ্যে উসকানিমূলক বক্তব্য দিয়েছেন।

এ সময় পরিবার ও সংগঠনের পক্ষ থেকে অভিযোগ করা হয় যে, হামলার পর স্থানীয় থানা প্রথমদিকে মামলা বা সাধারণ ডায়েরি (জিডি) গ্রহণে অনীহা দেখায়। হাসপাতালের চিকিৎসা প্রতিবেদন, ছবি ও ভিডিও উপস্থাপন করার পরও দ্রুত কোনো কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি বলেও তারা দাবি করেন।

বক্তারা আরও অভিযোগ করেন, অভিযুক্তদের রাজনৈতিক প্রভাবের কারণে ঘটনাটি ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা করা হয়েছিল। পরে বিষয়টি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপকভাবে আলোচিত হলে প্রশাসন সক্রিয় হয় এবং মূল অভিযুক্তকে আটক করা হয়।

সংবাদ সম্মেলনে বক্তারা বলেন, “একজন প্রবীণ আলেমের ওপর এমন নৃশংস হামলার সুষ্ঠু বিচার নিশ্চিত করা রাষ্ট্রের দায়িত্ব। কোনো রাজনৈতিক পরিচয় বা প্রভাবের কারণে অপরাধীদের ছাড় দেওয়া হলে তা ন্যায়বিচারের পরিপন্থী হবে।”

সংবাদ সম্মেলন থেকে তিন দফা দাবি উত্থাপন করা হয়। দাবিগুলো হলো—

১. মূল হামলাকারী মোশাররফ ও আলমসহ ঘটনার সঙ্গে জড়িত সকল ব্যক্তির দ্রুত গ্রেপ্তার এবং দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করা।

২. ময়মনসিংহের ফুলবাড়িয়া উপজেলার কালিবাজাইল গ্রামে অবস্থানরত ক্বারী আবু রায়হানের পরিবার, বিশেষ করে তাঁর ভাইয়ের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা।

৩. ঘটনার পর পুলিশ প্রশাসনের ভূমিকা এবং মামলা গ্রহণে প্রাথমিক অনীহার বিষয়ে নিরপেক্ষ তদন্ত করা।

সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন আন্তর্জাতিক ক্বিরাত সংস্থা বাংলাদেশের নির্বাহী সভাপতি মাওলানা সালাহউদ্দিন জাহাঙ্গীর, হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশের যুগ্ম মহাসচিব মাওলানা মীর ইদরিস, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের সরকারি মহাসচিব মাওলানা আহমদ আব্দুল কাইয়ুম, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের যুগ্ম মহাসচিব মাওলানা এনামুল হক মুসা, জমিয়তে উলামায়ে ইসলাম বাংলাদেশের কেন্দ্রীয় প্রচার সম্পাদক মুফতি ইমরানুল বারী সিরাজী, খেলাফত মজলিসের কেন্দ্রীয় নেতা অ্যাডভোকেট শায়খুল ইসলাম, আন্তর্জাতিক ক্বিরাত সংস্থা বাংলাদেশের সাংগঠনিক সম্পাদক মাওলানা মুহাম্মদ ইউসুফ, যুগ্ম মহাসচিব মাওলানা ক্বারী মাসউদুর রহমান, সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক মুফতি জিয়াউর রহমান, কেন্দ্রীয় দপ্তর সম্পাদক সুলাইমান নোমান তাফহীম ,কেন্দ্রীয় সদস্য আসাদুজ্জামান,মাওলানা সালমান রহমান, ক্বারী লুৎফুর রহমান, মাওলানা মাহফুজুর রহমান ও মুফতি আব্দুল কাইয়ুম মোল্লা, মাওলানা মামুন চৌধুরীসহ বিভিন্ন ইসলামী সংগঠনের নেতৃবৃন্দ।

সংবাদ সম্মেলনে বক্তারা দেশবাসী, প্রশাসন ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের প্রতি দ্রুত ও নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে হামলার সুষ্ঠু বিচার নিশ্চিত করার আহ্বান জানান।অন্যথায় ওস্তাদের অসংখ্য ছাত্র, শুভাকাঙ্ক্ষী বৃন্দ আরো কঠোর কর্মসূচি দিতে বাধ্য হবে। যা পরবর্তীতে জানিয়ে দেয়া হবে।

Related Posts

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

ENGLISH »