যুক্তরাজ্যের ডাউনিং স্ট্রিটে গত এক দশকে একের পর এক প্রধানমন্ত্রী বদল হলেও অপরিবর্তিত রয়েছে একটি পরিচিত মুখ—বিড়াল ‘ল্যারি’। ১০ নম্বর ডাউনিং স্ট্রিটের ‘চিফ মাউসার’ হিসেবে দায়িত্ব পালন করা এই বিড়ালটি ছয়জন প্রধানমন্ত্রীকে বিদায় নিতে দেখেছে, কিন্তু নিজ অবস্থানে এখনো অটল রয়েছে।
সোমবার প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমার পদত্যাগের ঘোষণা দেওয়ার পরও ১৯ বছর বয়সী ল্যারির দায়িত্বে কোনো পরিবর্তন আসছে না। খুব শিগগিরই ডাউনিং স্ট্রিটে সপ্তম প্রধানমন্ত্রীকে স্বাগত জানাবে এই বিখ্যাত বিড়ালটি।
২০১১ সালে লন্ডনের ব্যাটারসি ডগস অ্যান্ড ক্যাটস হোম থেকে উদ্ধার করে ল্যারিকে ডাউনিং স্ট্রিটে আনা হয়। ইঁদুর দমনে তার দক্ষতার কারণে তাকে ‘চিফ মাউসার’ হিসেবে দায়িত্ব দেওয়া হয়। এরপর থেকে সে ডেভিড ক্যামেরন, টেরিসা মে, বরিস জনসন, লিজ ট্রাস, ঋষি সুনাক এবং কিয়ার স্টারমারের সময়কাল প্রত্যক্ষ করেছে।
এই দীর্ঘ সময়ে ল্যারি শুধু রাজনীতির কেন্দ্রেই নয়, আন্তর্জাতিক অঙ্গনেও পরিচিত মুখ হয়ে উঠেছে। সাবেক মার্কিন প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা এবং ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কিসহ বিভিন্ন বিশ্বনেতার সঙ্গে তার সাক্ষাৎ হয়েছে। এমনকি ডাউনিং স্ট্রিটে একটি শিয়াল তাড়িয়ে দিয়ে সে আলোচনায় আসে।
বর্তমানে স্টারমারের আনা বিড়ালছানা ‘প্রিন্স’-এর কারণে কিছুটা প্রতিযোগিতার মুখে পড়লেও প্রশাসনিক অস্থিরতার মধ্যেও ল্যারি নিজের অবস্থান ধরে রেখেছে।
স্কটিশ সেক্রেটারি ইয়ান মারে এক অনুষ্ঠানে রসিকতা করে ল্যারিকে ‘একগুঁয়ে’ ও ‘মনমরা প্রাণী’ বলে মন্তব্য করেন। তবে সমালোচনা বা বয়স—কোনোটাই ল্যারির ডাউনিং স্ট্রিটে অবস্থানকে প্রভাবিত করতে পারেনি।
রাজনৈতিক পরিবর্তনের ঝড়েও ল্যারি এখনো ডাউনিং স্ট্রিটের একমাত্র স্থায়ী প্রতীক হিসেবে থেকে গেছে।












