রাজধানীর রামপুরায় দুর্বৃত্তদের গুলিতে আহত এক সময়ের শীর্ষ সন্ত্রাসী ইয়াসিন খান পলাশ ওরফে কাইল্লা পলাশ (৫০) চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা গেছেন। প্রায় ২৫ বছর কারাভোগের পর স্বাভাবিক জীবনে ফেরার চেষ্টা করলেও শেষ পর্যন্ত তা আর সম্ভব হলো না তার।
শুক্রবার (২০ জুন) রাত পৌনে ১টার দিকে রাজধানীর ভাটারা এলাকার একটি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়।
এর আগে গত ১২ জুন জুমার নামাজ শেষে বাসায় ফেরার পথে রামপুরা টিভি সেন্টারের বিপরীত পাশে মক্কি মসজিদ গলির মুখের প্রধান সড়কে দুর্বৃত্তদের গুলির শিকার হন কাইল্লা পলাশ। গুরুতর আহত অবস্থায় তাকে প্রথমে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।
ঢামেকে চিকিৎসকরা অস্ত্রোপচারের মাধ্যমে তার মাথা থেকে গুলির অংশবিশেষ বের করেন। এরপর থেকে তিনি হাসপাতালের নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে (আইসিইউ) চিকিৎসাধীন ছিলেন। পরে ১৫ জুন তাকে ভাটারার একটি হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়। সেখানেই চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়।
পরিবারের সদস্যরা জানান, প্রায় ২৫ বছর কারাভোগের পর দেড় মাস আগে কাশিমপুর কেন্দ্রীয় কারাগার থেকে মুক্তি পান কাইল্লা পলাশ। মুক্তির পর তিনি অধিকাংশ সময় বাসাতেই কাটাতেন এবং অপরাধ জগতে আর না ফেরার অঙ্গীকার করেছিলেন।
কারা সূত্রে জানা গেছে, একটি মামলায় তার ৩০ বছরের কারাদণ্ড হয়েছিল। তবে কারাগারে দীর্ঘ সময় ভালো আচরণের কারণে কারাবিধি অনুযায়ী ধাপে ধাপে সাজা কমে যায়। ফলে প্রায় ২৫ বছর কারাভোগের পর তিনি মুক্তি লাভ করেন।
কাশিমপুর হাই সিকিউরিটি কেন্দ্রীয় কারাগারের এক কর্মকর্তা জানান, দীর্ঘ কারাজীবনে কাইল্লা পলাশকে বিভিন্ন সময় কাউন্সেলিং করা হয়েছে, যাতে মুক্তির পর তিনি স্বাভাবিক জীবনে ফিরে যেতে পারেন এবং পুনরায় অপরাধে না জড়ান।
তিনি আরও বলেন, মুক্তির আগে কাইল্লা পলাশ কারা কর্তৃপক্ষকে আশ্বস্ত করেছিলেন যে, তিনি আর কখনো অপরাধ জগতে ফিরবেন না। দীর্ঘ ২৫ বছরের কারাজীবন তাকে নতুনভাবে জীবন শুরু করার প্রেরণা দিয়েছিল।
হাতিরঝিল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আসাদুজ্জামান কাইল্লা পলাশের মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

















