• Home
  • দেশ
  • আদমদীঘিতে চাল সরবরাহের আগেই বিল উত্তোলন
Image

আদমদীঘিতে চাল সরবরাহের আগেই বিল উত্তোলন

২০০ টন চাল বরাদ্দপত্রে ইছামতি
সরবরাহ করছেন মিলার স্বপন
আদমদীঘি (বগুড়া) প্রতিনিধি: বার বার কেন উঠে আসে বগুড়ার আদমদীঘি উপজেলার বিখ্যাত মিলার সিন্ডিকেটের মূল হোতা মতিউর রহমান স্বপনের নাম। কেই এই মিলার মতিউর রহমান স্বপন? কোথায় তার খুঁটির জোড়। মিলার স্বপন ফ্যাসিস্ট আওয়ামী লীগের সময়ও অন্য মিলারদের নামে বরাদ্দ পাওয়া চাল সরবরাহের ক্ষেত্রে প্রভাব বিস্তার করে নিজেই চাল সরবরাহ করে আর্থিক সুবিধা নিয়ে বুনে গেছেন কোটিপতি। এবারও এর ব্যত্যয় ঘটেনি। চলতি বছরের শুরু থেকে তিনি উপজেলায় যুগ যুগ ধরে বন্ধ মিল গুলোর নামে তিনি সিন্ডিকেট করে শত শত টন চাল সরবরাহ করেছেন। তবে এবার নীতিমালা লঙ্ঘন করে নির্ধারিত সময়ের পর সান্তাহার সিএসডিতে চাল সরবরাহের অভিযোগ উঠেছে। একই সঙ্গে বরাদ্দপ্রাপ্ত প্রতিষ্ঠানের পরিবর্তে অন্য মিলারের মাধ্যমে ২০০ টন চাল সরবরাহের অভিযোগও পাওয়া গেছে। অভিযোগ রয়েছে, মতিউর রহমান স্বপন নামে এক মিলার সোমবার সকালে প্রথম দফায় তিন ট্রাক চাল সিএসডিতে সরবরাহ করেন। অথচ ২০০ টন চালের বরাদ্দ পাওয়া মেসার্স ইছামতি এগ্রো ফুডস এ বিষয়ে কিছুই জানে না। এদিকে চাল সরবরাহের আগেই বিল উত্তোলনের ঘটনায় ব্যাপক আলোচনা- সমালোচনা সৃষ্টি হয়েছে।

জানা যায়, গত শুক্রবার (১৮ সেপ্টেম্বর) সরকারি ছুটির দিনে মেসার্স ইছামতি এগ্রো ফুডসের নামে ২০০ টন সিদ্ধ চাল সংগ্রহের বরাদ্দ দেয় বগুড়া জেলা খাদ্য দপ্তর। বরাদ্দ অনুযায়ী ২০ সেপ্টেম্বরের মধ্যে সান্তাহার কেন্দ্রীয় খাদ্য সংরক্ষণাগারে (সিএসডি) চাল সরবরাহের শেষ সময় নির্ধারিত ছিল। কিন্তু নির্ধারিত সময় শেষ হওয়ার পরদিন ২১ সেপ্টেম্বর সকালে প্রথম দফায় তিন ট্রাক চাল সিএসডিতে প্রবেশ করে। অভিযোগ রয়েছে, মেসার্স ইছামতি এগ্রো ফুডসের নামে বরাদ্দ থাকলেও ওই চাল সরবরাহ করেন মতিউর রহমান স্বপন নামের অন্য এক মিলার। তিনটি ট্রাকে করে চালগুলো পাশের জয়পুরহাট জেলা থেকে সান্তাহারে আনা হয়েছে। শুধু তাই নয়, বরাদ্দের চালের মান নিয়েও উঠেছে প্রশ্ন। মেসার্স ইছামতি এগ্রো ফুডসের এক প্রতিনিধি দাবী করে, তাদের প্রতিষ্ঠানের নামে ২০০ টন চাল বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে এমন তথ্যই তারা জানেন না। অথচ সরবরাহের আগেই বিল উত্তোলনের অভিযোগও রয়েছে। একাধিক মিল মালিকের অভিযোগ, মতিউর রহমান স্বপন দীর্ঘদিন ধরে অন্য মিলারদের নামে বরাদ্দ পাওয়া চাল সরবরাহের ক্ষেত্রে প্রভাব বিস্তার করে আসছেন। অন্যদের নামে বরাদ্দ থাকলেও বিভিন্ন সময় তিনি নিজেই চাল সরবরাহ করে আর্থিক সুবিধা নিয়ে থাকেন। এতে প্রকৃত বরাদ্দপ্রাপ্ত মিলাররা বঞ্চিত হচ্ছেন। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক ব্যক্তি অভিযোগ করেন, খাদ্য বিভাগের সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে সখ্যের সুযোগ নিয়ে মতিউর রহমান স্বপন নিয়মনীতি উপেক্ষা করে এককভাবে প্রভাব বিস্তার করছেন। এমনকি প্রতি সপ্তাহেই অন্যের নামে বরাদ্দ করা চাল সরবরাহের সুযোগ পাওয়ার অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে। দীর্ঘদিন ধরে এমন অভিযোগ থাকলেও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ কোনো ব্যবস্থা নেয়নি বলেও অভিযোগ করেছেন তারা।

এব্যাপারে মিলার সিন্ডিকেটের মূল হোতা মতিউর রহমান স্বপনের সাথে মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে অভিযোগের বিষয়ে প্রশ্ন করতেই তিনি বলেন, সরাসরি গিয়ে কথা বলছি। পুনরায় যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তার কোনো মন্তব্য পাওয়া যায়নি।

এ বিষয়ে বগুড়া জেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক কাজী সাইফুদ্দিন জানান, ইছামতি এগ্রো ফুডসের বরাদ্দের চাল স্বপন সরবরাহ করছেন। তবে চালগুলো জয়পুরহাটের হাট থেকে আনা হয়েছে এমন তথ্য জানানো হলে তিনি বলেন, এ বিষয়ে আমার জানা নেই। ইছামতি এগ্রো ফুডসের বরাদ্দের বিষয়ে প্রতিষ্ঠানটি অবগত নয় এ কথা জানিয়ে ব্যাখ্যা জানতে চাইলে ওই কর্মকর্তা প্রশ্ন এড়িয়ে সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে দেন।

রাজশাহী আঞ্চলিক খাদ্য নিয়ন্ত্রক এসএম কায়ছার আলী জানান, এ ধরনের কার্যক্রমের কোন সুযোগ নাই। যার বরাদ্দ তাকেই সরবরাহ করতে হবে। চাল সরবরাহের আগেই বিল উত্তোলনের কোন নিয়মও নেই।

Related Posts

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

ENGLISH »