• Home
  • খেলা
  • বিশ্বকাপে আর্জেন্টিনার বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্রকারী ১০ জনের মুখোশ উন্মোচন
Image

বিশ্বকাপে আর্জেন্টিনার বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্রকারী ১০ জনের মুখোশ উন্মোচন

স্পোর্টস ডেস্ক: বিশ্বকাপের ফাইনালে স্পেনের কাছে ১-০ গোলে হারের পর আর্জেন্টিনাকে ঘিরে নতুন বিতর্ক শুরু হয়েছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অনেক সমর্থক দাবি করছেন, পুরো টুর্নামেন্টজুড়েই দলটি নানা ধরনের পক্ষপাত ও পরিকল্পিত সমালোচনার শিকার হয়েছে। এই বিতর্ককে আরও উসকে দিয়েছে আর্জেন্টিনার টেলিভিশন অনুষ্ঠান তোদো নতিসিয়াস। অনুষ্ঠানটি সম্প্রতি আর্জেন্টিনার বিরুদ্ধে ‘প্রচার’ চালানোর অভিযোগ তুলে আন্তর্জাতিক অঙ্গনের ১০ জন পরিচিত ব্যক্তির একটি তালিকা প্রকাশ করেছে। গোলডটকম

অনুষ্ঠানটির উপস্থাপক জোনাথান ফিয়ালি দাবি করেন, বিশ্বকাপ চলাকালে এবং বিশেষ করে ফাইনালের আগে ও পরে বিভিন্ন দেশের প্রভাবশালী ব্যক্তি আর্জেন্টিনা ও তাদের খেলোয়াড়দের বিরুদ্ধে নেতিবাচক মন্তব্য করেছেন। তার ভাষ্য, এসব মন্তব্য শুধু সমালোচনার মধ্যে সীমাবদ্ধ ছিল না; বরং সেগুলো আন্তর্জাতিক পরিসরে আর্জেন্টিনার ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করার চেষ্টা।

তালিকার শীর্ষে রাখা হয়েছে মিসরের কোচ হোসাম হাসানকে। শেষ ষোলোতে আর্জেন্টিনার কাছে ৩-২ গোলে হেরে বিদায়ের পর তিনি এক সাক্ষাৎকারে আন্তর্জাতিক ফুটবল কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে পক্ষপাতের অভিযোগ তুলেছিলেন। তার দাবি ছিল, মিসর একটি পেনাল্টি থেকে বঞ্চিত হয়েছে এবং তাদের একটি বৈধ গোল বাতিল করা হয়েছে। তিনি প্রশ্ন তুলেছিলেন, লিওনেল মেসিকে আরও এগিয়ে নিতে বা বাণিজ্যিক স্বার্থ রক্ষার জন্য এমন সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে কি না।

ব্রিটিশ গণমাধ্যম ব্যক্তিত্ব পিয়ার্স মরগানও ওই তালিকায় স্থান পেয়েছেন। তিনি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে আর্জেন্টিনার খেলোয়াড়দের আচরণের কঠোর সমালোচনা করে লিখেছিলেন, বিশেষ করে লিয়ান্দ্রো পারেদেসের আচরণ ছিল অগ্রহণযোগ্য। তার মতে, দলটির আচরণ ফুটবলের জন্য লজ্জাজনক। জবাবে তোদো নতিসিয়াস এর উপস্থাপক বলেন, একজন ইংরেজ সাংবাদিকের কাছ থেকে এমন মন্তব্যকে তারা গ্রহণযোগ্য মনে করেন না।

তালিকায় আছেন হলিউড অভিনেতা স্যামুয়েল এল. জ্যাকসনও। অনুষ্ঠানের দাবি, আর্জেন্টিনাকে বিশ্বের অন্যতম বর্ণবাদী দেশ হিসেবে উল্লেখ করায় তাকে ‘আর্জেন্টিনা বিরোধী’ অবস্থান নেয়া ব্যক্তিদের তালিকায় রাখা হয়েছে।

ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদোর সমর্থক হিসেবে পরিচিত জনপ্রিয় কনটেন্ট নির্মাতা আইশো স্পিডও এই তালিকায় রয়েছেন। স্পেনের বিশ্বকাপ জয়ের পর তার উচ্ছ্বাস প্রকাশ এবং আর্জেন্টাইন সমর্থকদের সঙ্গে অনলাইনে ও সরাসরি বাকবিতণ্ডার ঘটনাকে অনুষ্ঠানে আর্জেন্টিনাবিরোধী আচরণ হিসেবে তুলে ধরা হয়।

এ ছাড়া তালিকায় নিউইয়র্কের মেয়র জোহরান মামদানি, মেক্সিকোর প্রেসিডেন্ট ক্লাউদিয়া শেইনবাউম, স্প্যানিশ সংগীতশিল্পী রোসালিয়া এবং চিলির অভিনেতা পেদ্রো পাসকালের নামও রয়েছে। যদিও তাদের প্রত্যেকের মন্তব্য বা অবস্থান নিয়ে অনুষ্ঠানে পৃথকভাবে বিস্তারিত ব্যাখ্যা দেয়া হয়নি।

তোদো নতিসিয়াস-এর এই প্রতিবেদন প্রকাশের পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক আলোচনা শুরু হয়েছে। একাংশের মতে, বিশ্বকাপজুড়ে আর্জেন্টিনাকে ঘিরে যে সমালোচনা হয়েছে, তার একটি চিত্রই তুলে ধরেছে অনুষ্ঠানটি। তবে সমালোচকদের দাবি, বিভিন্ন ব্যক্তির ভিন্নমত বা মন্তব্যকে একটি সমন্বিত ‘ষড়যন্ত্র’ হিসেবে উপস্থাপন করা বাস্তবতার অতিরঞ্জিত ব্যাখ্যা। তাদের মতে, খেলাধুলায় সমালোচনা ও মতভেদ স্বাভাবিক বিষয়, আর সেটিকে পরিকল্পিত প্রচারণা হিসেবে দেখানো বিতর্ককে আরও উসকে দিতে পারে।

Related Posts

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

ENGLISH »