প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান জনগণের কষ্ট লাঘব করাকে বড় করে দেখছেন বলে মন্তব্য করেছেন তার রাজনৈতিক উপদেষ্টা ও বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী।
তিনি বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী নিরন্তর প্রচেষ্টার মধ্য দিয়ে তার নির্বাচনী অঙ্গীকার বাস্তবায়নে নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছেন। বাজেটে জনস্বার্থকে সবচেয়ে বড় করে দেখছেন। কৃষি, স্বাস্থ্য খাতসহ যেসব প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন, তা বাস্তবায়নে কোনো ধরনের কমতি বা ঘাটতি নেই। প্রতিনিয়ত তিনি মনিটরিং করছেন।’
শুক্রবার (০৩ জুলাই) বিকেলে ঢাকেশ্বরী মন্দিরে ‘শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের ৪৫তম শাহাদাতবার্ষিকী উপলক্ষে প্রার্থনা ও আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে রিজভী এসব কথা বলেন তিনি। সভার আয়োজন করে হিন্দু, বৌদ্ধ, খ্রিস্টান ও নৃ-গোষ্ঠী সম্প্রদায়।
প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা বলেন, ‘বাজেটে বাৎসরিক আয় চার লাখ টাকা পর্যন্ত কোনো আয়কর দিতে হবে না। ক্ষুদ্র ও মাঝারি দোকানগুলোতে প্রথমে করের প্রস্তাব করা হলেও তা প্রত্যাহার করা হয়েছে। ১২ কেজির গ্যাস সিলিন্ডার দাম ৩৫৭ টাকা কমানো হয়েছে।’
ছাত্র-জনতার আন্দোলনের মধ্য দিয়ে আমরা মুক্ত পরিবেশ পেয়েছি বলে মন্তব্য করে তিনি বলেন, ‘মুক্ত পরিবেশে নির্বিধায় কথা বলার স্বাধীনতা নিশ্চিত হয়েছে। সত্যিকার অর্থে জনগণের ভোটাধিকার, একটি অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচনের মধ্যে দিয়ে জবাবদিহিমূলক একটি সরকার নিশ্চিত হয়েছে।’
সব ধর্মের মানুষের প্রতি দৃষ্টি আকর্ষণ করে রিজভী বলেন, ‘আমরা একই ভূখণ্ডের মানুষ ও জনগোষ্ঠী। আমাদের স্বাধীন সত্তা বিনির্মাণের জন্য একসঙ্গে লড়াই ও আত্মত্যাগ করা মানুষ আমরা। হিন্দু, মুসলমান, বৌদ্ধ, খ্রিষ্টান, চাকমা, ত্রিপুরা—সবাই মিলে এই ভূখণ্ডের অস্তিত্ব, স্বাধীনতা এবং অর্থনৈতিক বিকাশের জন্য একসঙ্গে লড়াই করেছে। অথচ বার বার একটি বিভাজনের রেখা তৈরি করার চেষ্টা করা হয়েছে—‘ওরা’ আর ‘আমরা’। কিন্তু এই ধরনের বিভাজন বা সংকট তৈরি বাংলাদেশের মাটিতে কখনো সম্ভব নয়। এই জাতি কখনো কোনো জাতীয়, আন্তর্জাতিক বা বৈদেশিক চক্রান্তের কাছে মাথা নত করেনি।’
প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক উপদেষ্টা বলেন, ‘শেখ হাসিনার কাছে হিন্দু-মুসলমান বা ধর্ম বড় ছিল না; তার কাছে বড় ছিল তার পরিবার এবং দল। দলের না হলে হিন্দু ধর্মালম্বী মানুষও শেখ হাসিনার নিপিড়নের শিকার হয়েছে।’
তিনি আরও বলেন, ‘চব্বিশের জুলাই আন্দোলনে সবাই মিলে দাঁড়িয়েছিলাম। সেদিন হিন্দুও গুলি খেয়েছে, খ্রিষ্টানও গুলি খেয়েছে। আশা করি, আমাদের এই পরস্পরের মধ্যকার ভ্রাতৃত্ববোধ কেউ নষ্ট করতে পারবে না। আমরা আমাদের এই স্বাধীন সত্তাকে রক্ষা করার জন্য কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে একসঙ্গে কাজ করে যাব। একসঙ্গে লড়াই করব, একসঙ্গে বিনির্মাণ করব, আবার প্রয়োজনে একসঙ্গে প্রতিরোধ করব।’
এসময় আরও উপস্থিত ছিলেন প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ সহকারী বিজন কান্তি সরকার, বিএনপি সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক জয়ন্ত কুমার কুন্ডু, স্বেচ্ছাসেবক দলের সহ সভাপতি ডা. জাহিদুল কবির, ছাত্রদলের সহ-সভাপতি ডা. তৌহিদুর রহমান আউয়াল সহ হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিস্টান ও নৃগোষ্ঠীর সম্প্রদায়ের নেতারা।













