আদমদীঘি (বগুড়া) প্রতিনিধিঃ কখনো প্রধানমন্ত্রীর নিকট আত্মীয়, কখনো জেলা জজ, কখনো হজ্ব এজেন্সির মালিক আবার কখনো এমবিবিএস ডাক্তার পরিচয় দানকারী হাফেজ রুহুল আমিন (৩৬) নামের এক কথিত প্রতারক জীনের বাদশা স্থানীয় জনতার হাতে আটক হওয়ার ঘটনা ঘটেছে। এদিকে কথিত ওই প্রতারক জীনের বাদশা রুহুল আমিনকে জনতা হাতেনাতে আটক করলেও এখনো পর্যন্ত রহস্যজনক ভাবে পুলিশের হাতে সোর্পদ্দ করা হয়নি। তাকে জামাই আদরে রাখা হয়েছে উপজেলা সদরের সিয়াম আবাসিক হোটেলের একটি কক্ষে। চাঞ্চল্যকর বিষয় হলো প্রতারক হাফেজ রুহুল আমিন মাননীয় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান সহ একাই সে ১০ জনের কন্ঠ নকল করে কথা বলতে পারে। ওই কথিত প্রতারক হাফেজ রুহুল আমিন সিরাজগঞ্জ জেলার তাড়াশ উপজেলার গোন্তা গ্রামের হাফিজুল রহমানের ছেলে।
জানা যায়, কথিত জীনের বাদশা হাফেজ রুহল আমিন দীর্ঘ প্রায় ৬ মাস যাবৎ বগুড়া জেলার আদমদীঘি উপজেলা সদরের সিয়াম আবাসিক হোটেলের একটি রুম ভাড়া করে রাত্রি যাপন করে আসছে। তিনি মাঝে মধ্যে ফেরি করে আতর, সুরমা ব্যবসার আড়ালে এ ধরনের প্রতারনা চালিয়ে যাচ্ছে। এরই মধ্যে পরিচয় ঘটে আদমদীঘি উপজেলা সদরের বিস্মিল্লাহ হোটেলের সামনে পান দোকানী ও শিয়ালশন গ্রামের মৃত রশিদ কাজীর ছেলে জাকির হোসেনের সাথে। প্রতারক রুহুল আমিন পান দোকানী জাকিরের সাথে পরিচয় হওয়ার পর থেকে জাকির তাকে জামাই আদরেই আবাসিক হোটেল ও তার দোকানে রাখে। এমনকি তার যখন যা প্রয়োজন তাও ভুক্তভোগী পান দোকানী জাকির হোসেন মেটায়। কিন্তু কে জানে প্রতারক হাফেজ রুহুল আমিনের মনে কথা? এর মাঝে বেশ কিছুদিন অতিবাহিত হলে জাকির হোসেনের পরিবারের সকলের সাথেও ঘনিষ্ঠতা বাড়ে হাফেজ প্রতারক রুহুল আমিনের। সে পান দোকানী জাকিরের দুই ছেলেকে লন্ডন পাঠাবে এবং জাকির ও তার স্ত্রীকে হজ্ব করাবেন বলে বিভিন্ন মুখরোচক প্রতিশ্রæতি দেয়। রুহুল আমিনের প্রতারণার ব্যাপারটা ঘুনাক্ষরে টের পায়নি জাকির হোসেন ও তার পরিবারের লোকজন। এর মধ্যে জাকিরের দুই ছেলেকে লন্ডন পাঠানোর কথা ও অন্য কাজের প্রলোভনে বিভিন্ন সময়ে মোট ২ লাখ ১০ হাজার টাকা হাতিয়ে নেয় প্রতারক জীনের বাদশা হাফেজ রুহুল আমিন। এক পর্যায়ে গত ৩০ জুন মঙ্গলবার প্রতারক রুহুল আমিনকে খাসি কেটে খাওয়াবে বলে দাওয়াত করে নিয়ে যায় জাকির তার বাড়িতে। আর সেই দিন রাতে ভুড়িভোজ শেষে কথপোকথনের এক পর্যায়ে অভিনব কায়দায় বেরিয় আসে রুহুল আমিনের প্রতারণার চাঞ্চল্যকর তথ্য। এদিকে তার প্রতারণার কথা গ্রামে মুহুর্তের মধ্যে ছড়িয়ে পড়লে বিক্ষুব্ধ গ্রামবাসী রুহুল আমিনকে উত্তম মধ্যম দিয়ে থানা পুলিশকে মোবাইল ফোনে অবহিত করে। কিন্তু থানা পুলিশ কোন পদক্ষেপ গ্রহণ করেননি বলে জানান ভুক্তভোগী পরিবার। তাছাড়া জাকির হোসেনের দাবী তাকে প্রতারক রুহুল আমিন তাবিজ কবজা ও বিভিন্ন শ্রæতিমধু কথা বলে তার কাছ থেকে বিভিন্ন সময় টাকা পয়সা গুলো হাতিয়ে নেয়।
এঘটনায় সিয়াম হোটেলে গিয়ে প্রতারক রুহুল আমিনের সাথে কথা বললে তিনি ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে বলেন, আমি প্রতারণা করে জাকিরের কাছ থেকে বিভিন্ন সময় টাকা নিয়েছি এক কথা সত্য। আমি প্রতারনা করেছি, আমার প্রতারণার জন্যই আমাকে তারা আটকে রেখেছে। টাকা পরিশোধ না করা পর্যন্ত হোটেল থেকে বের হতে বারনণ করা হয়েছে। মোবাইলে আমার পরিবারের লোকজনের সাথে কথা হয়েছে তারা আসলে আমি সমস্ত টাকা ফেরত দিব বলে জানান সে।
এব্যাপারে গতকাল শুক্রবার (৩ জুলাই) ভুক্তভোগী পান দোকানী জাকির হোসেনের সাথে এ প্রতিনিধির কথা হলে তিনি জানান, প্রতারক রুহুল আমিনের সাথে আমার পরিচয় হওয়ার পর থেকে সে মাঝে মধ্যে আমার দোকানে এসে বসে আমার সাথে মিষ্টি মিষ্টি কথা বলতো। আর প্রতারক রুহুল আমিন যখন আতর সুরমা বিক্রির জন্য বাহিরে যেত তখন আমাকে একেক সময় একেক নাম্বার থেকে মোবাইল ফোন দিয়ে কখনো মাননীয় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের কন্ঠ, আবার কখনো জজ ও বড় ডাক্তার সেজে অভিনব কায়দায় আমার সাথে কথা বলতো। আমি তার প্রতারনা টের পাইনি। তবে সে আমাকে তাবিজ কবজা করে বিভিন্ন সময় আমার কাছ থেকে মোট ২ লাখ ১০ হাজার টাকা হাতিয়ে নিয়েছে। এদিকে রহুল আমিন প্রতারনা করে টাকা হাতিয়ে নেয়ার সত্যতা প্রমান হবার পরও রহস্যজনক ভাবে তাকে পুলিশে সোর্পদ না করে হোটেল সিয়ামে এখনও জামাই আদারে অবস্থান করায় এলাকার কৌতুহলী জনমনে নানা প্রশ্ন দেখা দিয়েছে।
এব্যাপারে আদমদীঘি থানার অফিসার ইনচার্জ কামরুজ্জামান মিয়া বলেন, এমন ঘটনা আমার জানা নেই। তবে অভিযোগ পেলে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে।













