ঐকমত্য কমিশনকে কোনোভাবেই গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়া বলা যায় না: সারা হোসেন

0
3

সুপ্রিম কোর্টের জ্যেষ্ঠ আইনজীবী সারা হোসেন বলেছেন, বিচারব্যবস্থা সংস্কার কমিশনে কোনো নারী আইনজীবী কিংবা বিচারপতিকে সম্পৃক্ত করা হয়নি। ঐকমত্য কমিশনে একজনও নারী সদস্য ছিলেন না। তিনি বলেন, গণভোটের তৃতীয় প্রশ্নের বিষয়ে জনগণের কোনো ধারণা ছিল না। সংস্কারের ৩০টা প্রস্তাব কী ছিল? জনগণ কিসের জন্য ভোট দিয়েছেন, সেটা তারা হয়তো জানেন না। তাই অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে গঠিত জাতীয় ঐকমত্য কমিশনকে কোনোভাবেই গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়া বলা যায় না।

সারা হোসেন বলেন, ‘এটা নির্ধারিত প্রক্রিয়া। কয়েকজনকে নিয়ে বসে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। গণতন্ত্র এখানে কোথায় ছিল? কীসের নির্বাচন, কে এসছে? বাইরে থেকে কেউ কথা বলতে পেরেছে? কেউ না।’

মঙ্গলবার জাতীয় প্রেসক্লাবে ‘বিচার বিভাগের স্বাধীনতা ও সংস্কার: সাংবিধানিক বাধ্যবাধকতা, আদালতের নির্দেশনা ও জনআকাঙ্ক্ষা’ শীর্ষক গোলটেবিল বৈঠকে সারা হোসেন এ কথা বলেন। গোলটেবিল আয়োজন করে সুশাসনের জন্য নাগরিক (সুজন)।

অনুষ্ঠানে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন আপিল বিভাগের অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতি এম এ মতিন। এতে আরও বক্তব্য দেন বিচারপতি মইনুল ইসলাম চৌধুরী, আইনজীবী ইমরান এ সিদ্দিকী, ফাহিম মাশরুর প্রমুখ। সঞ্চালনা করেন সুজন সম্পাদক ড. বদিউল আলম মজুমদার।

সারা হোসেন বলেন, আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে প্রধান বিচারপতি এস কে সিনহাকে জোর করে দেশ থেকে বের করে দেওয়া হয়েছিল। এত বছর পার হয়ে গেছে, এটি নিয়ে নাগরিক সমাজ থেকে দাবি ওঠানো হয়নি, এটার সুরাহা হোক। সে সময় কাদের ভূমিকা সেখানে ছিল, তা জানা যায়নি।

তিনি বলেন, জুলাই গণ-অভ্যুত্থান পরবর্তী সময়েও শিক্ষার্থীদের অবস্থানের মুখে সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগের বিচারকদের পদত্যাগ করতে হয়েছে। তাদের দাবির মুখে অনেক বিচারককে হঠাৎ করে বসিয়ে দেওয়া হয়েছে।

সংবিধানের পঞ্চদশ সংশোধনীর মামলায় রায় দেওয়া সাবেক প্রধান বিচারপতি এ বি এম খায়রুল হককে ‘মিথ্যাভাবে’ জুলাই হত্যা মামলায় জড়ানো হয়েছে বলে উল্লেখ করেন তিনি।

সারা হোসেন বলেন, ‘এতগুলো মাস পার হয়ে গেছে, এখন পর্যন্ত কোনো মামলার চার্জশিট নাই; যেখানে বলা হচ্ছে, জাস্টিস খাইরুল হক ওখানে দাঁড়িয়ে গুলি চালিয়েছেন অথবা গুলির নির্দেশনা দিয়েছেন।’ তিনি বলেন, ‘এটা নিয়ে নাগরিক ও সুশীল সমাজ, বার কাউন্সিল বা সুপ্রিমকোর্ট বার সমিতি-কেউ মুখ খুলছে না। সবাই চুপ করে বসে আছে।’

অন্তর্বর্তী সরকারের আমলে জারি করা সুপ্রিম কোর্ট সচিবালয় অধ্যাদেশ এবং সুপ্রিম কোর্ট বিচারক নিয়োগ অধ্যাদেশ পুনর্বহাল হওয়া উচিত বলেও মনে করেন তিনি।

NO COMMENTS

LEAVE A REPLY