নিজস্ব প্রতিবেদক: ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদে সংরক্ষিত নারী আসনে জামায়াতে ইসলামী নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় জোট থেকে ১৩ জনের মনোনয়ন জমা দেওয়া হয়েছে। আজ মঙ্গলবার জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল হামিদুর রহমান আযাদের নেতৃত্বে জোট মনোনীত প্রার্থীরা নির্বাচন কমিশনের (ইসি) সিনিয়র সচিব আখতার আহমেদের কাছে মনোনয়ন জমা দেন।
মনোনয়ন জমাদান শেষে সাংবাদিকদের হামিদুর রহমান আযাদ বলেন, ‘আমরা আশাবাদী হব, নারী আসনে যে কম্বাইন্ড তালিকা সাবমিট (জমা) করেছি, এটার মধ্যে আর কোনো প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থী থাকার সুযোগ নেই। এখানে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হওয়ার কথা। আমরা আশা করি, সেভাবেই নির্বাচনের ফলাফল আসবে।’
জামায়াত থেকে মনোনীতরা হলেন নূরুন্নিসা সিদ্দীকা, মারজিয়া বেগম, সাবিকুন নাহার মুন্নি, মারদিয়া মমতাজ, নাজমুন নাহার নীলু, মাহফুজা সিদ্দিকা, সাজেদা সামাদ ও সামসুন নাহার। এনসিপি থেকে মনোনীতরা হলেন, মনিরা শারমিন ও মাহমুদা আলম মিতু। এছাড়া জাগপার চেয়ারম্যান তাসমিয়া প্রধান, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের নারী মজলিসের সদস্য মাহবুবা হাকিম এবং জুলাই শহীদ শিশু জাবির ইব্রাহিমের মা রোকেয়া বেগমও ১১ দলীয় ঐক্য জোট থেকে মনোনীত হয়েছেন।
এই তালিকার বিষয়ে কমিশনের সঙ্গে আলাপ হয়েছে উল্লেখ করে আযাদ বলেন, ‘যেহেতু নির্বাচন সরাসরি হয়ে গেছে এবং পার্লামেন্ট চলছে, উনারা যদি টাইমলি পার্লামেন্টে যেতে পারেন, তবে জাতির যে প্রত্যাশা এবং নারী সমাজের যে বিশেষ করে প্রত্যাশা—নারী প্রতিনিধিত্ব; সেই জায়গাটাও আমরা মনে করি সঠিক সময়ে হবে।’
জামায়াতের এই সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল আশা প্রকাশ করেন, মনোনীত ১৩ জন নির্বাচিত হয়ে ১১ দলীয় ঐক্যের পক্ষ থেকে পার্লামেন্টে নারী প্রতিনিধিত্ব করবেন।
জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল বলেন, দেশের জন্য, জাতির জন্য, জনগণের স্বার্থে আইন প্রণয়নসহ সবকিছুর ক্ষেত্রে নারীরা স্বয়ংসম্পূর্ণ একজন জাতীয় সংসদের সদস্য হিসেবে সেখানে অল প্রিভিলেজ এবং পাওয়ার ফাংশন এক্সারসাইজ করবেন; সংবিধান সেই সুযোগ তাদের দিয়েছে।
সংরক্ষিত নারী আসনে মনোনীত ১৩ জন বিরোধী দলের মঞ্চে বসেই, বিরোধী দলের কাতারে বসেই দেশ গঠনে ও জাতি গঠনে ভূমিকা পালন করবেন বলেও আশা প্রকাশ করেন হামিদুর রহমান আযাদ। তিনি আরও বলেন, পার্লামেন্টে আমাদের যে ভূমিকা ও নীতি—আমরা প্রকাশ করেছি, সেটা হচ্ছে সকল ন্যায়সম্মত কাজে, জনকল্যাণকর কাজে এবং দেশের স্বার্থে আমরা জনগণের সঙ্গে ইতিবাচক ভূমিকা রাখব। এটা আমাদের বিরোধীদলীয় নেতা ডাক্তার শফিকুর রহমান, জামায়াতে ইসলামীর আমির, তিনি এটা ঘোষণা করেছেন শুরুতেই।
জামায়াতের এই নেতা বলেন, ‘যদি সরকার ভুল পথে পরিচালিত হয়, কোনো অন্যায় সিদ্ধান্ত নেয়, জনবিরোধী-গণবিরোধী সিদ্ধান্ত নেয়, সে ক্ষেত্রে আমাদের অপরাপর বিরোধীদলীয় সদস্যগণ যেমন সোচ্চার থেকে ভূমিকা পালন করবেন, আমাদের নারী সদস্যগণও একসঙ্গে বিরোধী দলের সঙ্গে যুক্ত হবেন। ৭৭ জনের সঙ্গে ১৩ জন যুক্ত হয়ে ৯০ জন বিরোধীদলীয় সদস্য একসঙ্গে ভূমিকা পালন করবেন—এই প্রত্যাশা আমরা রাখছি।’
গণভোট বিষয়ে হামিদুর রহমান আযাদ বলেন, ‘এই গণভোটের রায় অনুযায়ী সাংবিধানিক সংস্কার পরিষদ গঠন হওয়ার কথা। এটা না হওয়াতে আমরা ১১ দল একসঙ্গে সরকারের জনরায় উপেক্ষা করার প্রতিবাদে এবং এই অন্যায় কাজের প্রতিবাদে পার্লামেন্টে যেমন রোল প্লে করেছি, পার্লামেন্টের বাইরেও আমরা রাজপথে কর্মসূচি পালন করে যাচ্ছি। সে ব্যাপারে আমরা সামনেও ভূমিকা রাখব।’



