মধ্যপ্রাচ্যে বিশেষ করে ইরানকে ঘিরে চলমান যুদ্ধ পরিস্থিতি ও বৈশ্বিক বাজারে অস্থিরতার প্রভাবে দেশে সব ধরনের জ্বালানি তেলের দাম বাড়িয়েছে সরকার। শনিবার প্রতি লিটারে ১৫ থেকে ২০ টাকা পর্যন্ত মূল্য বৃদ্ধি করার ঘোষণা দেয়া হয়েছে। রোববার থেকে তা কার্যকর হয়েছে। এখন জ্বালানি তেল কিনতে বাড়তি দাম গুনতে হচ্ছে গ্রাহকদের, যা ইতোমধ্যে সাধারণ মানুষের মধ্যে নানা ধরনের প্রতিক্রিয়া তৈরি করেছে।
বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিভাগের নতুন নির্ধারিত দামে রোববার (১৯ এপ্রিল) থেকে ডিজেল, পেট্রোল, অকটেন ও কেরোসিন বিক্রি হচ্ছে। নতুন দরে প্রতি লিটার ডিজেল ১০০ টাকা থেকে বেড়ে ১১৫ টাকা, অকটেন ১২০ টাকা থেকে ১৪০ টাকা, পেট্রোল ১১৬ টাকা থেকে ১৩৫ টাকা এবং কেরোসিন ১১২ টাকা থেকে ১৩০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।
নতুন দাম কার্যকর হওয়ার পরও রাজধানীসহ বিভিন্ন এলাকায় ফিলিং স্টেশনে গ্রাহকের চাপ না কমলেও ভোক্তাদের মধ্যে উদ্বেগ ও অসন্তোষ— দুটোই দেখা গেছে।
অনেক মোটরসাইকেল চালক ও সাধারণ যাত্রীরা মনে করছেন, একবারে এত বেশি দাম বাড়ানো জীবনযাত্রার ওপর বড় ধরনের চাপ তৈরি করবে। তাদের আশঙ্কা, এর প্রভাব পরিবহন ভাড়া থেকে শুরু করে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দামে পর্যন্ত পড়বে।
আকিব নামে এক মোটরসাইকেল চালক বলেন, “অল্প অল্প করে বাড়ানো যেত, কিন্তু একবারে ২০ টাকা বাড়ানো সাধারণ মানুষের জন্য কঠিন হয়ে যাবে।”
অন্যদিকে, কিছু ভোক্তা মনে করছেন আন্তর্জাতিক বাজারের সঙ্গে সামঞ্জস্য রাখতে দাম সমন্বয় জরুরি ছিল। তাদের মতে, এতে দীর্ঘদিনের সরবরাহ জটিলতা কমতে পারে।
নোমান নামে আরেক গ্রাহক বলেন, “দাম সমন্বয় হওয়ায় হয়তো পাম্পে ভিড় কমবে এবং জ্বালানি সরবরাহ আরও স্বাভাবিক হবে।”
এদিকে পাম্প মালিক সমিতি সরকারের সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানিয়েছে। তাদের মতে, নতুন দামের ফলে বাজারে মজুতদারি কমবে এবং বিক্রিতে স্বচ্ছতা বাড়বে।
বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের মূল্য ওঠানামার কারণে সাম্প্রতিক সময়ে জেট ফুয়েল ও ফার্নেস অয়েলের দামও একাধিকবার সমন্বয় করা হয়েছে বলে জানা গেছে।



