পঞ্চগড় প্রতিনিধি: পঞ্চগড়ে বিদ্যুতের খুঁটিতে উঠে তার মেরামত করতে গিয়ে বিদ্যুৎস্পষ্ট হয়ে শাহিন আলম (৩৬) নামে এক কর্মীর মৃত্যু হয়েছে। রোববার (৫ এপ্রিল) বিকেলে পঞ্চগড় জেলা শহরের ধাক্কামারা এলাকায় এই দুর্ঘটনা ঘটে।নিহত শাহিন তেঁতুলিয়া উপজেলার বুড়াবুড়ি ইউনিয়নের বুড়াবুড়ি এলাকার জয়নুল হকের ছেলে। তার মৃত্যুর জন্য ভুক্তভোগী পরিবার ও স্থানীয়রা বিদ্যু অফিসের গাফিলতিকে দায়ী করেছেন। ঘটনার পর থেকে বিক্ষুব্ধ জনতা পঞ্চগড় নেসকোর কার্যালয়ের সামনে মহাসড়ক অবরোধ করে রাখেন।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, বিকেলে ধাক্কামারা গোলচত্বর সংলগ্ন বিদ্যুতের খুঁটিতে মই দিয়ে উঠে বিদ্যুতের লাইনে মেরামত কাজ করছিলেন শাহীন আলম। মেরামত শেষ না হতেই ওই লাইনে বিদ্যুৎ সঞ্চালন করা হলে মুহূর্তেই বিদ্যুতায়িত হয়ে তারেই ঝুলে ছটফট করতে থাকেন শাহিন।
১৭ মিনিট পর বিদ্যুৎ বন্ধ করে কর্তৃপক্ষ। খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিস তাকে নামিয়ে পঞ্চগড় আধুনিক সদর হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন। এর পরেই মহাসড়ক অবরোধ করে শুরু করেন নিহতের স্বজন ও জনতা।তবে এ বিষয়ে নেসকোর নির্বাহী প্রকৌশলী জানান, ওই লাইনে কাজ করার সময় বিদ্যুৎ লাইন বন্ধ করা হয় কিন্ত লিগেজ থেকে এই দূর্ঘটনাটি ঘটে।
বিষয়টি সমাধানের জন্য স্থানীয় প্রশাসন ও বিদ্যুৎ কর্তৃপক্ষ আলোচনায় বসেন। দীর্ঘ সময় আলোচনার পর বিদ্যুৎ অফিসে নিহত শাহিনের স্ত্রী সাদিয়া আক্তারকে চাকরি দেয়া, বিদ্যুৎ অফিস থেকে ৪০ হাজার ও উপজেলা প্রশাসন থেকে ২৫ হাজার টাকা অর্থসহায়তা ও তদন্ত করে ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাসে রাত আটটায় অবরোধ তুলে নেয় স্থানীয়রা।
পঞ্চগড় ফায়ার স্টেশনের স্টেশন অফিসার তুষার কান্তি বলেন, আমরা খবর পেয়ে দ্রুত ঘটনাস্থলে গিয়ে দেখি, কারেন্টের পিলারে একজন ব্যক্তি আটকা আছে। তিনি বিদ্যুতের লাইন ঠিক করার জন্য মূলত সেখানে উঠেছেন। আমাদের ফায়ারফাইটার সেখানে উঠে এবং উঠার পর তাকে উদ্ধার করে আমরা হাসপাতালে প্রেরণ করি। হাসপাতাল অথরিটি তাকে মৃত ঘোষণা করে।
পঞ্চগড় সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আশরাফুল ইসলাম বলেন, বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে মৃত্যুর এই ঘটনায় থানায় একটি অপমৃত্যু মামলা দায়ের করা হয়েছে এবং আইনি প্রক্রিয়া শেষে মরদেহ পরিবারের কাছে হস্তান্তরের প্রক্রিয়া চলছে।
এ ঘটনর পর জেলা প্রশাসকের নির্দেশে
পঞ্চগড় সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ফাহমিদা সুলতানা তাৎক্ষণিক ঘটনাস্থলে যান এসময় ইউএনও) বলেন, এরকম মৃত্যু কারো কাম্য নয়। আমরা তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করব। এছাড়া নিহতের পরিবারের ক্ষতিপূরণের ব্যবস্থা করা হবে।
তবে জেলা প্রশাসক শুকরিয়া পারভীন মুঠো ফোনে জানান, প্রশাসন থেকে নগদ ২৫ হাজার টাকা দেওয়া হয়েছে। নেসকো নিহতের স্ত্রীকে চাকরী এবং দুই লাখ টাকা দেওয়ার ছুটি প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন।



