স্পোর্টস রিপোর্টার: সাফ অনূর্ধ্ব-২০ ফুটবল চ্যাম্পিয়ন হওয়া বাংলাদেশের খেলোয়াড়রা দেশে ফিরে উৎসব মুডে রয়েছেন। বিমানবন্দরে এক দফা অভ্যর্থনা দিয়েছেন ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী আমিনুল হক। সেখান থেকে ছাদখোলা বাসে চড়িয়ে হাতিরঝিলে এম্ফিথিয়েটারে সংবর্ধনা দেওয়া হয়েছে। খেলোয়াড়দের জন্য ১ লাখ টাকা করে পুরস্কারও ঘোষণা করা হয়েছে।
এরপরও আজ ক্রীড়া মন্ত্রণালয় হতেও সংবর্ধনা দেওয়া হবে। বেলা ১১টায় জাতীয় ক্রীড়া পরিষদ টাওয়ারে অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়েছে। রোনান সুলিভান এসব সংবর্ধনা দেখে হাতবাক। তিনি নাকি কল্পনাও করেননি ঢাকায় এত আয়োজন হতে পারে। রোনান সংবাদমাধ্যমকে জানিয়েছেন বাংলাদেশের মানুষ তাদেরকে এত ভালোবাসবে-এটা তারা কল্পনাও করেননি। বিশেষ করে ছাদখোলা বাস দেখে বিস্মিত। যেটা তিনি দেখেছেন ইউরোপের ফুটবলে। চ্যাম্পিয়ন হয়ে দেশে ফিরলে এ ধরনের আয়োজন করা হয়।
পরশু রাতে মালদ্বীপ থেকে ঢাকায় ফিরেছেন। অনূর্ধ্ব-২০ ফুটবলাররা। গতকাল দিনভর তারা ঘুরে বেড়িয়েছেন। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্র থেকে আসা বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত ফুটবলার রোনান সুলিভান এবং ডেকলান সুলিভানকে নিয়েই যত ব্যস্ততা। এই দুজন ফুটবলারের প্রতি আগ্রহের মাত্রা বেশি। বিশেষ করে রোনান সুলিভান। তিনি পাকিস্তানের বিপক্ষে। ম্যাচ জিতিয়েছেন। জোড়া গোল করেছেন। সেটপিস থেকে হওয়া গোলটা মিলিয়ে দেখতে গেলে একবারে বিশ্বমানের গোল। ডান পায়ে বাঁক খাওয়ানো শট যেন মেসির পা থেকে গোল হলো।
যুক্তরাষ্ট্রের ফিলাডেলফিা থেকে রোনান সুলিভান এবং ডেকলান সুলিভান, আগামীকাল যুক্তরাষ্ট্রে ফিরে যাবেন। তারা আবার বাংলাদেশে আসবেন। আগামী আগস্টে এএফসি অনূর্ধ্ব-২০ ফুটবলারের বাছাই খেলা রয়েছে। তারা তখন আবার খেলবেন। তকে কবে নাগাদ অনুশীলন শুরু হবে-সেটির ওপর নির্ভর করতে দুই ভাইয়ের আসা।
সাফে রোনান সুলিভান বেশি সময় খেলেছেন। কম খেলেছেন তার ভাই ডেকলান সুলিভান। যে কারণে রোনানের নামটাই বেশি আলোচনায় এসেছে। রোনান যেভাবে নিজেকে মেলে ধরেছেন তাতে বাফুফে একটা বিষয় পরিষ্কার অবস্থানে চলে গেছে-রোনান সুলিভান জাতীয় দলের স্ট্রাইকিং পজিশনে খেলতে পারবেন। জাতীয় সিনিয়র দলে স্ট্রাইকার সংকট। রোনান সেই শূন্যতা পূরণ করতে পারবেন। সেই আস্থা অর্জন করেছেন তিনি। কারণ দেশীয় স্ট্রাইকাররা চাহিদাটা পূরণ করতে পারেননি। রোনান সেটা করতে পারবেন মনে করছে বাফুফে। রোনান সুলিভান জাতীয় দলে খেলতে চান। সুযোগ পেলে নিজের প্রতিভা দেখাবেন।
ডেকলান সুলিভানও আক্রমণভাগে খেলেছেন। তার সঙ্গে ভাই রোনানের দারুণ সমন্বয়। কিন্তু তিনি সাফে গেম টাইম পাননি। যতটুকু পেয়েছেন তাতেই ঝলক দেখিয়েছেন। সুযোগটা কাজে লাগলে ফাইনালে ভারতের বিপক্ষে টাইব্রেকিংয়ে ৪-৩ গোলে জয়ের অপেক্ষা করতে হতো না। টাইব্রেকিংয়ে শেষ শটে রোনান গোল করে চ্যাম্পিয়ন করে ছিলেন বাংলাদেশকে। ঢাকায় ২০০৩ সাফের ফাইনালে মালদ্বীপের বিপক্ষে টাইব্রেকিংয়ে শেষ শটটি করেছিলেন ডিফেন্ডার সুজন। তার গোলেই চ্যাম্পিয়ন হয় বাংলাদেশ।
শান্ত মেজাজের রোনান, সংবাদমাধ্যমকে জানিয়েছেন তিনি নিজেকে শান্ত রেখেই শট নিয়েছিলেন। ঢাকায় নেপালের বিপক্ষে হামজা চৌধুরীর শট দেখেছিলেন রোনান। সেখান থেকেই উৎসাহীত হন তিনি। ডেকলানও দুর্দান্ত এক ফুটবলার। বাফুফের ভাবনায় রয়েছে দুই ভাই আগামীতে বাংলাদেশের জার্সি গায়ে খেলবেন। তার আগে বয়সভিত্তিক ফুটবলে বাজিমাত করতে চান তারা।



