ক্রীড়া ডেস্ক: সিডনিতে চীনের সঙ্গে যতটুকু সমীহ জাগানো ফুটবল খেলেছে বাংলাদেশ, ততটুকু ভালো ফুটবল উত্তর কোরিয়া বিপক্ষে খেলতে পারেনি। তবে আফঈদা-ঋতুপর্ণাদের বিশ্বকাপ খেলার স্বপ্ন ধুলিসাৎ হয়ে যায়নি। কিন্তু এই স্বপ্নপূরণে বাংলাদেশকে পাড়ি দিতে হবে উত্তাল সাগর। যা পাড়ি দেয়ার প্রথম পদক্ষেপ হিসেবে শনিবার অস্ট্রেলিয়ার পার্থে পৌঁছেছে বাংলাদেশ দল। পশ্চিম অস্ট্রেলিয়ার রাজধানীতে সোমবার তাদের প্রতিপক্ষ উজবেকিস্তান। ৬৩ ধাপ এগিয়ে থাকা মধ্য এশিয়ার দেশটিকে হারালে কোয়ার্টার ফাইনালের সম্ভাবনা তৈরি হবে বাংলাদেশের। যদি কোয়ার্টার ফাইনাল নিশ্চিত হয়, তবেই জাগবে বিশ্বকাপে খেলার সম্ভাবনা। কোয়ার্টার ফাইনালে জিতলে সরাসরি বিশ্বকাপে চলে যাবে বাংলাদেশ। যদিও সেটা প্রায় অবাস্তব। অবাস্তবকে বাস্তবে রূপ দিতে না পারলেও সুযোগ থাকবে। সেক্ষেত্রে কোয়ার্টার ফাইনালে হারা অন্য একটি দলের সঙ্গে খেলতে হবে প্লে-অফ। প্লে-অফ জিতলে বিশ্বকাপ। এখানে হারলেও সুযোগ থাকবে। সেক্ষেত্রে অপেক্ষায় থাকতে হবে আন্তঃমহাদেশীয় প্লে অফের। সমীকরণটা এরকম- কোয়ার্টার ফাইনালে উঠলে পার্থ থেকে বাংলাদেশ দলকে আবার ফিরতে হবে সিডনিতে।
এখানে অনুষ্ঠিত হবে কোয়ার্টার ফাইনাল। হারলে স্থান নির্ধারণী ম্যাচ খেলতে যেতে হবে গোল্ড কোস্টে। অর্থাৎ উজবেকিস্তানকে হারিয়ে শেষ আটে যেতে পারলে আরও দুটি ম্যাচ খেলার সুযোগ মিলবে বাংলাদেশের। সংখ্যা তিনও হতে পারে। তবে বাংলাদেশের কোচ, খেলোয়াড়রা এখনই অতদূর পর্যন্ত ভাবতে চাইছেন না। তাদের ভাবনার পুরোটা জুড়ে উজবেকিস্তান। বি গ্রুপে সেরা দুইয়ে থাকার আর সুযোগ নেই। বাংলাদেশ চীনের সঙ্গে লড়াই করে হেরেছে ২-০ ব্যবধানে। দ্বিতীয় ম্যাচে উত্তর কোরিয়ার কাছে ৫-০তে বিধ্বস্ত হয়েছে। উজবেকরা উত্তর কোরিয়া ও চীনের কাছে হেরেছে ৩-০ গোলের একই ব্যবধানে। দুই ম্যাচ শেষে বাংলাদেশের চেয়ে এক গোল কম হজম করায় এখন পয়েন্ট টেবিলের তৃতীয় স্থানে উজবেকিস্তান। যা তাদের দিচ্ছে একটু বাড়তি সুবিধা। বাংলাদেশের সঙ্গে পয়েন্ট ভাগাভাগি করলে তারাই হবে গ্রুপের তৃতীয়। সেক্ষেত্রে তিন গ্রুপ থেকে সেরা তৃতীয় দল হিসেবে তাদেরও সুযোগ থাকবে কোয়ার্টার ফাইনালে যাওয়ার। পিটার বাটলারের বাংলাদেশের সে সুযোগ নেই। কোয়ার্টারের অঙ্ক মেলাতে তাদের জয়ের বিকল্প নেই। আবার জিতলেই কোয়ার্টার ফাইনাল নিশ্চিত হবে না। তাদের পেছনে ফেলতে হবে অন্য দুই গ্রুপের তৃতীয় দল দুটিকে। এ গ্রুপে নিচের দুই দল ফিলিপাইন ও ইরান। বাংলাদেশের মতো তারাও পয়েন্টের খাতা খোলেনি এখন পর্যন্ত। তবে বড় অঘটন না ঘটলে ইরানকে হারিয়ে তৃতীয় হওয়ার সুযোগ আছে ফিলিপাইনের। যদি তাই হয়, ম্যাচ থেকে তাদের সংগ্রহ দাঁড়াবে তিন পয়েন্ট। তবে ফিলিপাইন-ইরান ম্যাচ ড্র হলে বাংলাদেশের লাভ। সি গ্রুপের তৃতীয়কে পেছনে ফেলা অবশ্য কঠিন। এই গ্রুপের তৃতীয়তে আছে ভিয়েতনাম। বাংলাদেশ সংবাদ
তারা ভারতকে হারিয়ে এর মধ্যেই অর্জন করেছে তিন পয়েন্ট। যদিও শেষ ম্যাচে ভিয়েতনামকে খেলতে হবে আসরের অন্যতম ফেভারিট জাপানের সঙ্গে। ধরে নেয়া যায় ভিয়েতনামই হবে এই গ্রুপের তৃতীয় দল। অর্থাৎ এ এবং সি গ্রুপের তৃতীয় হওয়া দুই দলের সংগ্রহে থাকবে তিন পয়েন্ট। সেক্ষেত্রে উজবেকিস্তানকে হারালেই কোয়ার্টার ফাইনাল নিশ্চিত হবে না বাংলাদেশের। তিন গ্রুপের তৃতীয় হওয়া তিন দলই তিন পয়েন্ট পেলে কোয়ার্টার ফাইনালের ভাগ্য নির্ধারিত হবে গোল গড়ে। দুই ম্যাচে সাত গোল হজম করে এখানেও বাংলাদেশ আছে খানিকটা বেকায়দায়। এই জটিল হিসেব মিলিয়ে বাংলাদেশ যদি কোয়ার্টার ফাইনালে যায় তাহলে খেলা পড়বে সিডনিতে ১৪ অথবা ১৫ই মার্চ। নিশ্চিতভাবে তাদের মুখোমুখি হতে হবে এ অথবা সি গ্রুপের সেরা দলের। ইতিমধ্যে এ গ্রুপ থেকে কোয়ার্টার ফাইনাল নিশ্চিত করেছে দক্ষিণ কোরিয়া ও স্বাগতিক অস্ট্রেলিয়া। দুই জয়ে সি গ্রুপ থেকে জাপানের শেষ আটে পা রাখা অনেকটাই নিশ্চিত। কোয়ার্টার ফাইনালের হিসেব মিললে বাংলাদেশকে যার বিপক্ষেই খেলতে হবে তারা র্যাঙ্কিং ও সামর্থ্যে যোজন এগিয়ে থাকবে। তাই কোয়ার্টারের জটিল ইসাব মেলালেও সেমিফাইনালটা প্রায় অসম্ভব। কোয়ার্টার ফাইনালে হেরে আসর থেকে বাদ পড়লেও অবশ্য বাংলাদেশের অভিযান শেষ হচ্ছে না। ২০২৭ নারী বিশ্বকাপের সুযোগ তখনও থাকবে। এশিয়ান কাপের সেরা আট দল সরাসরি খেলবে বিশ্বকাপে।
কোয়ার্টার ফাইনালে হেরে যাওয়া চার দলকে দুই ভাগে বিভক্ত করে হবে প্লে-অফ ম্যাচ। সেই প্লে-অফে জিতলে মিলবে বিশ্বকাপের টিকিট। না জিতলেও থাকবে সুযোগ। সেক্ষেত্রে জিততে হবে মহাদেশীয় প্লে-অফ। এত এত হিসেবে-নিকেষ অবশ্য বাংলাদেশ দলের মাথায় কাজ করছে না। বাংলাদেশ দলের কোচ পিটার বাটলারও চান না এসব নিয়ে কেউ ভাবুক। অস্ট্রেলিয়ায় আসার পর তার একাধিকবার বলা কথাটাই আরেকবার মনে করিয়ে দিচ্ছি, ‘এই পর্যায়ে খেলার সুযোগটাই বাংলাদেশের জন্য বিশ্বকাপে খেলার মতো। এখানে বাস্তবতা মানতে হবে। এরকম কোন স্বপ্ন দেখাতে চাই না, যা পূরণ করা সম্ভব নয়। বরং এই দলটাকে এভাবেই গড়ে তুলতে চাই, যারা নিয়মিত এই মর্যাদার আসরে খেলতে পারে।’



