পঞ্চগড় প্রতিনিধি\ নির্বাচনের পর ও পঞ্চগড়-১ আসনের জয়পরাজয়ের আলোচনায় বিজয়ী প্রার্থী বিএনপির ব্যারিস্টার মুহাম্মদ নওশাদ জমির।
ভোটের সমিকরণে তিনি পঞ্চগড় পৌর সভা সহ সদর উপজেলায় নির্বাচনী এলাকায় আলোচিত হয়ে আছেন। সমালোচনায় এখন এ এলাকার নেতার্কীরা।
এইঐতিহাসিক সন্ধিক্ষণে শেষ হওয়া ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ঘিরে জয়পরাজয়ে ভোটের হিসাব কষছেন সচেতন জনগন। কারন হিসেবে পঞ্চগড় সদর উপজেলায় শাপলা কলির প্রার্থী সারজিস আলম বিএনপির ধানের শীষের প্রার্থী ব্যারিস্টার মুহাম্মদ নওশাদ জমিরের চেয়ে বেশি ভোট পেয়েছেন।
পঞ্চগড় সদর উপজেলার ৭৮ কেন্দ্রে বিএনপির প্রার্থী ব্যারিস্টার নওশাদ জমির পেয়েছেন ৮৫৩৯১ ভোট।
অপরদিকে জামায়াতের নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় জোটের প্রার্থী ও জাতীয় নাগরিক পার্টি(এনসিপি) উত্তরাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক সারজিস আলম পেয়েছেন ৮৮১৪৬ ভোট।
ব্যবধানে নওশাদ জমিরের চেয়ে সারজিস আলম ২৭৫৫ ভোট বেশী পেয়েছেন।
অপরদিকে নওশাদ জমিরের পৈত্তিক ভিটা তেতুঁলিয়া উপজেলার চারটি ইউনিয়নে সারজিস আলম শাপলা কলিতে বেশী ভোট পড়েছে। ইউনিয়নগুলো হলো; বাংলাবান্ধা , তেতুঁলিয়া , তীরনই এবং শালবাহান।
অন্যদিকে তেতুঁলিয়া উপজেলার ভজনপুর, বুড়াবুড়ি এবং দেবনগড় ইউনিয়নে ব্যারিস্টার মুহাম্মদ নওশাদ জমির ধানের শীষ প্রতীকে ভোট বেশী পেয়েছেন।
জানা যায়, তেঁতুলিয়া উপজেলায় ভোট কেন্দ্র ৩৭ টি। এই ৩৭ টি ভোট কেন্দ্রে নওশাদ জমির ধানের প্রতীকে ভোট পেয়েছেন ৪৪০০৫ ভোট।
এছাড়া সারজিস আলম শাপলা কলি প্রতীকে ভোট পেয়েছেন ৪০৫৬৩ ভোট। হিসেব মতে, ৩৪৪২ ভোট বেশী পেয়েছেন নওশাদ জমির।
এদিকে আটোয়ারী উপজেলায় ভোট কেন্দ্র ৪০টি। এখানে ধানের শীষের সাথে হাড্ডাহাড্ডি লড়াইয়ে হয়েছে শাপলা কলি প্রতীকের।
এখানে ধানের শীষ প্রতীকে নওশাদ জমির পেয়েছেন ৪৫০৩৪ ভোট। শাপলা কলি প্রতীকে সারজিস আলম পেয়েছেন ৩৭৪১৭ ভোট।
আটোয়ারী উপজেলায় ধানের শীষ প্রতীকে নওশাদ জমির ৮১২০ ভোট বেশী পান।
রাজনৈতিক সমিকরণের হিসেবে পঞ্চগড় সদর উপজেলায় ধানের শীষ প্রতীকের হিসেব বদলে গেছে। কারন এখানে সারজিস আলম শাপলা কলি প্রতীকে ২৭৫৫ ভোট বেশী পেয়েছেন।
অনেকের মতে রাজনৈতিক দুষ্টু চক্রের কৌশলে ধরাশয়ীর মত পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। রাজনৈতিক স্বার্থ ও দলাদলির প্রভাব এমন পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়। তেতুঁলিয়া উপজেলার একজন ইউনিয়নের বিএনপির সক্রিয় নেতা বলেন, নওশাদ জমির এতো কম ভোটে জয়ী হওয়ার কথা নয়। তিনি কমপক্ষে ৫০ হাজার ভোট বেশী পাওয়ার কথা। ওই উপজেলার বিএনপির এক প্রবীন কর্মী বলেন, পরাজয়ের এলাকার নেতৃত্ব দুর্বল তা এখন বোঝা যাচ্ছে।
এনিয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ও বিএনপির সর্মথক ও শুভাকাঙ্খিরা অনেকটা সরব। তারা আগামীতে ত্যাগী এবং স্বচ্ছ নেতৃত্ব গড়ে তোলার জন্য জোড়ালো দাবী করেন। উল্লেখ্য, নওশাদ জমির সাবেক স্পিকার মুহাম্মদ জমির উদ্দীন সরকারের ছেলে নওশাদ জমির।



