প্রতিকার পাওয়া আশায় দুই ভুক্তভোগীর অভিযোগ
আদমদীঘি (বগুড়া) প্রতিনিধিঃ বগুড়ার আদমদীঘিতে মুনছুর আলম ও ময়েন সরদার নামের জমি মালিক দুই ভুক্তভোগীকে ভ্রাম্যমান আদালতের মাধ্যমে জেল ও জরিমানা করার ভয় দেখিয়ে তাদের নিকট থেকে জোড় পূর্বক মুচলেকায় সহি করে নেয়ার অভিযোগ উঠেছে আদমদীঘি সহকারি কমিশনার (ভূমি) আশরাফুল ইসলামের বিরুদ্ধে। গত মঙ্গলবার (০৩ নভেম্বর) বিকেলে আদমদীঘি উপজেলা নির্বাহী অফিসারের কার্যালয়ে এ ঘটনা ঘটে। এঘটনায় গত বুধবার (৪ নভেম্বর) দুপুরে মাননীয় সংসদ সদস্য বরাবর লিখিত অভিযোগ করেছেন ওই দুই ভুক্তভোগী।
ভুক্তভোগীদের অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, ১লা নভেম্বর (রবিবার) ভূমি অফিসে খতিয়ান সংশোধনের বিষয়ে হয়রানি থেকে প্রতিকার পাওয়ার আশায় উপজেলা নির্বাহী অফিসার বরাবর লিখিত আবেদন করেন। উক্ত আবেদনের প্রেক্ষিতে ০৩ নভেম্বর উপজেলা নির্বাহী অফিসার ভুক্তভোগীদের শুনানীর জন্য ডেকে পাঠান। শুনানীতে ভুক্তভোগীরা উপস্থিত হলে উপজেলা ভূমি অফিসের কানুনগো আসাদুল ইসলাম, সদর ইউনিয়ন ভূমি কর্মকর্তা ফজলুল হক ও এসিল্যান্ড আশরাফুল ইসলাম উপজেলা নির্বাহী অফিসারের কার্যালয়ে উপস্থিত হয়ে প্রায় ২ ঘন্টা ব্যাপী জেরা করার সময় তাদের উপর ক্ষিপ্ত হয়ে অশ্রাব্য কথা বার্তা শুরু করে। এক পর্যায়ে তাদের অভিযোগ গুলো মিথ্যা মর্মে স্বীকারোক্তি সম্বলিত মুচলেকা লিখে তাদের নিকট থেকে জোড় পূর্বক স্বাক্ষর করার জন্য চাপ প্রয়োগ করে। কিন্তু তারা রাজী না হলে তাদের ভ্রাম্যমান আদালতের মাধ্যমে জেল ও জরিমানা করার ভয় দেখায়। ফলে বাধ্য হয়ে এসিল্যান্ডের লিখে দেওয়া মুচলেকায় স্বাক্ষর করে নিয়ে ছেড়ে দেওয়া হয়। ভুক্তভোগী দুই অভিযোগকারী বলেন, এসিল্যান্ড ও দপ্তরেরর দুর্নীতিবাজ কর্মকর্তারা দীর্ঘ হয়রানি করে আসছিল। এর প্রতিকারের আশায় আমরা দুইজন লিখিত অভিযোগ করি উপজেলা নির্বাহী অফিসার বরাবর। কিন্তু অভিযোগের শুনানীতে উপস্থিত হয়ে বিপাকে পড়ি আমরা দুইজন। আমাদের দুইজনের কোন কথাই শোনেনি তারা। উল্টো আমাদের কাছ থেকে মুচলেকা লিখে ছেড়ে দেন বলে অভিযোগে জানিয়েছেন দৃঢ়ভাবে। এ নিয়ে স্থানীয় সংসদ সদস্য আব্দুল মহিত তালুকদার মহোদয়ের সাথে কথা হলে তিনি জানিয়েছেন দুই ভুক্তভোগীর লিখিত অভিযোগ পেয়েছি এবং উপজেলা প্রশাসনের এহেন ন্যাক্কারজনক কর্মকান্ড অত্যন্ত দুঃখজনক। বিষয়টি প্রশাসনের উর্দ্ধতন কর্তৃপক্ষকে অবহিতও করা হয়েছে।
















