যোগাযোগ সংকটে কৃষকের লোকসান
সারওয়ার আলম মুকুল, কাউনিয়া (রংপুর) প্রতিনিধি ঃ রংপুরের কাউনিয়া উপজেলার শস্যভান্ডারখ্যাত ঢুসমারা চরের মানুষের দুর্ভোগ যেন দেখার কেউ নেই। শিক্ষা, স্বাস্থ্যসেবা, যোগাযোগ, বিদ্যুৎ ও বাজার ব্যবস্থাপনা সব ক্ষেত্রেই পিছিয়ে রয়েছেন চরবাসী। দীর্ঘদিন ধরে নানা সমস্যায় জর্জরিত হলেও সেগুলোর স্থায়ী সমাধানে কার্যকর উদ্যোগ নেই বলে অভিযোগ স্থানীয়দের। ফলে কৃষিনির্ভও এই চরের মানুষকে প্রতিনিয়ত পোহাতে হচ্ছে দুর্ভোগ।
সরেজমিনে ঢুসমারা চরে গিয়ে স্থানীয়দের সাথে কথা বলে জানাগেছে, তিন বছর ধরে বন্ধ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, কৃষিপণ্য পরিবহনে ভোগান্তি, নদীর নব্যতা নেই, রাস্তার বেহালদশার কথা। সেই সাথে পাচ্ছেনা উৎপাদিত পন্যের ন্যায্য মূল্য। যে চর জেলার খ্যাদ্যের যোগান দেয় সেই চরের উন্নয়নে নেই কোন উদ্যোগ।
স্থানীয় বাসিন্দা কোবাত আলী বলেন, ভোটের সময় জনপ্রতিনিধিরা উন্নয়নের প্রতিশ্রুতি দিয়ে ভোট নেন। কিন্তু নির্বাচিত হওয়ার পর আর কেউ চরবাসীর খোঁজ রাখেন না। চরের একমাত্র সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়টিও তিন বছর ধরে বন্ধ রয়েছে। এতে শত শত শিশু শিক্ষার সুযোগ থেকে বঞ্চিত হচ্ছে।
তাজুল ইসলাম বলেন, চরে কেউ অসুস্থ হলে তাঁকে হাসপাতালে নেওয়ার মতো কোনো যানবাহন নেই। নেই কোনো স্বাস্থ্যকেন্দ্রও। কৃষকের উৎপাদিত ফসল বাজারে নেওয়ার জন্য সরকারি নৌযানের ব্যবস্থা নেই। চলাচলের রাস্তা উন্নয়নেও কোনো কর্মসূচি নেই। ফলে জরুরি প্রয়োজনে চরের মানুষকে চরম ভোগান্তিতে পড়তে হয়।
নজরুল ইসলাম বলেন, যোগাযোগব্যবস্থার দুরবস্থার কারণে কৃষকেরা উৎপাদিত ফসলের ন্যায্যমূল্য পাচ্ছেন না। বর্তমান সংসদ সদস্য আকতার হোসেন চরের উন্নয়নের স্বপ্ন দেখালেও নির্বাচিত হওয়ার পর এখন পর্যন্ত দৃশ্যমান কোনো উন্নয়ন চোখে পড়েনি।
ওমর আলী বলেন, নদীভাঙনে নিঃস্ব হয়ে পড়া মানুষগুলোর পাশে দাঁড়ানোর কেউ নেই। প্রশাসনের পক্ষ থেকে ১০ কেজি চাল দিয়েই দায়িত্ব শেষ করা হয়। বছরের পর বছর নদীভাঙন চললেও নদী খনন ও ভাঙন রোধে কার্যকর উদ্যোগ নেই। তিস্তা মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়নেও দৃশ্যমান অগ্রগতি না থাকায় হতাশ চরবাসী।
চরবাসীর দাবি, ঢুসমারা চরে একটি স্বাস্থ্যকেন্দ্র স্থাপন, বন্ধ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়টি পুনরায় চালু, টেকসই সড়ক নির্মাণ এবং ১০ নম্বর ঘাটে স্থায়ী পাকা ঘাট নির্মাণ করতে হবে। তাঁদের প্রত্যাশা, সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ নিয়ে দীর্ঘদিনের দুর্ভোগ লাঘব করবে।














