• Home
  • প্রচ্ছদ
  • ষষ্ঠী পূজার মধ্য দিয়ে দুর্গোৎসব শুরু, নিরাপত্তা জোড়দার
Image

ষষ্ঠী পূজার মধ্য দিয়ে দুর্গোৎসব শুরু, নিরাপত্তা জোড়দার

ষষ্ঠী পূজার মধ্য দিয়ে আজ শুক্রবার শুরু হয়েছে দেশের সনাতন ধর্মাবলম্বীদের সবচেয়ে বড় ধর্মীয় উৎসব দুর্গাপূজা। মণ্ডপে মণ্ডপে বাজছে ঢাক ও কাঁসর। ফুল, ধূপ ও আগরবাতির সৌরভ ছড়িয়ে পড়ছে। শঙ্খধ্বনিতে মুখর মণ্ডপ প্রাঙ্গণ। দেবী দুর্গার আগমনী সুরে উলুধ্বনি দিয়ে মেতে উঠেছেন ভক্তরা।পূজামন্ডপের নিরাপত্তায় ২৪ ঘণ্টা টহল কার্যক্রম অব্যাহত রেখেছে বিজিবি।

একপাশে চলছে ধর্মীয় সংগীত, অন্যপাশে জ্বলছে প্রদীপ ও মোমবাতি। বাহারি আলোকসজ্জায় উজ্জ্বল দেবী দুর্গা, সরস্বতী, লক্ষ্মী, কার্তিক ও গণেশের প্রতিমা। শিশু থেকে বৃদ্ধ, সব বয়সী পুণ্যার্থী প্রতিমার সামনে আসছেন। খালি পায়ে করজোড়ে দেব-দেবীকে প্রণাম করছেন। প্রণামের সময় অনেকে মনের আশা জানাচ্ছেন দেবীর কাছে। কেউ কেউ আবার দেবী মায়ের সঙ্গে তুলছেন সেলফি। রাজধানীর পূজামণ্ডপগুলোয় আজ এমন চিত্রই দেখা গেছে।

আগামীকাল শনিবার ও রোববার মহাসপ্তমী। এ বছর বাংলা পঞ্জিকা অনুযায়ী এই দুই দিন জুড়ে মহাসপ্তমী তিথি থাকায় পরদিন (মহাঅষ্টমি) থেকেই দুর্গাপূজার মূল আনুষ্ঠানিকতা শুরু হবে। ওইদিন ভক্তরা উপবাস রেখে অঞ্জলি দেবেন এবং প্রসাদ গ্রহণ করবেন।

শুক্রবার মহাষষ্ঠী তিথিতে কল্পারম্ভে বেলগাছের নিচে ঘট স্থাপন করে দশভুজা দেবী দুর্গাকে আমন্ত্রণ জানানো হয়। অধিবাসের মধ্য দিয়ে শুরু হয় শারদীয় দুর্গাপূজার মূল আয়োজন। দেবী দুর্গার সঙ্গে প্রত্যেক মণ্ডপে অধিষ্ঠিত হয়েছেন লক্ষ্মী, গণেশ, কার্তিক ও সরস্বতী।

দেশের হিন্দু ধর্মাবলম্বীদের মধ্যে এখন আনন্দের জোয়ার। চার দিন পূজা-অর্চনা, ভক্তিমূলক সংগীতানুষ্ঠান, প্রসাদ বিতরণ ও আরতি প্রতিযোগিতাসহ নানা আয়োজনে মেতে থাকবেন তারা।

রাজধানীর ঢাকেশ্বরী জাতীয় মন্দির, রামকৃষ্ণ মিশন ও মঠ, রমনা কালীমন্দির ও আনন্দময়ী আশ্রম, বরোদেশ্বরী কালীমাতা মন্দির, গুলশান-বনানী সর্বজনীন পূজা উদযাপন পরিষদ মণ্ডপ এবং পুরান ঢাকার তাঁতীবাজার, শাঁখারীবাজার ও লালবাগ ঋষিপাড়া মন্দিরসহ সারা দেশে উৎসাহ-উদ্দীপনার মধ্যে দুর্গাপূজা শুরু হয়েছে।

ঢাকেশ্বরী মন্দিরের পুরোহিত বরুন চক্রবর্তী বলেন, ‘মহাষষ্ঠীর সকালের পর্ব কল্পারম্ভ। আমরা সংকল্প করলাম যে পূজা করব। আমরা কল্পনা করছি, দেবী বিল্ববৃক্ষে এসেছেন। তাঁকে আমরা পূজা করেছি। এটাই কল্পারম্ভ। সন্ধ্যায় বোধন ও অধিবাসের মধ্য দিয়ে দেবীকে আমন্ত্রণ জানানো হবে।’

বাংলাদেশ পূজা উদযাপন পরিষদের তথ্য অনুযায়ী, গত বছরের তুলনায় এবার পূজামণ্ডপের সংখ্যা প্রায় ১ হাজার ৫০০টি বেড়ে ৩৩ হাজার ৮৫১টিতে দাঁড়িয়েছে।

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নির্দেশনায় দুর্গাপূজার মণ্ডপগুলোর জন্য সরকারি অনুদান ৪ কোটি টাকা থেকে বাড়িয়ে ৫ কোটি টাকা করা হয়েছে।

পঞ্জিকামতে, জগতের মঙ্গল কামনায় এবার দেবী দুর্গা ঘোড়ায় চড়ে স্বর্গলোক থেকে মর্ত্যে আসবেন। আর নৌকায় চড়ে স্বর্গলোকে ফিরে যাবেন।

হিন্দু সম্প্রদায়ের দাবির প্রেক্ষিতে সরকার এ বছর নির্বাহী আদেশে দুর্গাপূজার ছুটি তিন দিন পর্যন্ত বাড়িয়েছে। শুক্র ও শনিবারের সাপ্তাহিক ছুটির সঙ্গে এই বাড়তি ছুটি যুক্ত হয়ে ২০ থেকে ২৪ অক্টোবর পর্যন্ত মোট পাঁচ দিন ছুটি পাওয়া যাবে।

বাংলাদেশ পূজা উদযাপন পরিষদের সভাপতি বাসুদেব ধর বলেন, ‘এটি সত্যিই একটি ইতিবাচক সিদ্ধান্ত। এমন সিদ্ধান্তের জন্য আমরা প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে ধন্যবাদ জানাই।’

দুর্গাপূজা শুধু একটি প্রধান ধর্মীয় উৎসব নয়, এটি বাংলাদেশের সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যেরও গুরুত্বপূর্ণ অংশ হিসেবে উদযাপিত হয়। এই উৎসব হিন্দু সম্প্রদায় ও অন্য ধর্মের মানুষকে একত্র করে। এটি দেশের সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি ও শান্তিপূর্ণ সহাবস্থানের ঐতিহ্যকেই তুলে ধরে।

Related Posts

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

ENGLISH »