• Home
  • দেশ
  • পঞ্চগড়ে শিমের দাম পেয়ে খুশি চাষীরা
Image

পঞ্চগড়ে শিমের দাম পেয়ে খুশি চাষীরা

মোঃ কামরুল ইসলাম কামু পঞ্চগড় প্রতিনিধি ॥কৃষিতেই সমৃদ্ধি, কৃষিতেই পরিবারের অর্থনীতি ফেরাতে মাঠে-ময়দানে ব্যস্ত সময় পার করছেন গ্রামান্তরের চাষীরা। কাজে কাজে সময় পার করছেন তারা। চারদিকে সবুজের হাতছানি। যে ভাবেই হোক ফসল আনতে হবে, উৎপাদন বাড়াতে হবে, এ ভাবনা তাদের চোখে মুখে।

পঞ্চগড়ের আকাবাঁকা পথে চললেই দেখা মেলে এমন চিত্র। মেঠো পথে বা ধান ক্ষেতের মাঝে বা অন্য ফসলের কিনারে তারা ফসল ফেলেন। সব মিলিয়ে নীরব বিপ্লব চলছে কৃষিতে।ধার হোক বা সঞ্চিত অর্থেই হোক তাদের একটাই ভাবনা, ফসল ফেলাতে হবে-ফলন বাড়াতে হবে। হোক কারো জমি বর্গা বা নিজের জমি। তাদের একটাই পথ খোঁজা ফসল উৎপাদন করতে জমি চাষ করা।কৃষি উৎপাদনে নীরব বিপ্লবে কয়েক ধাপ এগিয়েছে পঞ্চগড়ের কৃষকরা। হাতের মুঠোয় শক্তি নিয়ে বাড়ি থেকে বের হয় চাষাবাদে। তেমনটাই দেখা যায় বিস্তৃর্ণ সবুজ বনানী জুড়ে ফসলি জমি।

সদর উপজেলার হাড়িভাসা ইউনিয়নের দেবীযাদু এলাকার শিম চাষী আনারুল ইসলাম জানান তিনি শিম আবাদ করেছেন আধা বিঘা জমিতে। ফলন খুব ভালো হয়েছে। শুরুর দিকে এক কেজি শিম ১২০ /১৩০ টাকা হিসেবে বিক্রি করেছেন। তিনি বলেন শিমের ফলন বাম্পার হয়েছে। খরচ বাদে তার ৫০ থেকে ৬০ হাজার টাকা লাভ হবে। কিন্তু তিনি এও বলেন সার সঙ্কট না হলে ফলন আরও ভালো হতো। সার নিতে গিয়ে ঠিক মত তা পাওয়া যায়না। সার কিটনাশক দিলেই ৫/৭ দিনের মধ্যেই শিম বাজারজাত করা যায়। সরকার আমাদের সার কিটনাশক সহজলভ্য করে দিলেই কৃষিতে আমাদের কোন সমস্যা হবেনা। ওই এলাকার আরেক কৃষক জানান , তিনি ১০ হাজার টাকায় ১৮ শতক জমিতে শিম চাষ করেন। শুরুতে তিনি ১৩০ টাকা থেকে ১৬০ টাকা কেজি দরে শিম বিক্রি করেছেন। প্রতি সপ্তাহে একবার শিম তোলেন তিনি। বীজ রোপনের পর দুমাস পর ফলন আসে। এরপর তিন মাস পর্যন্ত শিম তোলা যায়।

উপজেলার ডোলোপাড়া এলাকার কৃষক আশরাফুল ইসলাম বলেন ভালো ফলন হলে বিঘায় ২ থেকে ৩ লাখ টাকার শিম বিক্রি করা যায়। শিম গাছ রাখলে পুরো বছর রাখা যাবে। প্রথম দিকে ২ থেকে ৪ মন। পরবর্তীতে ধাপে ধাপে উৎপাদন বাড়ে। বাড়তে বাড়তে ২০ থেকে ২৫ মন শিম তোলা যায়।

উপজেলার চাকলাহাট ইউনিয়নের মেহেরপাড়া এলাকার আরিফুল ইসলাম বলেন, শুরুতে দাম ভালো পেয়েছিলাম ফলন ও ভালো হয়েছে। তিনি বলেন , এখন টিএসপি সার দরকার। এখন সার পাইনা।কৃষকদের দাবি সার সরবরাহ সহজ করলে আরও ফলন ভালো হতো।

এদিকে জেলা কৃষি সম্প্রসারন অধিদপ্তর সূত্রে জানা যায়, চলতি মৌসুমে খরিপ-২ শিমের চাষ হয়েছে ১৭০ হেক্টর জমিতে। তবে শীতকালিন শিম চাষ শুরু হচ্ছে, এটাকে বলা হয় রবি মৌসুমের ফসল। এই শিম ২৪০ হেক্টর জমি ছাড়িয়ে যেতে পারে।

জেলা কৃষি সম্প্রসারন অধিদপ্তরের উপপরিচালক মো. আব্দুল মতিন বলেন, জেলায় কোন সার সঙ্কট নাই। শিমের বাম্পার ফলন হয়েছে। রবি মৌসুমের যে শিম চাষ হবে এটা চলবে আগামী জানুয়ারী ফেব্রয়ারী পর্যন্ত ফলন ও বেশি হয়।

Related Posts

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

ENGLISH »