পঞ্চগড় প্রতিনিধি: দেশের সর্ব উত্তরে সম্ভবনার জেলা পঞ্চগড়ে বাইপাস সড়ক নেই। এছাড়া এক সেতুতেই পেরিয়ে গেছে চার দশক। যানজট আর চরম দূর্ভোগে মানুষ। পঞ্চগড় শহরে ঘেঁষে এরশাদ সরকারের সময় ১৯৮৭ সালের দিকে একটি করতোয়া ব্রীজ নির্মিত হয়।এরমধ্যে চলে গেছে চার দশক। বেড়েছে জনসংখ্যার চাপ।হাটি হাটি পা করে আধুনকিতার ছোয়াঁয় বেড়েছে ব্যবসায়িক পরিধি। গড়ে ওঠেছে নানা প্রতিষ্ঠান। পণ্য পরিবহনে বেড়েছে নজিরবিহীন যান চলাচল। বেড়েছে পর্যটকদের পদচারণা।কৃষি পন্য উৎপাদন বৃদ্ধি সহ রয়েছে নূড়ি পাথর ও বালিরব্যবসা। জড়িয়ে আছে নানা উন্নয়ন ও অবকাঠামো নির্মাণে ইতিবাচক পরিবর্তন।
আধুনিকতার সভ্যতায় ফিরেছে ব্যবসায়িক পরিধি। জীবন জীবিকার তাগিদে মানুষের চাপ রয়েছে এই ব্রীজে। নান্দনিক পরিবেশে জেলাটির গুরুত্ব কম নয়। ৮০ ও ৯০ দশকের পর জনসংখ্যা এখন ˜িগুন হবে।এ জেলায় এক সময় পরিবহনের ক্ষেত্রটি ছিল পাথর ও বালি বেষ্টিত। যা সময়ের বির্বতনে বড় পরিবর্তন এসেছে।
াংলাবান্ধাস্থল বন্দর সেই সঙ্গে রয়েছে ইমিগ্রেশন সুবিধা। চতুর্থদেশীয় বন্দর বাংলাবান্ধাস্থল বন্দর। চীন বাদে এই স্থল বন্দরটি দিয়ে ভারত,নেপাল ও ভ’ট্রানের পণ্য আসে। রপ্তানি প্রায় ১৫/২০ টি পন্য। প্রতিদিন তিনটি দেশ থেকে আসে শত শত ট্রাক পণ্য ।জনসংখ্যার পাশাপাশি বেড়েছে নিত্যপণ্যের চাহিদা। শহর থেকে বন্দর এবং গ্রামের হাটবাজারে নিত্যপণ্যের একটি বিশাল চালান আসে প্রতিনিয়ত।
এছাড়া প্লোট্রি ব্যবসায় এসেছে বড় পরিবর্তন। সদর, তেতুঁলিয়া ও আটোয়ারী , বোদা উপজেলার প্রত্যন্ত অঞ্চলে মুরগি ও ডিম উৎপাদনে প্রতিষ্ঠিত হয়েছে প্লোট্রি ভিত্তিক কারখানা।সেই সাথে রয়েছে , শহর ও গ্রামে ক্ষ’দ্র প্লোট্রি খামারও।অর্থনীতির চালিকা শক্তিতে এক নতুন অধ্যয় এসেছে চার দশকে। শহর বন্দরে উল্লেখযোগ্য উন্নয়ন না হলেও থেমে নেই ব্যবসা-বাণিজ্য।
সময়ের স্্েরাতে চারপাশ মানুষের পদচারনা বৃদ্ধি পেলেও আজও হয়নি বাইপাস। অথচ নিয়নুসারে বাইপাস বাধ্যতামূলক।কিন্তু পঞ্চগড়ে একটি ব্রীজের বুকের উপড় দিয়ে চলে হাজারও যানবাহন এবং লাখো মানুষ। শত শত ট্রাক ট্রাক্টর সহ পণ্য পরিবহনে নিয়োজিত অন্যান্য যান। রয়েছে চা পরিবহনে অসংখ্য পরিবহন ব্যবস্থা।
তেতুঁলিয়ায় শীত মৌসুমে গড়ে প্রতিদিন ১০ হাজার পর্যটকের আনাগোনা রয়েছে জেলাটিতে। তবে বছর জুড়ে কম বেশি পর্যটকরা এ অঞ্চলে আসেন। যেখানে চা বাগান রয়েছে শত শত হেক্টর। পর্যটকরা তেঁতুলিয়ায় আসেন কাঞ্চন জঙ্ঘা দেখতে শীতে। তবে তাদের চা বাগান ও আকৃষ্ট করে। এই পর্যটন ঘিরে তেঁতুলিয়ায় ট্যুরিস্ট পুলিশ রয়েছে।
জানা যায়, দ্বিতীয় করতোয়া ব্রীজ নিমার্ণে তৎকালিন বিএনপি সরকারের আমলে মরহুম মির্জা গোলাম হাফিজ ১৯৯১ সালে একটি বাইপাস সড়ক সহ একটি ব্রীজ নিমার্ণে উদ্যোগ নিয়েছিলেন। তখন তিনি আইন ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রী ছিলেন। পড়ে সেটি লাল ফিতায় বন্দি হয়ে ফাইলটি গায়েব হয়ে যায়।
এরপর চলে গেছে চার দশক । দাবি ওঠে কিন্তু বাইপাস আর হয়নি। এরমধ্যে সড়ক দূর্ঘটনায় শত শত মানুষের প্রাণ যায়। জেলা প্রশাসনে বছর বছর ধরে চলে ব্রীজ আর বাইপাস নির্মাণ নিয়ে চলে দৌঁড়ঝাপ । কিন্তু কাজের কাজ কিছুই হয়নি। পঞ্চগড় শহরের প্রবেশ দ্বার হচ্ছে প্রথম নির্মিত করতোয়া ব্রীজ। বহমান করতোয়া নদী বেষ্ঠিত পঞ্চগড় শহর। পুলিশ -বিজিবি সহ আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর বিশেষ অভিযান পরিচালনা কররা ক্ষেত্রেও এই ব্রীজ পার হতে হয়।
সবচেয়ে একটি বড় বিড়ম্বনা হচ্ছে কোন কারণে সড়কটি অবরোধ করা হলে চরম দূর্ভোগ পোহাতে হয় মানুষকে। শহর থেকে বের হতে করতোয়া ব্রীজ আবার প্রবেশ করতে গেলেও এই করতোয়া ব্রীজ। যানবাহনের চালকদের সাথে কথা হয়। তারাও জানান বিড়ম্বনার কথা। নুর ইসলাম (৪৫) বলেন, এই ব্রীজ আর চলেনা। একটি বাইপাস সড়ক না হলে আমরা চলতে পারছিনা। জীবিকার তাগিদে আমরা াটো চালাই। একটি মাত্র ব্রীজ সব সময় জ্যাম থাকে। রাজনৈতিক বা অন্য কারণে ব্রীজের সামনে অবরোধ করা হলে আর পর হওয়ার কোন সুযোগ থাকেনা। এ্যাম্বুলেন্স ও আটকা পড়ে। বহু ঝামেলা। আব্দুস সামাদ (৬০) বলেন, খুব কষ্ট একটি ব্রীজ দিয়ে কি এখন চলে ? শুনলাম একটিন ব্রীজের জন্য সরকার অনুমোদন দিয়েছে। সেটিও চার বছর আগে হবেনা। রফিকুল ইসলাম (৪৫) বলেন, কতো এমপি মন্ত্রী গেলো ‘কিন্তু এই একটি ব্রীজ। এটা কোন কথা। সেটিও আবার খানা-খন্দে ভরপুর। খারাপ হয় আবার মেরামত হয়। আবার খারাপ হয়। এটা কোন কথা আমরা এতো অবহেলিত কেনো? সব জেলায় বাইপাস আছে। কিন্তু আমরা বাইপাস পেলাম না। ব্যবসায়ি শামীম হোসেন (৪৮) বলেন সেই চারদশক আগে যে ব্রীজ দেখেছি ‘সেই ব্রীজটি এখনো কালে স্বাক্ষী হয়ে আছে। অথচ জেলায় জেলায় বাইপাস আর কতো ব্রীজ হয়েছে আমাদের একটাই ব্রীজ। সব মিলিয়ে আমরা।
সড়ক বিভাগ পঞ্চগড়- এর নির্বাহী প্রকৌশলী মো. জাকির হোসেন বলেন আমি সদ্য এ জেলায় যোগদান করেছি। আগামী ৫/৬ মাসের মধ্যে সদর উপজলার মীরগড় করতোয়া নদীতে একটি দ্বিতীয় করতোয়া ব্রীজের দরপত্র আহবান হতে পারে। তারপর উর্ধ্বতন কর্র্তৃপক্ষের সিদ্ধান্ত।















