কথোপকথনের একটি গোপন ভিডিও ধারণ
পঞ্চগড় প্রতিনিধি: পঞ্চগড় জেলা জজ আদালতে রিভিশন মামলার মঞ্জুর আদেশের অনুলিপি সরবরাহের জন্য ২ হাজার টাকা ঘুষ দাবী করার অভিযোগ উঠেছে পেশকার পলাশের বিরুদ্ধে। একপর্যায়ে ৪০০ টাকা নেওয়ার পর তিনি জানান, অনুলিপি এখন দেওয়া সম্ভব নয়, কয়েকদিন সময় লাগবে। টাকা নেওয়ার কারণ জানতে চাইলে তিনি বলেন, “রিভিশন মঞ্জুর হয়েছে, আপনার পক্ষে এসেছে, এজন্য নিয়েছি।”
সম্প্রতি পঞ্চগড় জেলা জজ আদালতে একটি রিভিশন মামলা মঞ্জুর হওয়ার পর ওই মামলার আদেশের অনুলিপি সংগ্রহ করতে পেশকার পলাশের কাছে যান এক সাংবাদিক। মামলাটি তার এক নিকটাত্মীয়ের বলে জানা গেছে।পরে টাকা ফেরত দিলেও অর্থের বিনিময়ে কাজ করে দেওয়ার বিষয়ে পেশকারের কথোপকথনের একটি গোপন ভিডিও রয়েছে বলে দাবী করেছেন সংশ্লিষ্ট সাংবাদিক।
ওই সাংবাদিকের অভিযোগ মতে, অনুলিপি সরবরাহের জন্য পেশকার পলাশ তার কাছে ২ হাজার টাকা দাবী করেন। একপর্যায়ে ৪০০ টাকা দেওয়া হলে তিনি তা পকেটে রেখে দেন। এরপরই জানান, আদেশের অনুলিপি এখন দেওয়া যাবে না, কয়েকদিন সময় লাগবে।তাহলে টাকা কেন- এমন প্রশ্ন করা হলে পেশকার পলাশ বলেন, “রিভিশন মঞ্জুর হয়েছে, আপনাদের পক্ষে এসেছে, এজন্য নিয়েছি।”
একপর্যায়ে টাকা ফেরত চাইলে পেশকার ৪০০ টাকা ফেরত দিতে বাধ্য হন। টাকা ফেরত দেওয়ার সময় তাকে বলতে শোনা যায়, “তুই আর এখানে আসিস না। নকলের জন্য আবেদন করিস।”
এরপর কেন তিনি অনুলিপি দিতে পারবেন না-জানতে চাইলে পেশকার বলেন, “পারলেও দিবো না।” পরে টাকা দিলে অনুলিপি দিতে পারবেন কি না জানতে চাইলে তিনি বলেন, “হ্যাঁ, টাকা হলে পারবো।”
সংশ্লিষ্ট সাংবাদিকের দাবি, পুরো কথোপকথনটি গোপনে ভিডিও করা হয়েছে। ভিডিওতে পেশকারের টাকা দাবি, টাকা গ্রহণ, পরে টাকা ফেরত দেওয়া এবং অর্থের বিনিময়ে কাজ করে দেওয়ার বিষয়ে কথোপকথনের অংশ রয়েছে বলে দাবি করা হয়েছে।ওই সাংবাদিক বলেন, ন্যায় বিচার পেতে সাধারণ মানুষ দ্বারস্থ হয়, সেখানে এমন অসদুপায় বেমানান। এ ধরনের কর্মচারীর জন্য এমন জায়গা উপযুক্ত নয়।
অভিযোগ রয়েছে, আদালতে বিভিন্ন কাজে আসা বিচারপ্রার্থী ও তাদের স্বজনদের কাছ থেকে এভাবেই ঘুষ আদায় করেন পেশকার পলাশ। ছাড় দেননা আইনজীবী কিংবা আইনজীবী সহকারীদেরও।নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক বিচারপ্রার্থীর দাবী, টাকা ছাড়া তার কাছে কোনো কাজ এগোয় না। নিয়মিত প্রক্রিয়ায় সম্পন্ন হওয়ার কথা এমন কাজেও অর্থ দাবি করেন তিনি। অন্যথায় হয়রানির শিকার হতে হয়।
অভিযোগের বিষয়ে পেশকার পলাশকে মুঠোফোনে জিজ্ঞেস করা হলে, সাংবাদিক পরিচয় পেয়ে ফোনের সংযোগ কেটে দেন।এব্যাপারে কথা বলতে জেলা জজ আদালতের প্রশাসনিক কর্মকর্তা বৈদ্য নাথ বম্মর্নের মুঠোফোনে একাধিক বার চেষ্টা করেও পাওয়া যায়নি।
















