• Home
  • দেশ
  • প্রকৃতির বুক থেকে হারিয়ে যাচ্ছে গ্রামীণ ঐতিহ্যের লাল শাপলা
Image

প্রকৃতির বুক থেকে হারিয়ে যাচ্ছে গ্রামীণ ঐতিহ্যের লাল শাপলা

সারওয়ার আলম মুকুল, কাউনিয়া (রংপুর) প্রতিনিধি ঃ রংপুরের কাউনিয়ায় দিন দিন হারিয়ে যাচ্ছে গ্রামবাংলার সৌন্দর্য ও ঐতিহ্যের প্রতীক লাল শাপলা। একসময় চরাঞ্চল সহ বিভিন্ন ইউনিয়নের গ্রামের বিল, পুকুর ও জলাশয়ে প্রচুর লাল শাপলা ফুটতে দেখা গেলেও বর্তমানে কমে যাচ্ছে এ ফুলের বিস্তার। ফলে প্রকৃতির অপরূপ সৌন্দর্যের পাশাপাশি গ্রামীণ ঐতিহ্যও হারানোর আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।

বর্ষা ও শরৎকালে জলাশয়ের বুকে ফুটে থাকা লাল শাপলা প্রকৃতিকে করে তোলে অপরূপ। সবুজ পাতার ফাঁকে লাল শাপলার সৌন্দর্য সহজেই মানুষের মন কাড়ে। গ্রামবাংলার প্রকৃতি ও পরিবেশের সঙ্গে মিশে থাকা এ ফুল একসময় ছিল অতি পরিচিত। কিন্তু বর্তমানে বিভিন্ন কারণে এর প্রাকৃতিক আবাসস্থল সংকুচিত হয়ে পড়ছে।

স্থানীয়দের মতে, জলাশয় ভরাট, অপরিকল্পিত উন্নয়ন ও প্রাকৃতিক পরিবেশের পরিবর্তনের কারণে লাল শাপলার বিস্তার কমে যাচ্ছে। এর ফলে নতুন প্রজন্ম গ্রামবাংলার এই চিরচেনা ফুলের সৌন্দর্য থেকে বঞ্চিত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

লাল শাপলা শুধু প্রকৃতির সৌন্দর্যই বাড়ায় না, এটি গ্রামীণ ঐতিহ্য ও জীববৈচিত্র্যেরও গুরুত্বপূর্ণ অংশ। তাই এ ফুলের অস্তিত্ব টিকিয়ে রাখতে জলাশয় সংরক্ষণ এবং প্রাকৃতিক পরিবেশ রক্ষায় কার্যকর উদ্যোগ নেওয়া প্রয়োজন।

গদাই গ্রামের কৃষক শাহজাহান জানান, আগে জলাশয় থেকে লাল শাপলা তুলে এনে তারা তরকারী হিসেবে ব্যবহার করতেন। শিশুরা মনে আনন্দে লাল শাপলা তুলে আনন্দ করতো। বর্তমানে আর লাল শাপলা দেখা যাচ্ছে না।

টেপামধুপুর ইউপি চেয়ারম্যান রাশেদুল ইসলাম বলেন, সময়ের পরিবর্তনে মানুষের প্রয়োজনে পুকুর, খাল, বিল ও জলাশয় ভরাট করে বাড়িঘর বা স্থাপনা নির্মাণ, মাছের ঘের বানানোর ফলে প্রাকৃতিকভাবে শাপলা জন্মানোর জায়গাও কমে আসছে।

কৃষি কর্মকর্তা মোঃ সালাউদ্দিন জানান, বর্তমানে জলাশয়ে পরিবেশের মারাত্বক ক্ষতিকর জমিতে অতিরিক্ত রাসায়নিক সার ও কীটনাশক ব্যবহারের ফলে বুষ্টির পানিতে তা বিলে মিশে শাপলার বংশবিস্তার নষ্ট হচ্ছে। এছারও অপরিকল্পিতভাবে পানি সেচ ও নিষ্কাশনের কারণে শাপলার স্বাভাবিক জীবনচক্র ব্যাহত হয়।

মৎস্য কর্মকর্তা জানান, কিটনাশক ব্যবহার করায় আগের মতো এখন আর জলাশয়ে শাপলা জন্মায় না। অথচ এই প্রচন্ড গরমে মাছ শাপলার পাতার নিচে আশ্রয় নেয় এবং মাছের খাদ্যসংরক্ষনে সহায়তা করে। এছারও শাপলা মানুষের খাদ্য তালিকায়ও সবজি হিসেবে অন্তর্ভুক্ত হয়েছে। অথচ অযতœ অবহেলায় উপজেলার ইউনিয়গুলোর খালবিল থেকে হারিয়ে যেতে বসেছে শাপলা।

পানি বিশেজ্ঞরা জানান, জলবায়ু পরিবর্তনে অনিয়মিত বৃষ্টিপাত এবং ভূগর্ভস্থ পানির স্তর নিচে নেমে যাওয়া, জমিতে অধিক মাত্রায় কীটনাশক প্রয়োগের ফলে লাল শাপলা হারিয়ে যাচ্ছে। সচেতন মহলের মতে, এখনই প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করা না হলে একসময় কাউনিয়ার জলাশয় থেকে হারিয়ে যেতে পারে গ্রামবাংলার সৌন্দর্যের প্রতীক লাল শাপলা।

Related Posts

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

ENGLISH »