‘‘ একটি স্বপ্নের বাস্তবায়ন’’
মোঃ কামরুল ইসলাম কামু পঞ্চগড় প্রতিনিধি: খুব দ্রুত অপেক্ষার প্রহর শেষ হবে পঞ্চগড়বাসীর। অবশেষে জাতীয় অর্থনেতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটি (একনেকে) অনুমোদন পেলো পঞ্চগড়ে দ্বিতীয় করতোয়া সেতু নির্মাণ প্রকল্প।
স্বাধীনতার পরবর্তী সময় ১৯৮৬ সালে নির্মিত হয়েছিল পঞ্চগড় শহর ঘেঁষে একটি করতোয়া সেতু। তার আগে স্বাধীনতা পরবর্তী বিধ্বস্ত বাংলাদেশের সীমান্ত ঘেঁষা পঞ্চগড় জেলা শহর ঘিরে পারাপারে একমাত্র সেতুটি ছিল লোহায় নির্মিত। সেতুটির দুটি মাথায় লাল- নীল পতাকায় সিগন্যাল দিয়ে পারাপার হতো যান বাহন সহ পথচারীরা।
তৎকালিন পূর্বপাকিস্তান যা বর্তমান বাংলাদেশ সরকারের শাসনামলে তৎকালিন এরশাদ সরকারের সময় অতি প্রয়োজনীয় হয়ে পড়ায় পঞ্চগড় শহরের প্রবেশ দ্বারে একটি সেতু নির্মাণ করা হয়। সেই লোহার সেতুটি অত্যন্ত ঝূঁকিপূর্ণ হওয়ায় সূত্র মতে, ১৯৮৬ সালে জেলা পরিষদ এই সেতুটি নির্মাণ করে।
এরপর পার হয়ে যায় প্রায় চল্লিশটি বছর। সময়ের পরিক্রমায় জনগোিষ্ঠর বাড়ার সাথে সাথে কৃষি উৎপাদন বৃদ্ধির পাশাপাশি বানিজ্যে এক দিগন্তের সূচনা হয়। জেলা শহরটিতে আধুনিকতার তেমন ছোঁয়া না লাগলেও কর্মচাঞ্চল্য হয়ে ওঠে পুরো জেলা।
পাথর বালির জেলা হিসেবে পরিচিত পঞ্চগড় হয়ে ওঠে বিশাল সম্ভবনার জেলা। ১৯৯৭ সালে জেলার তেতুঁলিয়া উপজেলার বাংলাবান্ধাস্থল বন্দরটির উদ্বোধন করা হয়। পরবর্তী সময়ে এটি পূর্নাঙ্গ স্থলবন্দর হিসেবে চালু হয়। সেই সাথে ইমিগ্রেশন সুবিধার আওতায় আসে বাংলাবান্ধা স্থল বন্দর। পাথর বালির জেলায় আরও কর্ম চাঞ্চল্য বেড়ে যায়।
বাংলাবান্ধাস্থল বন্দরটিতে আমদানী-রপ্তানি দফায় দফায় বেড়ে যায়। সদর উপজেলা জুড়ে নূড়ি পাথর এবং বালি উত্তোলন ও কেনাবেচায় একটি বিশাল কর্মযজ্ঞ চলে ভোর হতেই। জনসংখ্যা বৃদ্ধির পাশাপাশি যান চলাচল শতগুণ বেড়ে যায়। গড়ে ওঠে চা বাগান পোল্ট্রি ফার্ম সহ নানা রকমের ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠান। জীবন-জীবিকার তাগিদে মানুষের কর্ম ব্যস্ততায় আসে নজিরবিহীন পরিবর্তন। কৃষি পর্যায়ে নানা শাকসবজি উৎপাদনে বিপ্লব ঘটে পঞ্চগড়ে।
পরবর্তী সময়ে সমতলে চা আবাদ জেলায় অর্থনীতিতে নব দিগন্তের সূচনা ঘটে। তার পথ ধরে ব্যবসায়িক পরিধি আরও বেড়ে যায়। কিন্তু এক সেতুতেই কৃষি সহ সব পন্যের সাথে বাংলাবান্ধাস্থল বন্দরে পন্য অনা নেওয়া চলে। ফলে নীরবে সেতুটিতে ঝূঁকি বেড়ে যায়। বৃষ্টি হলেই সেতুটির অভ্যন্তরে বিটুমিন ও ঢালাই ওঠে গিয়ে খানা-খন্দে পরিনত হয়। এতে কঠিন ঝূঁকিতে চলে যান বাহন সহ সাধারন মানুষ।
এদিকে অন্য সব যানবাহনের সাথে যোগ হয় হাজার হাজার ইজিবাইক সহ ব্যাটারি চালিত রিকসা। ফলে একটি সেতু ধরেই অন্তহীন কষ্টে মানুষকে চলাচল করতে হয়। এতে প্রায় ঘটে সড়ক র্দঘটনা। এছাড়াসামাজিক বা রাজনৈতিক কারণে কখনো কখনো সেতুটির সামনে সড়ক অবরোধ চলে। এতে শহরটির দুপাশে শত শত যান বাহন আটকা পড়ে। অসহায় হয়ে পড়ে মানুষ।
অপরদিকে চা বাগান ও র্পবত মালা কাঞ্চন জঙ্ঘার কারণে বেড়ে যায় পর্যটকদের আনা গোনা। জানা যায়, শীতকালে কাঞ্চন জঙ্ঘা দেখার জন্য প্রায় তিন মাস ধরে প্রতিদিন গড়ে দশ হাজার পর্যটক আসে জেলায়। তার বেশির ভাগ যায় তেতুঁলিয়া।
বাংলাবান্ধাস্থলবন্দর ও ইমিগ্রেশন, চা বাগান, পোল্ট্রি ফার্মের সাথে ব্যবসায়িক ভাবে যোগ হয় পাথর বালির কেনা বেচা। সেই সূত্রে লক্ষ লক্ষ মানুষ পুরাতন করতোয়া সেতুতেই পারাপার হয়। ফলে অচেনায় রুপ নেয় পঞ্চগড় শহর। প্রতিযোগিতা চলে কে কার আগে সেতু পার হবে। এতে মারাতœক বিড়ম্বনা ঘটে শহর জুড়ে।
তারই ফলশ্রতিতে দীর্ঘ দিন ধরে বাইপাস সড়কের দাবী ওঠে। সূত্র জানায়, ১৯৯১ সালে তৎকালিন জাতীয় সংসদের আইন বিষয়ক মন্ত্রী এবং পঞ্চগড়ের কৃত্বি সন্তান মরহুম মির্জা গোলাম হাফিজের সময় একটি প্রস্তবনা আসে বিকল্প আরও একটি করতোয়া নির্মাণের। সেটি আর অজ্ঞাত কারণে ফাইল বন্দি হয়ে হারিয়ে যায়।
প্রায় তিন দশক ধরে বাইপাস সড়ক সহ একটি বিকল্প সেতুর দাবিটি জোড়ালো হয়ে ওঠে জেলা জুড়ে। সেই স্বপ্নের বাস্তবায়ন হতে হতে তা হয়তো পূরণ হতে চলেছে।
বহু প্রত্যাশিত সময় পেরিয়ে তা বাস্তবায়ন হওয়ার পথে। এটি নির্মাণ করবে সড়ক ও জন পথ বিভাগ। ৭ অক্টোবর ২০২৬ এ অনুমোদন পেলো একটি বিকল্প সেতু নির্মাণ প্রকল্প। যা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে।
পঞ্চগড় সড়ক বিভাগ সূত্রে জানা যায়, পঞ্চগড় সদর উপজেলার ধাক্কামারা ইউনিয়নের মীরগড় করতোয়া নদীতে এই ‘দ্বিতীয় করতোয়া’ নির্মাণ করা হবে। এটি জেলার তেতুঁলিয়া উপজেলার ভজনপুর নিজবাড়ি ভায়া ময়নাগুড়ি হয়ে মীরগড় ‘দ্বিতীয় করতোয়া সেতু’ হিসেবে পরিচিতি পাবে।করতোয়া দ্বিতীয় সেতুর ব্যয় নির্ধারণ করা হয়েছে ২০৩ কোটি টাকা। সেতুটির দৈর্ঘ্য ধরাপ হয়েছে ২৪৮ মিটার। এই প্রকল্প অনুমোদন হওয়ায় পঞ্চগড়-১ আসনের সংসদ সদস্য ব্যারিস্টার নওশাদ জমিরকে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে অভিনন্দন জানিয়েছে জেলাবাসি।
সড়ক বিভাগ পঞ্চগড় ’এর নির্বাহী প্রকৌশলী মো. জাকির হোসেন জানান আগামী চার/পাঁচ মাসের মধ্যে দরপত্র আহবান করা হবে। সেতুটির দুপাশে থাকবে এ্যাপ্রোচ সড়ক।
















