• Home
  • জাতীয়
  • কড়া নিরাপত্তায় রূপপুরে পৌঁছাল ইউরেনিয়ামের চালান
Image

কড়া নিরাপত্তায় রূপপুরে পৌঁছাল ইউরেনিয়ামের চালান

কড়া নিরাপত্তার মধ্য দিয়ে পাবনার ঈশ্বরদী উপজেলার পাকশী ইউনিয়নে রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রে পৌঁছেছে ফ্রেশ নিউক্লিয়ার ফুয়েল ইউরেনিয়াম বহনকারী গাড়িবহর। শনিবার (৩ অক্টোবর) দুপুর সাড়ে ১২টা ২১ মিনিটে সেনাবাহিনীর নেতৃত্বে যৌথবাহিনীর বিশেষ নিরাপত্তায় ইউরেনিয়াম বহনকারী তিনটি লরি পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের ভেতরে প্রবেশ করে।

এ সময় প্রকল্পে কর্মরত রাশিয়ান নাগরিকসহ শ্রমিক-কর্মকর্তারা গাড়িবহরকে স্বাগত জানান। এর আগে শনিবার সকাল ৭টা ১৫ মিনিটের দিকে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে সেনাবাহিনীর নেতৃত্বে পুলিশ, এসআরবি, ডগ স্কোয়াড, এপিবিএনের সমন্বয়ে গঠিত যৌথবাহিনীর বহর ইউরেনিয়াম নিয়ে রওনা হয়।

বহরে রাশিয়া থেকে আসা বিশেষজ্ঞ দলও ছিল। ইউরেনিয়াম বহনকারী গাড়িগুলো আসার সময় নিরাপত্তার জন্য বেলা পৌনে ১২টা থেকে সোয়া ১২টা পর্যন্ত পাবনা-নাটোর-পাবনা মহাসড়ক দিয়ে ছোট-বড় যানবাহন চলাচল বন্ধ রাখা হয়েছিল।

তার আগে শুক্রবার (২ অক্টোবর) রাত সাড়ে ১১টার দিকে প্রথম ইউনিটের জ্বালানি বহনকারী বিমানটি হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অবতরণ করে। সেখানে বাংলাদেশ পরমাণু শক্তি নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষের কর্মকর্তারা ইউরেনিয়ামের চালানটি গ্রহণ করেন।

পরিকল্পনা অনুযায়ী, আগামী নভেম্বর-ডিসেম্বরের মধ্যে আরও ৯টি ফ্লাইটে রূপপুরের প্রথম ইউনিটের জন্য অতিরিক্ত ৪৮টি এবং দ্বিতীয় ইউনিটের জন্য ১৬৩টি ইউরেনিয়াম অ্যাসেম্বল দেশে আসবে। রাশিয়া থেকে কাজাখস্তান, তুর্কমেনিস্তান, পাকিস্তান, আফগানিস্তান ও ভারত হয়ে এসব চালান বাংলাদেশে পৌঁছাবে।

পাবনার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ঈশ্বরদী সার্কেল) প্রণব কুমার জানান, ঢাকা থেকে আসা ইউরেনিয়াম বহনকারী গাড়িগুলো যাতে ভালভাবে পৌঁছে যেতে পারে, সেজন্য পাবনা জেলা পুলিশ ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা সড়কে বিশেষ নিরাপত্তাবলয় রেখেছিল। সড়কে যানজটের সৃষ্টি না হয়, বেলা পৌনে ১২টা থেকে সোয়া ১২টা পর্যন্ত পাবনা-নাটোর-কুষ্টিয়া মহাসড়ক দিয়ে ছোট-বড় যানবাহন চলাচল বন্ধ করা হয়। ইউরেনিয়াম পৌঁছানোর পর যানচলাচল স্বাভাবিক হয়েছে।

দেশের ইতিহাসে সবচেয়ে বড় একক প্রকল্প রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র। এই বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণে খরচ হচ্ছে প্রায় ১ লাখ ৩৮ হাজার সাতশ কোটি টাকা। এর মধ্যে সরকার দিচ্ছে ২২ হাজার ৫২ কোটি ৯১ লাখ ২৭ হাজার টাকা। রাশিয়া থেকে ঋণসহায়তা হিসেবে আসছে ৯১ হাজার ৪০ কোটি টাকা।

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, রূপপুরের দ্বিতীয় ইউনিটের জন্য সাতটি এবং প্রথম ইউনিটের রিফুয়েলিংয়ের জন্য দুটি—মোট নয়টি কার্গোতে পারমাণবিক জ্বালানি দেশে আনা হবে। রাশিয়ার রাষ্ট্রীয় পারমাণবিক শক্তি করপোরেশন (রসাটম) জানিয়েছে, ডিসেম্বরের মধ্যেই পুরো জ্বালানি সরবরাহ সম্পন্ন হবে।

রূপপুরের প্রথম ইউনিটে ইতোমধ্যে জ্বালানি লোড করা হয়েছে। তবে প্রায় দেড় বছর পর ওই ইউনিটের ব্যবহৃত জ্বালানির এক-চতুর্থাংশ পরিবর্তন করতে হবে। এ কারণে প্রয়োজনীয় জ্বালানি আগাম আনা হচ্ছে। চুক্তি অনুযায়ী, প্রথম তিন বছর রাশিয়া জ্বালানি সরবরাহ করবে। এরপর নির্ধারিত সময় পরপর জ্বালানি পরিবর্তনের জন্য বাংলাদেশকে তা আমদানি করতে হবে।

রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের দুটি ইউনিটের মোট উৎপাদন সক্ষমতা ২ হাজার ৪০০ মেগাওয়াট। প্রথম ইউনিটে জ্বালানি লোডিং সম্পন্ন হলেও বিভিন্ন জটিলতায় বিদ্যুৎ উৎপাদনের সময়সূচি পিছিয়েছে। চলতি মাসে উৎপাদনে যাওয়ার কথা থাকলেও সেফটি ভালভে ত্রুটি দেখা দেওয়ায় তা সম্ভব হয়নি। বুধবার সেফটি ভালভের মেরামতকাজ সফলভাবে সম্পন্ন হয়েছে বলে এনপিসিবিএলের একজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা নিশ্চিত করেছেন।

তবে বিদ্যুৎ উৎপাদন শুরু করতে আরও কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ পরীক্ষা সম্পন্ন করতে হবে। এসব পরীক্ষা সফল হলে প্রথম ইউনিটে উৎপাদিত বিদ্যুৎ জাতীয় গ্রিডে যুক্ত হবে। একইসঙ্গে দ্বিতীয় ইউনিটের নির্মাণ ও কমিশনিং কার্যক্রমও এগিয়ে চলছে।

২০২৩ সালের ২৯ সেপ্টেম্বর প্রকল্পের প্রথম ইউনিটের ‘ফ্রেশ নিউক্লিয়ার ফুয়েল’ বা ইউরেনিয়ামের প্রথম চালান রূপপুরে পৌঁছে। ঐতিহাসিক এই কমিশনিংয়ের মধ্য দিয়ে ইউরেনিয়াম জ্বালানির যুগে প্রবেশ করে বাংলাদেশ। এতে বিশ্বের ৩৩তম পারমাণবিক শক্তি ব্যবহারকারী দেশের মর্যাদা পায় বাংলাদেশ।

Related Posts

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

ENGLISH »