ব্রোঞ্জের লড়াইয়ে বাংলাদেশের সামনে শ্রীলঙ্কা
‘১৬৯ রান করেই যখন ১২৪ রানের জয় ধরা দেয়, বোঝাই যাচ্ছে কতটা পাগলাটে ম্যাচ’, ম্যাচ শেষে ধারাভাষ্যকার সাঞ্জায় মাঞ্জরেকারের কণ্ঠেই ফুটে উঠল ম্যাচের বাস্তবতা। তবে পাগলাটের চেয়ে বলা যেতে পারে দাপট। ভারতের দাপট। মূল জাতীয় দল নিয়েই খেলছে তারা, শ্রীলঙ্কার খেলছে দ্বিতীয় সারির দল। শক্তি-সামর্থ্যে ব্যবধান তাই ছিল অনেক। ব্যাটে-বলে সেই ব্যবধান বড় নির্মমভাবে বুঝিয়ে দিল গত দুইবিশ্বকাপের চ্যাম্পিয়নরা।
এশিয়া গেমস ক্রিকেটের সেমি-ফাইনালে শ্রীলঙ্কাকে গুঁড়িয়ে সোনার পদকের লড়াইয়ে জায়গা করে নিল ভারত। সেখানে আগে থেকেই চিরপ্রতিদ্বন্দ্বিদের অপেক্ষায় পাকিস্তান।
জাপানের আইচির নিশিনে বৃহস্পতিবার ভারত ২০ ওভারে তোলে ১৬৯ রান। ব্যাটিংয়ের জন্য ভীষণ দুরূহ উইকেটে ৪৬ বলে ৮০ রানের অসাধারণ অপরাজিত ইনিংস খেলেন ইশান কিষান।
রান তাড়ায় স্রেফ শ্রীলঙ্কার ব্যাটিং ধসে পড়ে শুরু থেকেই। ৯.৫ ওভারে ৪৫ রানেই বিধ্বস্ত হয় তাদের ইনিংস।টি-টোয়েন্টিতে অনায়াসেই শ্রীলঙ্কার সর্বনিম্ন দলীয় সংগ্রহ এটি। আগের সর্বনিম্ন ছিল ৭৭। এত কম ওভারেও আগে কখনও গুটিয়ে যায়নি তারা।
বাংলাদেশ-পাকিস্তান ম্যাচের উইকেটেই হয় এই ম্যাচটি। টস হেরে ব্যাটিংয়ে নামে ভারত। আভিশেক শার্মা বিদায় নেন একটি ছক্কা মেরে, তিনে নেমে সাঞ্জু স্যামসনও টিকতে পারেননি। তার পরও পাওয়ার প্লেতে দল ভালো রান করতে পারে মূলত বৈভাব সুরিয়াভানশির সৌজন্যে।
উইকেটে টার্ন ছিল শুরু থেকেই। বল কোনোটি লাফিয়েছে বিপজ্জনকভাবে, কোনোটি হয়েছে নিচু। এর মধ্যেও দুর্দান্ত কিছু শটে ৬ চার ও ২ ছক্কায় ২১ বরে ৩৮ রান করেন ১৫ বছর বয়স ব্যাটসম্যান।
ভারতের ইনিংসের বাকি পুরোটুকু বলা যায় কিষানের গল্প। লম্বা সময় সঙ্গী পান কাউকে, কোনো জুটি ছাড়ায়নি ৩৫ রান। কিন্তু এক প্রান্তে দারুণ খেলে দলকে এমন স্কোরে নিযে যান তিনি, এই উইকেটে যা বড় রান।
রান তাড়ায় প্রথম ওভার থেকেই মুখ থুবড়ে পড়ে শ্রীলঙ্কা। জাসপ্রিত বুমরাহ প্রথম ওভারেই উইকেট নেন দুটি। এরপর আর একজন ব্যাটসম্যানও দাঁড়াতে পারেননি।
চারে নেমে দুই ছক্কায় ১৫ রান করেন নিয়ানিদু ফার্নান্দো। আর কোনো ব্যাটার দুঅঙ্ক স্পর্শ করতে পারেননি। রান আউট হন তিনজন লঙ্কান ব্যাটসম্যান। ১০ ওভারের আগেই শেষ ইনিংস্। ব্রোঞ্জের লড়াইয়ে শনিবার লঙ্কানরা লড়বে বাংলাদেশের বিপক্ষে। সেদিনই ফাইনালে খেলবে ভারত ও পাকিস্তান।
সংক্ষিপ্ত স্কোর:
ভারত: ২০ ওভারে ১৬৯/৭ (সুরিয়াভানশি ৩৮, আভিষেক ৭, স্যামসন ৭, শ্রেয়াস ১৩, কিষান ৮০*, আকসার ৮, তিলাক ২, দুবে ৩, ওয়াশিংটন ৭*; রাত্নায়েকে ৪-০-৩২-২, আরাচ্চিগে ৪-০-২৮-২, বিনুরা ৩-০-৩৭-০, সাহান ২-০-১৭-১, ভিয়াসকান্থ ১-০-৯-০, ক্রুসপুলে ৪-০-২৫-১, নুয়ানিদু ২-০-২০-১)।
শ্রীলঙ্কা: ৯.৫ ওভারে ৪৫ (সিনেথ ০, ক্রুসপুলে ০, সোহান ০, নুয়ানিদু ১৫, আরাচ্চিগে ৯, বান্দারা ০, কারুনারাত্নে ৪, সাহান ১, রাত্নায়েকে ৫, ভিয়াসকান্থ ০*, বিনুরা ০; বুমরাহ ২-০৭-২, আকসার ৩-১-৮-২, ওয়াশিংটন ৩-১-১৮-১, বিষ্ণই ১-০-৪-০, আভিশেক ০.৫-০-২-২)।


















