• Home
  • দেশ
  • কাশফুলের শুভ্রতায় বদলে গেছে কাউনিয়ায় তিস্তার চর, মুগ্ধ প্রকৃতিপ্রেমীরা
Image

কাশফুলের শুভ্রতায় বদলে গেছে কাউনিয়ায় তিস্তার চর, মুগ্ধ প্রকৃতিপ্রেমীরা

সারওয়ার আলম মুকুল, কাউনিয়া (রংপুর) পপ্রতিনিধি ঃ শরৎ এলেই প্রকৃতি যেন নতুন সাজে সেজে ওঠে। নীল আকাশে সাদা মেঘের ভেলা, হালকা দক্ষিণা বাতাস আর তিস্তা নদীর চরজুড়ে ফুটে থাকা সাদা কাশফুল জানান দিচ্ছে শরতের আগমনী বার্তা। রংপুরের কাউনিয়ায় তিস্তা নদীর চর ও দুই পাড়ে এখন কাশফুলের শুভ্রতায় তৈরি হয়েছে অপরূপ নৈসর্গিক সৌন্দর্য।

সরেজমিনে কাউনিয়া উপজেলার পাঞ্জরভাঙ্গা ও পূর্ব নিজপাড়া গ্রামে তিস্তা নদীর পাড়ে গিয়ে দেখা গেছে, নদীর চর ও দুই পাড়জুড়ে ফুটেছে সাদা কাশফুল। নদীতে বয়ে চলা নৌকা, নীল আকাশ, সাদা মেঘ আর বাতাসে দুলতে থাকা কাশফুল মিলেমিশে তৈরি করেছে মনোমুগ্ধকর পরিবেশ।

নিজপাড়া গ্রামের গোপাল চন্দ্র জানান, তাদের ধর্মীয় মতে কাশফুল জানান দেয় দেবী দূর্গার আগমনী বার্তা। কাশফুলের সাদা শুভ্রতায় যখন ভরে উঠে তখন মা দূর্গা তার চার সন্তান নিয়ে মর্তে আগমন করেন।

পাঞ্জরভাঙ্গা গ্রামের সাইদুল জানান, তিস্তা ও মানাস নদীসহ বিভিন্ন খাল ও জলাশয়ের পাড়ে দেখা মিলছে কাশফুলের। আর এই কাশফুলের সৌন্দের্য প্রকৃতিপ্রেমীরা কেউ নৌকা যোগে আবার কেউ মটর সাইকেলে আবার কেউবা পায়ে হেটে কশবনে সকাল থেকে সন্ধা পর্যন্ত সময় কাটাচ্ছেন।

দূর থেকে নদী ও চরাঞ্চলের কাশবনকে মনে হচ্ছে পপ্রকৃতি যেন শুভ্র চাদর বিছিয়ে দিয়েছে। মৃদু বাতাসে কাশফুলের দোল খাওয়া দৃশ্য পথচারী ও প্রকৃতিপ্রেমীদের সহজেই আকৃষ্ট করছে।

কাশফুলের সঙ্গে আমন ধানের সবুজ ক্ষেত, নীল আকাশ আর তিস্তার জলরাশি মিলে কাউনিয়ার প্রকৃতিতে যোগ হয়েছে ভিন্নমাত্রার সৌন্দর্য। এই নয়নাভিরাম দৃশ্য উপভোগ করতে অনেকেই ছুটে যাচ্ছেন নদীর পাড়ের কাশবনে। কেউ কেউ প্রিয়জনদের সঙ্গে ঘুরে বেড়ানোর পাশাপাশি স্মৃতি ধরে রাখতে তুলছেন ছবি।

স্থানীয়দের ভাষ্য, প্রতিবছর শরৎ মৌসুমে তিস্তা ও মানাস নদী, খাল এবং জলাশয়ের পাড়ে কাশফুল ফুটলেও এবারও এর সৌন্দর্য মানুষের নজর কেড়েছে। প্রকৃতিপ্রেমী আব্দুস ছালাম বলেন, “শরতের কাশফুল বাংলার চিরচেনা সৌন্দর্যের অন্যতম পপ্রতীক। কাশফুল ফুটলে প্রকৃতিতে এক অন্যরকম আবহ তৈরি হয়।”

কাশফুলের সৌন্দর্য দেখতে আসা শিউলি বলেন, “কাউনিয়ার নদী, খাল ও জলাশয়ের পাড়ে ফুটে থাকা কাশফুলে রূপসী বাংলার সৌন্দর্য যেন নবরূপে আবির্ভৃত হয়েছে। বাতাসে দুলতে থাকা সাদা কাশফুল প্রকৃতিপ্রেমীদের মনে নির্মল আনন্দ ও মুগ্ধতা জাগায়।”

উপজেলার বালাপাড়া ইউনিয়নের হরিশ্বর গ্রামের ব্যাংকার নুর আমিন বলেন, “শরৎকালে মানাস ও তিস্তা নদীর দুই পাড় এবং চরাঞ্চল অপরূপ কাশবনে পরিণত হয়। এই সৌন্দর্য দেখতে প্রকৃতিপ্রেমীরা ছুটে আসেন। আমিও বিকেলে অবসর সময়ে হাঁটতে হাঁটতে কাশবনের দিকে যাই এবং সেখানে সময় কাটাই।”

উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মোঃ সালাহউদ্দিন বলেন, “কাশফুলের আদি নিবাস রোমানিয়ায়। এ উদ্ভিদটি সাধারণত তিন মিটার পর্যন্ত লম্বা হয়। নদীর ধার, চরাঞ্চল ও গপ্রামের উঁচু জায়গায় কাশের ঝাড় বেড়ে ওঠে। শরৎ এলেই এর সুন্দর রূপটি পপ্রকাশ পায়।”
তিস্তার বুকে নৌকা, চরজুড়ে সাদা কাশফুল, পাশে সবুজ আমন ধান আর মাথার ওপর নীল আকাশ—সব মিলিয়ে কাউনিয়ায় এখন পপ্রকৃতি যেন নিজের হাতেই এঁকেছে এক মনোমুগ্ধকর ছবি। শরতের এই শুভ্র সৌন্দর্য দেখতে প্রতিদিনই ভিড় করছেন প্রকৃতিপ্রেমীরা।

Related Posts

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

ENGLISH »