• Home
  • আন্তর্জাতিক
  • ইরানে যুক্তরাষ্ট্রের হামলা, জর্ডান-বাহরাইনে মার্কিন ঘাঁটিতে পাল্টা আঘাত
Image

ইরানে যুক্তরাষ্ট্রের হামলা, জর্ডান-বাহরাইনে মার্কিন ঘাঁটিতে পাল্টা আঘাত

যুক্তরাষ্ট্রের হামলার জবাবে জর্ডান, ইরাক, কুয়েত ও বাহরাইনে থাকা মার্কিন সামরিক স্থাপনা লক্ষ্য করে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালানোর দাবি করেছে ইরান। মঙ্গলবার রাতে এসব হামলা চালানো হয় বলে জানিয়েছে দেশটির ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কোর (আইআরজিসি)।

আইআরজিসির দাবি, জর্ডানের প্রিন্স হাসান বিমানঘাঁটিতে দীর্ঘপাল্লার আরকিউ-৪ ও এমকিউ-৯ ড্রোন রাখা হ্যাঙ্গার লক্ষ্য করে একটি ভারী ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করা হয়। হামলায় কয়েকটি ড্রোন ধ্বংস এবং মার্কিন ফ্লাইট ও কারিগরি বিভাগের কয়েকজন সদস্য নিহত হয়েছেন বলেও দাবি করেছে তারা।ঘাঁটির কয়েকটি কারিগরি স্থাপনাতেও আগুন লাগার কথা জানিয়েছে আইআরজিসি।

তবে ইরানের এসব দাবি প্রত্যাখ্যান করেছে যুক্তরাষ্ট্র ও জর্ডান। তারা জানিয়েছে, হামলায় কোনো হতাহত বা উল্লেখযোগ্য ক্ষয়ক্ষতি হয়নি।এর আগে জর্ডানের ক্যাম্প তিতিনে মার্কিন মেরিন সেনাদের ব্যারাক লক্ষ্য করে ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র হামলার দাবি করেছিল আইআরজিসি। ইরানি বাহিনীর ভাষ্য, ওই হামলায় বেশ কয়েকজন মার্কিন সেনা নিহত এবং ক্যাম্পটির কয়েকটি স্থাপনা ও অ্যাটাক হেলিকপ্টার ধ্বংস হয়েছে।

আইআরজিসি জানিয়েছে, হরমোজগান প্রদেশের সিরিকে একটি বিয়ের অনুষ্ঠানে যুক্তরাষ্ট্রের হামলার প্রতিক্রিয়ায় এসব পাল্টা হামলা চালানো হয়েছে। ইরানের দাবি, ওই হামলায় এক শিশুসহ চারজন নিহত এবং কয়েকজন গুরুতর আহত হন।

জর্ডানের সামরিক বাহিনী জানিয়েছে, ইরান থেকে ছোড়া ১৩টি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র তাদের আকাশসীমায় প্রবেশ করে। এর মধ্যে ১০টি ক্ষেপণাস্ত্র আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা দিয়ে ধ্বংস করা হয়। বাকি তিনটি জনবসতি থেকে দূরের প্রত্যন্ত এলাকায় পড়লেও এতে কোনো হতাহত হয়নি।

এদিকে আল-জাজিরাকে দেওয়া এক মার্কিন সূত্রের বক্তব্য অনুযায়ী, ক্যাম্প তিতিনে মার্কিন সেনাদের ব্যারাকে ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় কোনো প্রাণহানি বা বড় ধরনের ক্ষয়ক্ষতি হয়নি। মার্কিন বাহিনী হামলাটি প্রতিহত করেছে বলেও দাবি করা হয়েছে।

উত্তর ইরাকের এরবিল প্রদেশে মার্কিন স্থাপনা লক্ষ্য করেও ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলার কথা জানিয়েছে আইআরজিসি। তাদের দাবি, হামলায় একটি মেরামত কেন্দ্র, কারিগরি সরঞ্জামের গুদাম এবং মার্কিন নজরদারি বেলুনের একটি গাইডেন্স ব্যবস্থা ক্ষতিগ্রস্ত বা ধ্বংস হয়েছে। ঘাঁটির জ্বালানি ট্যাংকে আগুন ধরে এবং কয়েকজন মার্কিন সেনা নিহত হয়েছেন বলেও দাবি করেছে ইরানি বাহিনী।

অন্যদিকে কুয়েতের সামরিক বাহিনী জানিয়েছে, তাদের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ‘শত্রু ড্রোন’ প্রতিহত করেছে। কুয়েতের সশস্ত্র বাহিনীর জেনারেল স্টাফ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে জানায়, দেশটিতে শোনা বিস্ফোরণের শব্দ আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা দিয়ে ড্রোন ভূপাতিত করার কারণে হয়েছে।

বাহরাইনেও মার্কিন সামরিক অবস্থান লক্ষ্য করে ড্রোন হামলার দাবি করেছে ইরান। বার্তা সংস্থা তাসনিম জানিয়েছে, বাহরাইনের শেখ ঈসা বিমানঘাঁটিতে মার্কিন সেনাদের অবস্থান এবং রাডার স্থাপনা লক্ষ্য করে একাধিক ড্রোন ছোড়া হয়। ইরানের সেনাবাহিনীর ভাষ্য, ‘অপারেশন থান্ডার’-এর ২৯তম ধাপের অংশ হিসেবে এই হামলা চালানো হয়েছে।

এর আগে মঙ্গলবার দক্ষিণ ইরানের বিভিন্ন এলাকায় বিমান হামলা চালায় যুক্তরাষ্ট্র। ফার্স ও আল-জাজিরার প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বন্দর আব্বাস, কেশম দ্বীপ, কোনারাক, চাবাহার, জাস্ক, সিরিক, লাভান, আসলুয়েহসহ দক্ষিণ ইরানের বিভিন্ন এলাকায় হামলা হয়েছে। দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলীয় আহভাজ প্রদেশেও হামলার খবর পাওয়া গেছে।

গত জুলাইয়ের পর রোববার রাতে প্রথমবারের মতো যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে সরাসরি পাল্টাপাল্টি হামলার ঘটনা ঘটে। এরপর মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানকে আরও কঠোর হামলার হুমকি দেন। মঙ্গলবারের মার্কিন হামলার পর ইরানের এই পাল্টা হামলার দাবি সামনে এলো।

ট্রাম্প সতর্ক করে বলেছেন, ইরান যুক্তরাষ্ট্রের হামলার জবাবে পাল্টা আঘাত চালালে তেহরানের বিরুদ্ধে আরও কঠোর সামরিক পদক্ষেপ নেওয়া হবে।

Related Posts

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

ENGLISH »