ভাসমান একটি এলএনজি টার্মিনালে নতুন কার্গো না আসায় আমদানি করা গ্যাসের সরবরাহ আবার কমেছে।সোমবার রাত ৮টায় দুই টার্মিনাল থেকে জাতীয় গ্রিডে ৬৬ কোটি ৬০ লাখ ঘনফুট গ্যাস সরবরাহ হচ্ছিল।
পেট্রোবাংলার ১৫-১৬ আগস্টের ২৪ ঘণ্টার প্রতিবেদনে পুনঃরূপান্তরিত এলএনজি বা আরএলএনজি সরবরাহ দেখানো হয় ৮০ কোটি ৩৮ লাখ ঘনফুট। সেই হিসাবে সোমবার রাতে সরবরাহ কমেছে ১৩ কোটি ৭৮ লাখ ঘনফুট বা ১৭ দশমিক ১ শতাংশ। এ সময় দেশীয় ক্ষেত্রগুলোর উৎপাদন প্রায় অপরিবর্তিত ছিল।
১৫-১৬ আগস্টের প্রতিবেদনে দেশীয় উৎপাদন ছিল ১৬১ কোটি ৪৪ লাখ ঘনফুট। সোমবার রাতে তা ছিল প্রায় ১৬১ কোটি ৫০ লাখ ঘনফুট। ফলে সোমবার রাতের মোট গ্যাস সরবরাহ দাঁড়ায় প্রায় ২২৮ কোটি ১০ লাখ ঘনফুট। সেই তুলনায় মোট সরবরাহ কমেছে ১৩ কোটি ৭২ লাখ ঘনফুট বা ৫ দশমিক ৭ শতাংশ। পেট্রোবাংলার উপমহাব্যবস্থাপক (জনসংযোগ) তারিকুল ইসলাম খান গ্যাস উৎপাদন ও সরবরাহের এসব তথ্য জানিয়েছেন।
দেশে দৈনিক গ্যাসের চাহিদা প্রায় ৩৮০ কোটি ঘনফুট। সেই হিসাবে সোমবার রাতে চাহিদার প্রায় ৬০ শতাংশ সরবরাহ করা গেছে। ঘাটতি ছিল প্রায় ১৫ কোটি ২০ লাখ ঘনফুট।দুই টার্মিনালের বর্তমান সম্মিলিত সরবরাহ সক্ষমতা দৈনিক ১১০ কোটি ঘনফুট। সোমবার রাতের সরবরাহ ছিল সেই সক্ষমতার ৬০ দশমিক ৫ শতাংশ।
কক্সবাজারের মহেশখালীতে থাকা দুটি ভাসমান টার্মিনালের একটি এক্সিলারেট এনার্জির মহেশখালী ফ্লোটিং এলএনজি। অন্যটি সামিট এলএনজি টার্মিনাল কোম্পানির।সামিটের টার্মিনালে থাকা এফএসআরইউটি এক্সিলারেটের। এটি পরিচালনাও করে কোম্পানিটি।
গত ২১ জুলাই আগুনে এক্সিলারেটের টার্মিনালের উচ্চক্ষমতার বৈদ্যুতিক কেবল ক্ষতিগ্রস্ত হলে জাতীয় গ্রিডে প্রায় ৪৫ কোটি ঘনফুট গ্যাস সরবরাহ বন্ধ হয়ে যায়। দুই সপ্তাহের বেশি সময় পর ৬ আগস্ট টার্মিনালটি আংশিক চালু হয়।
এর মধ্যে ১৩ আগস্ট বন্ধ হয় সামিটের টার্মিনাল। এলএনজিবাহী জাহাজ ভিড়তে না পারায় এ পরিস্থিতি তৈরি হয়। পরদিন সামিট আবার সরবরাহ শুরু করলেও বন্ধ হয়ে যায় এক্সিলারেটের টার্মিনাল। পরে সেদিন রাতে সেখান থেকে সরবরাহ শুরু হয়।এলএনজি টার্মিনাল-সংশ্লিষ্ট একজন কর্মকর্তা গণমাধ্যমকে বলেন, একটি টার্মিনালে নতুন কার্গো আসেনি। পরের কার্গোও তখন পর্যন্ত ‘নমিনেটেড’ ছিল না। সেটি কবে আসবে, সে বিষয়েও নিশ্চিত সময় জানাতে পারেননি তিনি।
চাহিদার ৩৭ শতাংশ গ্যাস পেয়েছে বিদ্যুৎকেন্দ্র
পেট্রোবাংলার ১৫-১৬ আগস্টের প্রতিবেদনে বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলোর গ্যাসের চাহিদা দেখানো হয়েছে ২৫২ কোটি ৪৯ লাখ ঘনফুট। বিপরীতে সরবরাহ হয়েছে ৯৩ কোটি ৪৩ লাখ ঘনফুট, যা চাহিদার ৩৭ শতাংশ। ঘাটতি ছিল ১৫৯ কোটি ৬ লাখ ঘনফুট।এলাকাভেদে পরিস্থিতি ছিল আরও খারাপ। কর্ণফুলী গ্যাস কোম্পানির এলাকায় ১৮ কোটি ৫০ লাখ ঘনফুট চাহিদার বিপরীতে সরবরাহ হয়েছে মাত্র ১০ লাখ ঘনফুট।
তিতাসের এলাকায় চাহিদার ২৬ শতাংশ এবং সুন্দরবনের এলাকায় ১৮ দশমিক ৫ শতাংশ সরবরাহ হয়েছে। সার কারখানাগুলো পেয়েছে চাহিদার ৪৩ দশমিক ৪ শতাংশ গ্যাস। জাতীয় লোড ডিসপ্যাচ সেন্টার বা এনএলডিসির হিসাবে ওই দিন বিদ্যুৎকেন্দ্রে গ্যাস সরবরাহ ছিল ৯৩ কোটি ৮০ লাখ ঘনফুটের মতো।
এনএলডিসির ১৬ আগস্টের প্রতিবেদনে ২৩টি বিদ্যুৎকেন্দ্র বা ইউনিটে সরাসরি গ্যাস সংকটের কথা বলা হয়েছে। আরও দুটিতে গ্যাসের চাপ কম থাকা ও নিয়ন্ত্রণকেন্দ্রের সমস্যার তথ্য রয়েছে।এসবের মধ্যে ১৩টি কেন্দ্র বা ইউনিট থেকে সারা দিনে কোনো বিদ্যুৎ উৎপাদন হয়নি। এগুলোর বর্তমান উৎপাদন সক্ষমতা ৩ হাজার ১৫০ দশমিক ২২ মেগাওয়াট।
তালিকায় ঘোড়াশাল, মেঘনাঘাট, চট্টগ্রাম, শিকলবাহা, ভেড়ামারা, বাঘাবাড়ী ও সিরাজগঞ্জের বিভিন্ন ইউনিট রয়েছে। আরও ৩৩টি কেন্দ্র বা ইউনিটে তরল জ্বালানি এবং একটিতে কয়লার সংকটের কথা বলা হয়েছে।রোববার দেশে প্রায় ৩৬ কোটি ২৬ লাখ ইউনিট বিদ্যুৎ উৎপাদন হয়েছে। এর ৩৪ দশমিক ৪ শতাংশ এসেছে গ্যাস থেকে। কয়লা থেকে এসেছে ৩৪ দশমিক ৬ শতাংশ, ফার্নেস অয়েল থেকে ১৪ দশমিক ৪ শতাংশ এবং আমদানি থেকে ১৩ দশমিক ৮ শতাংশ।
মোট উৎপাদন ব্যয় হয়েছে প্রায় ২৬৫ কোটি ১০ লাখ টাকা। ফার্নেস অয়েল থেকে প্রায় ৫ কোটি ২২ লাখ ইউনিট বিদ্যুৎ উৎপাদনে ব্যয় হয়েছে ৯৭ কোটি ৩৯ লাখ টাকা। এটি মোট ব্যয়ের ৩৬ দশমিক ৭ শতাংশ।অন্যদিকে গ্যাস থেকে প্রায় ১২ কোটি ৪৮ লাখ ইউনিট উৎপাদনে ব্যয় হয়েছে ৪৪ কোটি ৭২ লাখ টাকা। এটি মোট ব্যয়ের ১৬ দশমিক ৯ শতাংশ।
ফার্নেস অয়েলভিত্তিক বিদ্যুতের উৎপাদন ব্যয় ছিল ইউনিটপ্রতি ১৮ টাকা ৬৪ পয়সা। গ্যাসভিত্তিক বিদ্যুতের ব্যয় ছিল ৩ টাকা ৫৮ পয়সা। অর্থাৎ ফার্নেস অয়েলের বিদ্যুৎ গ্যাসের তুলনায় প্রায় ৫ দশমিক ২ গুণ ব্যয়বহুল। সব উৎস মিলিয়ে ইউনিটপ্রতি গড় উৎপাদন ব্যয় ছিল ৭ টাকা ৩১ পয়সা।রোববার ২৪ ঘণ্টার কোনো সময়েই লোডশেডিং শূন্যে নামেনি। সর্বনিম্ন লোডশেডিং ছিল বিকাল ৫টায়; ৩৬৫ মেগাওয়াট। সর্বোচ্চ ছিল রাত ১২টায়; ১ হাজার ৬১৫ মেগাওয়াট।ঘণ্টাপ্রতি গড়ে প্রায় ৭৫৫ মেগাওয়াট চাহিদা পূরণ করা যায়নি।

















