প্রশাসন দর্শকের ভূমিকায়
সারওয়ার আলম মুকুল, কাউনিয়া (রংপুর) প্রতিনিধি ঃ উত্তরাঞ্চলের বৃহৎ তিস্তা রেল সেতু ও সড়ক সেতুর মধ্যবর্তী স্থানে নদী রক্ষা বাঁধে ভয়াবহ ধস দেখা দিয়েছে। কয়েকদিনের টানা বৃষ্টি ও উজানের ঢলে তিস্তা নদীর তীব্র স্রোতের ফলে বাঁধের মাটি সরে গিয়ে সৃষ্টি হয়েছে গভীর গর্তের। একই সঙ্গে বাঁধ রক্ষায় ব্যবহৃত কংক্রিটের বøক ও সিসি বøক ধসে ছড়িয়ে-ছিটিয়ে রয়েছে। ফলে বাঁধের ওই অংশে নতুন করে ভাঙন দেখা দেওয়ায় তীব্র আতঙ্কে দিন কাটাচ্ছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। ভয়াবহ ভাঙ্গন সৃষ্টি হলেও প্রশাসন রয়েছেন দর্শকের ভূমিকায়।
সরেজমিনে তিস্তা রেল ও সড়ক সেতু এলাকায় গিয়ে দেখা গেছে, নি¤œমানের কাঝ করায় নদীর ¯্রােতের তোড়ে বাঁধের মাটি ক্রমেই সরে যাচ্ছে এবং বিভিন্ন স্থানে বড় বড় গর্তের সৃষ্টি হয়েছে। বাঁধের সুরক্ষায় স্থাপন করা সিসি বøকের বড় একটি অংশ ধসে পড়ায় পরিস্থিতি ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়েছে। ভাঙন এভাবে চলতে থাকলে যেকোনো সময় তা বিস্তৃত হয়ে আরও বড় বিপর্যয় ঘটাতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
সেতুপাড়ের গ্রাম পাঞ্জরভাঙ্গার বাসিন্দা আঃ কাদের জানান, সেতু নির্মানের সময় বাঁধের কোন ক্ষতি হলে বেশ কিছু কংক্রিটের বেøাক অতিরিক্ত রাখা হয়েছে, কিন্তু দুঃখ জনক হলেও সত্য যে সেই বেøাক গুলো দিয়ে অনেকেই বাড়ির মেঝে আবার কেউ বা পিড়ালি তৈরী করে ব্যবহার করছেন। এ বিষয়ে প্রশাসনের কোন নজরদারী নেই। বর্তমানে যে ভাঙ্গন দেখা দিয়েছে তা এখনই কার্যকর ব্যবস্থা না নিলে নদীর পানি বাড়া কমার সাথে সাথে ভাঙন আরও ছড়িয়ে পড়বে।” আরেক বাসিন্দা জহুরুল ক্ষোভ ও উদ্বেগ প্রকাশ করে জানান, বাঁধ ভেঙে গেলে আশপাশের ঘর-বাড়ি, কৃষিজমি ও বিপুল সম্পদ নদীর পেটে চলে যাবে। দ্রæত এই ক্ষতিগ্রস্ত অংশটি স্থায়ীভাবে মেরামতের দাবি জানান তিনি।
খবর পেয়ে ইতোমধ্যেই ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন লালমনিরহাট সড়ক বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী দেবাশীষ সাহা। উদ্ভ‚ত পরিস্থিতি নিয়ে তিনি বলেন, “আমি ইতোমধ্যেই ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছি। জরুরি ভিত্তিতে এই ভাঙন রোধ করা যায়, সে বিষয়ে কাজ চলমান রয়েছে।” ক্ষতিগ্রস্ত বাঁধটি দ্রæত ও স্থায়ীভাবে সুরক্ষিত করার জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে জোর দাবি জানিয়েছেন নদীপাড়ের মানুষ।
















